rockland bd

অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত আকোইন ভাটপাড়া, দর্শনার্থীদের ভীড়

0

অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত আকোইন ভাটপাড়া

জেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুর
শুক্রবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:
শীত এলেই যেন প্রাণ ফিরে পায় আকোইনভাটপাড়া গ্রাম। দূর-দুরন্ত থেকে ছুটে আসা অতিথি পাখির বিচরনে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো গ্রামটি। অতিথি পাখি দেখতে ভিড় করে পাখি প্রেমীসহ সব বয়সের দর্শনার্থীরা। তাই অতিথি পাখি নিধন রোধ এবং অতিথি পাখিদের বিচরণের জন্য অভয়ারন্যের সৃষ্টি করার দাবী এলাকাবাসীর। কিন্তু নির্বাক বনবিভাগ।
ফরিদপুর শহর থেকে ১০কি. মিটার দুরে কৈজুরী ইউনিয়নের আকোইনভাটপাড়া গ্রামে কয়েক বছর ধরে শীতে শুরুতেই অতিথি পাখির আগম ঘটে। অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে আকোইনভাটপাড়া গ্রাম। পাখির ডাকে ঘুম ভাঙ্গে ঐ গ্রামের মানুষের।
শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে শীতের শুরুতেই উত্তরের শীতপ্রধান দেশ সাইবেরিয়া, চীন, মঙ্গোলিয়া ও নেপাল থেকে নাতি শীতোষ্ণ অঞ্চল বাংলাদেশে চলে আসে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখিরা। অতিথি পাখিরা অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের প্রথম দিকে আসে। আর শীত চলে গেলে পাখিরা তাদের নিজ গন্তব্যে ফিরে যায়।
পৃথিবীতে এমন কোন প্রাণী নেই যার কোন গুরুত্ব নেই, তেমনি পাখিও প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাণী। পাখি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না এরা অন্যান্য প্রানীর উপকারেও আসে। প্রকৃতির বনায়ন সৃষ্টিতে পাখি পৃথিবীর ঊষালগ্ন থেকে কাজ করে যাচ্ছে। প্রকৃতি বান্ধব এইসব পাখি শুধু নিজেরা বাঁচতে আসে না। এরা জলজ পোকা, ইদুর, কখনো কখনো ধানের পোকা খেয়ে কৃষকের উপকার করে থাকে।
পাখি মানুষের পরমবন্ধু। পাখির ডাকে ভোর হয় আবার পাখির কলকাকলিতে পৃথিবীর বুকে সন্ধ্যা নামে। আর সে জন্যই অতিথি পাখিদের বিচরনের জন্য অভয়ারন্যের সৃষ্টি করা জরুরী প্রয়োজন।
এলাকাবাসী বলেন, পাখির ডাকে আমাদের ঘুম ভাঙ্গে। পাখির কারণেই এই গ্রামের পরিচিতে পেয়েছে। অতিথি পাখি পরিবেশের ভারসম্য রক্ষা করে। আমরা চাই বন বিভাগ অতিথি পাখি বসবাসের জন্য নিরাপদ অভয়অরণ্য সৃষ্টি করবে।
অতিথি পাখি দেখতে আশা প্রকৃতি খন্দকার বলেন, শীত প্রধান দেশ থেকে আশা আতিথি পাখির অবাদ বিচরনের ব্যবস্থা করা হলে দিন দিন আমাদের দেশে অতিথি পাখির সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। অতিথি পাখি যাতে অবাধে বিচরন করতে পারে সে দিকে বনবিভাগের কেয়ার রাখা উচিত।
ফরিদপুর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. এনামুল হক ভূঁইয়া বলেন, আকোইনভাটপাড়ায় অতিথি পাখির সমাগম হয়েছে। ঐ এলাকায় পাখির পর্যাপ্ত খাবারও রয়েছে। পাখি গুলোকে যাতে জনগন ডিস্টাব না করে, সে জন্য ঐ এলাকার জনগনকে সচেতন করেছি। আমরা ইতিমধ্যেই সাইনবোর্ড স্থাপন করেছি সতর্কি করণ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে। যাতে পাখি গুলোকে কেউ ডিস্টাব না করে। তাছাড়া ঐ এলাকায় নিয়মিত টহল এর ও ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমাদের তথপরতা অব্যহত থাকবে।
শীত থেকে বাঁচতে হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে আসা অতিথি পাখিদের বিরক্ত না করতে দর্শনার্থীদের প্রতি আহবান জানিয়েছে ফরিদপুরবাসী।

কে এম রুবেল/আর এইচ

Comments are closed.