rockland bd

টিআইবি বিএনপি-জামায়াতের পক্ষে প্রতিবেদন দিয়েছে: তথ্যমন্ত্রী

0

হাছান মাহমুদ

ডেস্ক প্রতিবেদন
বুধবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:
বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।
আজ (বুধবার) চট্টগ্রামে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “নির্বাচন নিয়ে যে বক্তব্য-গবেষণার কথা বলে টিআইবি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতে আর বিএনপির বক্তব্যের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। প্রকৃতপক্ষে বিএনপি-জামায়াতের পক্ষে টিআইবি একটি প্রতিবেদন দিয়েছে মাত্র। অন্য কোনো কিছু নয়।”
গত মঙ্গলবার টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪৭টি আসনের প্রতিটিতে এক বা একাধিক ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৪১ আসনে পড়েছে জাল ভোট। আর ৩৩ আসনে আগের রাতে ব্যালটে সিল মারা হয়েছে। ২৯৯ আসনের মধ্যে দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে ৫০টি আসনে গবেষণা করে, এমন তথ্য দেয় টিআইবি। সে অনুযায়ী ৯৪ শতাংশ আসনে নির্বাচনি অনিয়ম হয়েছে। জাল ভোট পড়েছে ৮২ শতাংশ আসনে। নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট বাক্সে সিল মারা হয়েছে ৬৬ শতাংশ আসনে।
এ প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে হাছান মাহমুদ বলেন, “টিআইবির বেশিরভাগ প্রতিবেদন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ত্রুটিপূর্ণ, একপেশে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
টিআইবির মতো আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময়ে ‘মনগড়া কল্পকাহিনি’ প্রকাশ করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।
তিনি বলেন, “বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে তারা প্রতিবেদন প্রকাশ করে, বলে তাদের গবেষণাপ্রসূত প্রতিবেদন। আমরা অতীতে দেখতে পেয়েছি, তারা যে গবেষণার কথা বলে, সে গবেষণাগুলো প্রকৃতপক্ষে কোনো সঠিক গবেষণা নয়।”
তথ্যমন্ত্রী বলেন, “টিআইবিসহ বিভিন্ন সংস্থা পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির কল্পকাহিনি সাজিয়েছিল। তাদের উচিত ছিল জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া। এ ধরনের মনগড়া প্রতিবেদন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকা। যেটি তারা করেনি।”
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সব সাধারণ নির্বাচনের মধ্যে ৩০ ডিসেম্বরের ভোট ‘অপেক্ষাকৃত অনেক শান্তিপূর্ণ’ হয়েছে বলেও দাবি করেন হাছান মাহমুদ।টিআইবি’র প্রতিবেদন সম্পূর্ণ মনগড়া-পূর্বনির্ধারিত: ইসি
এর আগে গতকাল (মঙ্গলবার) নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘টিআইবি যে প্রতিবেদনটিকে গবেষণা বলে দাবি করছে, তা কোনো গবেষণা নয়। এটি একটি প্রতিবেদন মাত্র। কেননা, গবেষণা করতে যে সব পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হয়, তা এখানে প্রয়োগ করা হয়নি। এটি সম্পূর্ণ মনগড়া প্রতিবেদন। এটা তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন। তার অর্থই হচ্ছে এই প্রতিবেদন পূর্বনির্ধারিত।’
রাজধানীর নির্বাচন ভবনে গতকাল সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘টিআইবি বলেছে গবেষণাটি গুণবাচক, মুখ্য তথ্যদাতার সাক্ষাৎকার ও পর্যবেক্ষণ। ক্ষেত্রবিশেষে সংখ্যাবাচক তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তথ্য নেওয়া হয়েছে পরোক্ষ উৎস থেকে। এভাবে কোনো গবেষণা হয়?’
তিনি বলেন, ‘ভোটের কারচুপির তথ্য নিলে অবশ্যই সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কাছ থেকে নিতে হবে বা অথবা লিখিত কোনো ডকুমেন্ট থেকে নিতে হবে। এসব করা হয়নি। কোন সোর্স থেকে কী প্রক্রিয়ায় তথ্য নিয়ে তারা বলছে, ভোটের আগের রাতে সিল মারা হয়েছে, এসব কিছু উল্লেখ নেই। কাজেই এটা কোনো গবেষণা হয়নি।’
ইসি কমিশনার আরও বলেন, ‘বাছাইকৃত প্রার্থীদের কাছ থেকে তারা তথ্য নিয়েছে বলা হচ্ছে। এক্ষেত্রে জামায়াতের প্রার্থীদের কাছ থেকে তথ্য নিলে গবেষণা প্রতিবেদন এক রকম হবে, আওয়ামী লীগের প্রার্থিদের কাছ নিলে তো আরেক রকম হবে। টিআইবির গবেষণায় এগুলো স্পষ্ট নয়। আমরা এই প্রতিবেদন আমলে নিচ্ছি না। যদি গবেষণা হতো, তবে আমলে নিতে পারতাম।’
গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পায় আওয়ামী লীগ। বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে আটটি আসন পায়। এর মধ্যে বিএনপি ছয়টি এবং ঐক্যফ্রন্টের আরেক শরিক গণফোরাম দুটি আসন পায়। এই আট বিজয়ী এখনো সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। বিএনপিসহ ঐক্যফ্রন্ট ওই নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে। -পার্সটুডে
এবিএস

Comments are closed.