rockland bd

অবশেষে মুর্তি আত্মসাৎকরতে গিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান কারাগারে!

0

ডোমার(নীলফামারী) প্রতিনিধি
মঙ্গলবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার গৌতম বুদ্ধের প্রাচীন মুর্তি আত্মসাতের চেষ্টার মামলায় সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদকে অবশেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল দুপুরে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে তাকে করাগারে পাঠানো হয়।
গত শুক্রবার দুপুরে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের চামুয়ার বিল খননের সময় গৌতম বুদ্ধের মুখমন্ডল সাদৃশ্য প্রাচীন একটি মূর্তি পাওয়া যায়। সাড়ে সাতশ গ্রাম ওজনের পাথরের ওই মুর্তিটি সাড়ে ছয় ইঞ্চি দৈঘ্য এবং প্রস্থ আড়াই ইঞ্চি। সেটি ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের ছেলে ফরহাদ হোসেন কৌশলে মুর্তিটি হাতিয়ে নিয়ে বাবা ছেলে মিলে আত্মসাতের চেষ্টা চালার অভিযোগ উঠে। এমন অভিযোগে গত শনিবার রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে মুর্তিটি উদ্ধার করে। এঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের পর গত রবিবার বিকালে চেয়ারম্যান ও তাঁর ছেলে ফরহাদ হোসেনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় ইউপি চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার দুপুরে আদালতর মাধ্যমে করাগারে পাঠায়।
এবিষয়ে ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোকছেদ আলী জানান, ওই বিলটি (জলাশয়) মেশিন দিয়ে খনন করা হচ্ছিল। এসময় মাটির নিচ থেকে প্রাচীন কিছু ইটেরসাথে বৌদ্ধ দেবের একটি মূর্তি বেড়িয়ে আসলে স্থানীয় লোকজন তা দেখতে পায়। সেখান থেকে মূর্তিটি ইউপি চেয়ারম্যানের ছেলে ফরহাদ হোসেন নিয়ে গিয়ে বাবা ছেলে মিলে তথ্য গোপন করে। পুলিশের তদন্তে মূর্তি পাওয়ার বিষয়টি বেড়িয়ে আসলে তারা বাবা ছেলে মিলে সেটি অস্বীকার করেন। ওই মূর্তিটি থানায় জমা দেওয়ার কথা বলা হলে তারা বাবা ছেলে মিলে চাতুরীর আশ্রয় নিয়ে সেখান থেকে পাওয়া ইট ও কাঠ জমা দেন থানায়। পরে অভিযান চালিয়ে চেয়ারম্যানের বাড়ি থেকে মূর্তিটি উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন,‘প্রাথমিকভাবে ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে সরকারী মূল্যবান সম্পদ ও প্রাচীন স্মৃতি প্রতারণামূলক আত্মসাতের চেষ্টা প্রমানিত হওয়ায় রবিবার বিকালে বাবা এবং ছেলেকে আসামী থানার উপ-পরিদর্শক মাসুদার রহমান বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। অপর আসামী ফরহাদ হোসেনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
এদিকে সোমবার এলাকা পরিদর্শন করেছেন রংপুর তাজহাটের প্রত্নত্বত্ত জাদুঘরের কাস্টেডিয়ান হাসিবুল হাসান। পরিদর্শন শেষে বিকালে তিনি বলেন,‘বৌদ্ধ দেবের মূর্তির ওই নিদর্শনটি একাদশ-দ্বাদশ শতাব্দির হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই স্থানটি বড় কোন বিল বা নদীর পাড় হতে পারে। খনন করা হলে সেখানে আরো প্রাচীন নিদর্শন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।’
গতকাল সরেজমিনে গিয়ে গিয়ে দেখা গেছে ওই নিদর্শন পাওয়ার স্থানে উৎসুক মানুষের ভীর। প্রাচীন মূর্তি পাওয়ার খবরে অনেকেই দূর দূরান্ত থেকে দেখতে এসেছেন স্থানটি। এসময় বিলের মাটি খননের স্থানে দেখা গেছে মাটির নীচ থেকে বেড়িয়ে আসা একাধিক প্রাচীন ইট।
এলাকাবাসী জানান, সেদিন মাটি খননের সময় বেড়িয়ে আসে ওই মূর্তিটি। সেটি দেখতে পায় এলাকার ডুগডুগি বড়গাছা গ্রামের আষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী জয়ন্ত রায়ের মেয়ে স্মৃতি রায় এবং একই গ্রামের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী মঙ্গুলু রায়ের মেয়ে বৃষ্টি রায়। তাদের হাত থেকে মূর্তিটি নিয়ে যায় ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের ছেলে ফরহাত হোসেন।
এ বিষয়ে স্মৃতি রায় বলে,‘আমরা পাথরের মূর্তিটি দেখে হাতে তুলে নেই। এসময় সেখানে উপস্থিত চেয়ারম্যানের ছেলে ফরহাদ সেটি আমাদের কাছ থেকে নিয়ে যায়।’
আবু ফাত্তাহ্ কামাল (পাখি)/রাকিব

Comments are closed.