rockland bd

ডায়না-টিটো আর আলমের গল্প

0

জাম্ব ঘাস ও ভুট্টা ঘাস খেতে দেয়া হয়। ভুট্টা ওদের বেশি পছন্দ।

ফিচার ডেস্ক
সোমবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:
আয়-আয় বলে ডাকলেই পানি থেকে উঠে আসে। খাওয়ার জন্য হা করে মুখ খোলে। এভাবেই প্রতিদিন মিরপুর জাতীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের জলহস্তী দেখান নূর আলম।
আফ্রিকা থেকে টিটো এসেছিল ১৯৮৪ সালে। এর ২ বছর পরে আসে ডায়না। এদের পরিবারে ১৯৮৬ সালে আসে নতুন সদস্য। ছেলে বাচ্চাটির নাম রাখা হয়েছিল দুরন্ত। ১ বছর পরে জন্ম নেয় জলসুন্দরী। এ পরিবারে একে একে জন্ম নেয় জলনূপর, আগন্তুক, জলপরীসহ অনেকে।
একটি সময় ২০ সদস্যের পরিবার হয়ে উঠে। আবেগঘন কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন জাতীয় চিড়িয়াখানার জলহস্তীদের তত্ত্বাবধানকারী নূর আলম।
তিনি জানান, চিড়িয়াখানায় চাকরি শুরু করি ১৯৮৩ সালে। প্রথম বছর শিমপাঞ্জি দেখাশোনা করতাম। বছরখানেক পরে জলহস্তীদের তত্ত্বাবধান শুরু করি। দেখতে দেখতে জীবনে ৩৪টি বছর কাটিয়ে দিলাম জলহস্তী পরিবারের সঙ্গে। নূর আলম নিজ পরিবার-নিজ সন্তানদের থেকে বেশি সময় দিয়েছেন জলহস্তী পরিবারে।
এ পরিবারের ৬ সদস্য দেশ ও দেশের বাইরে আছে। টিটো ও আগন্তুককে ২০১৬ সালে গাজীপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে দিয়ে দেয়া হয়। জলনূপুরকে দেয়া হয় রংপুর চিড়িয়াখানায়। কুয়েত চিড়িয়াখানায় ১টি ও চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় আছে ২টি জলহস্তী। ডায়না ছেলে-মেয়েদের নিয়ে মিরপুর চিড়িয়াখানায় রয়েছে। এখানে সব মিলিয়ে ১৪টি জলহস্তীর সংসার।

আয়-আয় বলে ডাকলেই পানি থেকে উঠে আসে। খাওয়ার জন্য হা করে মুখ খোলে। এভাবেই প্রতিদিন মিরপুর জাতীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের জলহস্তী দেখান নূর আলম।

নূর আলম বলেন, মানুষের মতোই জলহস্তীদের জীবন। বাচ্চারা ৬ মাস মায়ের দুধ খায়। আস্তে আস্তে ঘাস লতা-পাতা খেতে শুরু করে। ১ বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত দুধ পান করা ছাড়ে না। প্রাপ্তবয়স্ক জলহস্তীকে সকাল ৯টায় সবজি খেতে দেয়া হয়।
ভূষি দেয়া হয় সাড়ে ১১টায়। জাম্ব ঘাস ও ভুট্টা ঘাস খেতে দেয়া হয় আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে। ভুট্টা ওদের বেশি পছন্দ। এতে ওরা অনেক শক্তি পায়। দিনে তিনবার খাবার দেয়া হয়। একেকটি জলহস্তীকে প্রতিদিন ২০ কেজি শাক, গমের ভূষি ১০ কেজি। ৬০ কেজি জাম্ব ঘাস বা ভুট্টার ঘাস খাওয়ানো হয়।
আলম বলেন, আমাদের দেশে খুব সহজে খাপ খাইয়ে নিয়েছে জলহস্তীগুলো। পৃথিবীর কোথাও এভাবে একত্রে জলহস্তী থাকে না। বিদেশে এত কাছ থেকে জলহস্তী দেখতে দেয়া হয় না। আমাদের দেশে দর্শকরা অনেক কাছ থেকে দেখতে পায়।
এরা অনেক হিংস্র ও জেদি প্রাণী।
কারো ওপর রাগলে পিছু লাগে। না মারা পর্যন্ত শান্ত হয় না। এদের পেছনে আমি সকাল-সন্ধ্যা শ্রম দেই।
আমার পরিবারের থেকে বেশি সময় জলহস্তীদের দেই। এরা আমার কথা শুনে। যদি বলি হা কর, ওরা মুখ খুলে। যদি বলি দৌড় দে, তাহলে দৌড় দেয়। জলহস্তী পুকুর পাড়ে যদি বড় জায়গা থাকত তাহলে খেলা দেখাতে পারতাম; ঠিক যেভাবে ডলফিন দিয়ে খেলা দেখানো হয়।
জলহস্তী পানিতে অনেক দ্রুত সাতার কাটে। লাফও দেয়। ভবিষ্যতে যদি পুকুর পাড়ে জায়গা বড় করে দেয়া হয়, তাহলে আমি দর্শনার্থীদের অনেক খেলা দেখাতে পারব। তখন অনেক দর্শক জলহস্তীর খেলা দেখতে আসবে।
জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. এসএম নজরুল ইসলাম বলেন, এখন আমাদের অনেক জলহস্তী। ৬টিকে অন্য- চিড়িয়াখানায় দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে চিড়িয়াখানা আধুনিকায়ন করা হবে। তখন জলহস্তীর পুকুরপাড়ের জায়গা বড় করা হবে। আশা করি তখন দর্শনার্থীরা জলহস্তীর খেলা দেখতে পারবে।

ইবনে মাহবুব/আর এইচ

Comments are closed.