rockland bd

ফরিদপুরে ঐতিহ্যবাহী গরুর আড়ং উৎসবে হাজারো মানুষের ভিড়

0

ফরিদপুর প্রতিনিধি
সোমবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চরহরিরামপুর ইউনিয়নের বিশাই মাতুব্বরের ডাঙ্গীর ধু ধু পদ্মা নদীর চরে অনুষ্ঠিত হয়ে হলো ঐতিহ্যবাহী গরু আড়ং উৎসব।
পৌষ সংক্রান্তী উপলক্ষে গরুর রশি ছেড়ার মধ্য দিয়ে এই আনন্দ মেলা (আড়ং) গতকাল বিকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ উৎসবকে কেন্দ্র করে বিশাই মাতুব্বরের ডাঙ্গীর পদ্মা পাড়ের কয়েক হাজার নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে কিশোর-কিশোরীদের মিলন মেলায় পরিনত হয়।
উৎসবের প্রধান অতিথি ছিলেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন।
পদ্মার এই চরে গত ৫ বছর ধরে এলাকাবাসীর উদ্যোগে গরুর আড়ং উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
হরিরামপুর ইউনিয়নের মানুষ বছরের দুটি ঈদের পরে তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে মনে করেন এই গরুর আড়ংকে।
উৎসবকে ঘিরে মেয়ে-জামাই-নাতি-নাতকুর আর অন্যান্য স্বজনদের আগে ভাগেই দাওয়াত করে বাড়িতে আনেন তারা। বাড়িতে আয়োজন করে পিঠাপুলির উৎসব।
গরুর সাথে মাঠে যেতেই এই স্বজনদের বাড়িতে দাওয়াত করে আনা হয় বলে জানালেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আমির খান। তিনি বলেন, স্বজনের পাশাপাশি প্রতিবেশী নিয়ে গ্রুপ করে বাড়িতে অনুষ্ঠান করে দুপুরে সবাইকে খাওয়ানোর পর গরু নিয়ে সকলে মাঠে আসে। তাই যে যার যার মতো লোক পছন্দ করে আগেই বাড়িতে জর করেন।
বিকেল চার টায় উৎসবের উদ্বোধন করে প্রধান অতিথি। এতে যে গরুটি তার রাগ যত বেশি প্রদর্শন করবে ও যত দ্রুত গরুর গলায় বাধা দড়ি গাছে বেঁধে দেওয়ার পর ছিড়ে চলে যেতে পারবে তাকেই পুরুষ্কৃত করা হয়।
এই অনুষ্ঠানে ওই ইউনিয়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে সুসজ্জিত প্রায় শতাধিক গরু ও তার মালিক এবং সমর্থকেরা অংশ নেন। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় অস্থায়ী মেলা বসে। মেলায় শিশুদের বিনোদন ও খেলনা কিনতে দেখা গেছে। এছাড়া খাবারের দোকান ও নিজেদের তৈরী মিষ্টি মন্ডার দোকানও বসেছিল।
উৎসবে আসা তানজিনা আক্তার বলেন, দেশের ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতি বছরের মতো এবারো এই গরু আড়ং এর আয়োজন দেখতে এসেছি । তিনি বলেন, অবহেলিত জনগোষ্ঠি পদ্মার চরের মানুষের একটি বিনোদনের ব্যবস্থা হয়েছে এটাই বড়কথা।
তিনি বলেন, এই চরের মানুষ অত্যন্ত দরিদ্র। বর্তমান সমাজের যে সুফল তার কোনটিই এদের ভাগ্যে জোটে না। তবুও এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে একটি মহামিলন মেলা হলো সকলে একটি উৎসব মুখর দিন কাটাতে পেলে সকলেই আনন্দিত।
এই আড়ং এ অংশ নেয় তাদের মধ্যে বিচারকদের প্রদত্ব নম্বারের ভিত্তিতে ১ম পুরুস্কার ২১ ইঞ্চি এলইডি টিভি লাভ করেন ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার মো: আজিজ মোল্যা, ২য় ও ৩য় পুরুস্কার ২১ ইঞ্চি কালার টিভি লাভ করেন যথাক্রমে দোহারের আসলাম বেপারী ও চরভদ্রাসন উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের শেখ আবুল। এছাড়া প্রতিটি গরুর মালিককে সান্তনা পুরুস্কার হিসেবে একটি করে বালতি দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত স্থান ভেদে দেশের একেক অঞ্চলে গরুর দাবরানী,গরু দৌড়,গরুর রশি ছেড়া,বা আড়ং নামের এই প্রতিযোগিতা বাঙালী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে পরিচয় তুলে ধরে। একটি খুটির সাথে গরুর রশি বাধা থাকে পরে গরুকে দাবার দিলে সে রশি ছিড়ে যায়। পরে ঐ রশি বিচারকদের কাছে দিতে হয়। প্রাপ্ত নম্বারের ভিত্তিতে প্রতিযোগীদের নির্বাচিত করা হয়।
কে এম রুবেল/রাকিব

Comments are closed.