rockland bd

পঞ্চগড়ে গমের আবাদ গত মৌসুমের চেয়ে সাড়ে তিন হাজার হেক্টর কমেছে

0

পঞ্চগড়ে গমের আবাদ গত মৌসুমের চেয়ে সাড়ে তিন হাজার হেক্টর কমেছে

জেলা প্রতিনিধি, পঞ্চগড়
রবিবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:
প্রতিবছর উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও সে তুলনায় দাম পাওয়ার কারণে পঞ্চগড়ে গমের আবাদ কমেই চলেছে। শুধুমাত্র গত মৌসুমের চেয়ে চলতি মৌসূমে আবাদ কমেছে ৩ হাজার ৬৯০ হেক্টর।
চলতি মৌসূমে পঞ্চগড় জেলায় ২২ হাজার ১৮৯ হেক্টর জমিতে গম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৭৩ হাজার ২২৪ মেট্রিক টন। শেষ পর্যন্ত আবাদ হয়েছে মাত্র ১৬ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে। সে হিসেবে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও অনেক কমে আসবে।
আর গত মৌসূমে পঞ্চগড় জেলায় গম আবাদ হয়েছিল ২০ হাজার হেক্টর জমিতে। এবারও কৃষকরা গমের ন্যায্যমূল্য না পেলে আগামী মৌসুমে গম আবাদ আরও কমে যাবে বলে আশংকা করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।
তাদের মতে, দেশের কৃষকদের বাঁচাতে হলে বিদেশ থেকে গম আমদানী নির্ভরতা কমাতে হবে। দেশের চাহিদা অনুযায়ী দেশে উৎপাদিত গম বাদ দিয়ে বিদেশ থেকে গম আমদানীর অনুমতি দেয়া যেতে পারে। আর ঢালাওভাবে বিদেশ থেকে গম আমদানীর অনুমতি দিলে দেশে গমের আবাদ প্রতি বছর আশংকাজনকভাবে কমে যাবে এটাই স্বাভাবিক।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পঞ্চগড়ে আমন ও বোরো ধানের পরই স্থান ছিল গমের। আমন ধান কাটার পর জমি তৈরী করে তারা গম আবাদ করত। আর গম কেটে সেই জমিতে পাট চাষ করার পর আবারও আমন ধানের চারা লাগানো যেত। বছরে তিনটি আবাদ করে কৃষকরা বেশ লাভবান হত। কৃষকরা গম আবাদ করে আগে উৎপাদন খরচের চেয়ে বেশি দামে গম বিক্রয় করতে পারলেও বিগত কয়েক বছর ধরেই কৃষকরা গমের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না।
দেশের আটা ময়দার মিল মালিকরা বিদেশ থেকে কম দামে গম আনার কারণে দেশে উৎপাদিত গমের দাম কমে যাচ্ছে। আগে চালের চেয়ে আটা ময়দার দাম ছিল বেশি। আর এখন আটা ময়দার দাম চালের দামের অর্ধেকে নেমে এসেছে।
সরকার সংগ্রহ অভিযানের মাধ্যমে খাদ্যগুদামে গম সংগ্রহ করার কারণে কৃষকরা কিছুটা হলেও বাজারে বেশি দামে গম বিক্রয় করতে পারতেন। কিন্তু মৌসূমের অনেক পরে সংগ্রহ অভিযান শুরু করায় কৃষকের বদলে ব্যবসায়ীরা অধিক লাভবান হওয়ার কারণে নৈরাজ্য শুরু হলে গত মৌসূমে সরকার গম সংগ্রহ করেনি। এতে করে বিরূপ প্রভাব পড়ে বাজারে। প্রতি মণ গমে উৎপাদন খরচ ১ হাজার ২শ টাকা হলেও কৃষকরা শেষ পর্যন্ত ৭শ থেকে সাড়ে ৭শ টাকা মণ দরে গম বাজারে বিক্রয় করতে বাধ্য হয়। গত বছরের এমন অভিজ্ঞতার কারণে কৃষকরা এবার গম আবাদে আগ্রহী হয়নি।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের বলেয়াপাড়া গ্রামের কৃষকর শফিকুল ইসলাম জানান, গত মৌসূমে আমি এক একর জমিতে গম আবাদ করেছিলাম। সরকার সংগ্রহ অভিযানে গম সংগ্রহ না করার কারণে বাজারে গমের কোন চাহিদা ছিল না। শেষ পর্যন্ত ৭শ টাকা মণ দরে সেই গম বিক্রয় করেছি। এতে করে আমাকে লোকসান গুনতে হয়েছিল ১০ হাজার টাকার মত। তাই এবার আমি আর গম আবাদে আগ্রহী হইনি। ওই জমিতে ভূট্টা চাষ করার জন্য জমি তৈরী করছি।
এ নিয়ে কথা বললে পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক শেখ আবু বকর সিদ্দিক জানান, তুলনামূলকভাবে ধানের চেয়ে গমের উৎপাদন খরচ বেশি। কৃষকরা মূলত লাভের আশায় জমিতে আবাদ করে থাকে। লোকসান গুনতে শুরু করলে তারা আর সেই আবাদ করে না। গমের ক্ষেত্রেও এমন অবস্থা হয়েছে। বিগত কয়েক বছর থেকে গমের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে কৃষকরা গম আবাদ কমিয়ে দিচ্ছে। ওই জমিতে বেশি লাভের আশার কৃষকরা ভ্ট্টূাসহ অন্য লাভজনক আবাদ করছে।

সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম/আর এইচ

Comments are closed.