rockland bd

গোবিন্দগঞ্জে আগুনে পুড়েছে ৪০০ বিঘা জমির আখ

0

গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি
রবিবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:

রংপুর চিনিকলের আওতাধীন সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্ম ইক্ষু খামারে শনিবার পঞ্চম দফা অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ অগ্নিকান্ডে প্রায় ৮০ বিঘা জমির আখ পুড়ে গেছে। আগুন লাগানোর ঘটনায় পুলিশ ফরিদুল ইসলাম নামে এক শ্রমিককে আটক করেছে। আটক ফরিদুল উপজেলার গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে ঠিকাদারের মাধ্যমে আখ কাটার কাজে নিয়োজিত ফরিদুল ইসলাম নামে ওই শ্রমিক।
চিনিকল ও ফায়ার সার্ভিস সুত্রে জানা গেছে, গত শনিবার আবারো এই খামারে অগ্নিকান্ডে প্রায় ৮০ বিঘা জমির আখ পুড়ে গেছে। ২০১৮-২০১৯ মৌসুমে রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারে এটি ছিল পঞ্চম দফা অগ্নিকান্ডের ঘটনা। ৫ বার এ অগ্নিকান্ডে ঘটনায় প্রায় ৪ শ’ বিঘা জমির আখ পুড়ে গেছে।
চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন আকন্দ জানান, একটি মহল চিনিকলকে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য বার বার এই অগ্নিকান্ড ঘটাচ্ছে বলে তার ধারণা।
গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম মেহেদী হাসান জানান, শনিবার দুপুরে আখের জমিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারে পৌছলে ফরিদুল ইসলাম (৩২) নামের এক শ্রমিক ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় পুলিশ ও আনসার সদস্যরা তাকে ধাওয়া করে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদ করলে ফরিদুল স্বীকার করে মিলে তারাতারি আখ সরবরাহের সুবিধার্থে আখ ক্ষেতে আগুন দেয়া হয়েছে। ওই শ্রমিক আরো জানায়, আখের জমিতে পাতা ছড়িয়ে এমনভাবে ঘিরে রয়েছে যেখানে ক্ষেতে ঢোকাই কঠিন। তাই বাগানে ঢোকার সুবিধার্থে আখের পাতায আগুন লাগিয়ে রাস্তা পরিস্কার করা হয়।

সুন্দরগঞ্জে বালু উত্তোলনের দায়ে দুটি শ্যালো মেশিন জব্দ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় দুটি শ্যালো মেশিন জব্দ করেছে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সোলেমান আলী।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে বেলকা গ্রামের শফিউল ইসলামের ছেলে রিন্টু মিয়া অবৈধভাবে তিস্তা নদী থেকে বালু উত্তোলন করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে শনিবার উপজেলার বেলকা বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার অপরাধে হরিপুর ইউনিয়নের পাড়াসাদুয়া গ্রামের ময়দান আলীর ছেলে এরশাদুল ইসলামের দুটি শ্যালো মেশিন জব্দ করা হয়। এসময় বালু ব্যবসায়ীরা ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। ফলে মেশিন আটক করা গেলেও মালিকদের গ্রেফতার করা যায়নি। এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন থেকে ওই প্রভাবশালী ব্যক্তি তিস্তা নদী থেকে বালু উত্তোলন করে আসছিল।

সাদুল্লাপুরে গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় মাইরন বেগম (৪৮) নামের এক গৃহবধুর মরদেহ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। শনিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের চকনারায়ণ গ্রামের একটি ফাঁকা মাঠ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আতাউর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, চকনারায়ণ গ্রামের খাসা মিয়ার বাড়ির উত্তর পাশে আনছার আলীর জমিতে ওই নারীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় জনগণ। শনিবার সকাল ৮টার দিকে লাশটি দেখার পর পুলিশকে খবর দেয়া হয়। পরে সাদুল্লাপুর থানা পুলিশ সকাল ১১টার দিকে ওই নারীর মরদেহটি উদ্ধার করেন। মাইরন বেগমকে শ^াসরোদ্ধ করার পর হত্যা করে লাশ ফেলে রাখা হয়েছে বলে এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে স্থানীয়রা জানান, নিহত মাইরন বেগমের বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিন শাহবাজ গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুস ছাত্তার মিয়ার স্ত্রী। স্বামী মারা যাওয়ার পর গাজীপুরের টঙ্গি এলাকার আব্দুল্যাপুরে রাস্তার শ্রমিক হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো। একই কাজে সাদুল্লাপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের বৈষ্ণবদাস গ্রামের লাবলু মিয়ার সাথে পরিচয়ে মাইরন বেগমরে দ্বিতীয় বিয়ে হয়। তারা দুজনে শুক্রবার বৈষ্ণবদাস গ্রামের বাড়িতে আসছিল বলে জানান এলাকাবাসী। সাদুল্লাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরশেদুল হক বলেন, মাইরন বেগমের মরদেহ উদ্ধার করার পর সুরুতহাল রিপোর্ট করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারের সময় একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে বলেন জানান ওসি।

শাহজাহান সিরাজ/রাকিব

 

Comments are closed.