rockland bd

জীবনের একমাত্র অবলম্বন বাঁশি বিক্রির টাকা

0

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
শনিবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:
আমার সাথী আয় আয়রে, আমার মনের ময়ূরী আয়রে, আমিতো ভালা না, ভালা লইয়া থাইকো বগুড়ার শেরপুর বাসষ্ট্যান্ডে রাস্তার পার্শ্বে এমনি পাগল করা সুর যিনি বাঁশিতে তোলেন তার নাম রহমত। বয়স ৩৫ কাছাকাছি। ক্লান্তিহীন পথিক বেশে দীর্ঘ বিশ বছর ধরে হ্যামিলনের বাঁশিওলার মতো কাঁধে ঝোলা আর কোমড়ে বাঁশি মুখে আঞ্চলিক গানের অকৃত্রিম সুর বাঁশিতে তুলে অবিরত হাঁটছেন। এভাবে বাঁশি বিক্রির আয় দিয়ে চার সদস্যের সংসার চালাচ্ছেন রহমত। আবার কেউ কেউ সৌখিন বাঁশি প্রিয় মানুষ প্রায় সময় তাকে নিয়ে গাছতলা বা ছায়া ঘেরা নির্জনস্থানে বসে শুনে তার মধুর বাঁশি। যদিও তার জন্য লাগেলা কোন টাকা পয়সা।
রায়গঞ্জ উপজেলার প্রামানিক গ্রামের মৃত মহর আলীর ছেলে রহমান আলী। ১৫ দিন বয়সে মাকে হারিয়ে মায়ের আদর ভালবাসা থেকে বঞ্চিত অন্যের আদর পর্শ্বে লালিত রহমান আলী। ১৫ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে দিশেহারা হয় পরেন। বাবার সম্পত্তি না থাকায় নিত্য চাহিদা মেটাতে বেকায়দায় পড়েন তিনি। নিজের বাঁশি বাজানোর বিদ্যাটুকু কাজে লাগিয়ে খুঁজে নেন চলার শক্তি। আর এভাবে দীর্ঘ ২ যুগ ধরে এ বাঁশির ভ্রাম্যমাণ ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।
রহমত আলী জানান, ২০-২৫ টাকা দরে একটি মুলি বাঁশ কিনে তা থেকে ৬ কিংবা ৮টি বাঁশি তৈরি করি। আর ওই বাঁশি ১৫ থেকে শুরু করে ছোটগুলো ৩০ টাকা আবার বড় মোহন বাঁশিগুলো ১ থেকে ২শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এতে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪শ টাকা আয় হয়। যা দিয়ে বর্তমানে এক মেয়ে এক ছেলেসহ ৪ জনের সংসার ভালই চলছে। বাঁশিই এখন তার আয় উপার্জনসহ তা জীবনের একমাত্র অবলম্বন।
তিনি বলেন, বাঁশির সুর কখনো বিক্রি হয় না। এটি আমার আত্মার খোরাক। তাই এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংস্কৃতি অঙ্গনে পরিবেশনের সুযোগ পেলে নিজেকে ধন্য মনে করতাম।
আব্দুল ওয়াদুদ/রতন

Comments are closed.