rockland bd

কাউনিয়ায় বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গরু-মহিষের গাড়ি

0

কাউনিয়ায় বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গরু-মহিষের গাড়ি

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি
মঙ্গলবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:
আব্বাস উদ্দিনের সেই গানের সুরের মূর্ছণা ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই…, হাকাও গাড়ী তুই চিলমারীর বন্দরে’…. একসময়ে রংপুর অঞ্চলের মানুষের মন মাতোয়ারা করেছিল। নববর্ষ থেকে শুরু করে পন্য পরিবহনের একমাত্র পরিবেশ বন্ধব গরু-মহিষের গাড়ি বর্তমানে আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতার যাতাকলে পড়ে হাড়িয়ে যেতে বসেছে।
এক সময় ছিল যখন গ্রাম বাংলার বড় বড় গৃহস্থ বাড়িতে ৩-৪ টি করে গরু-মহিষের হাল ও গাড়ি ছিল। বর্তমানে গৃহস্থদের বাড়ীতে আর গরু মহিষের হাল ও গাড়ী চোখে পড়ে না। তার পরিবর্তে স্থান করে নিয়েছে যন্ত্র চালিত পাওয়ার টিলার।
দুই একজন যারা এখনও গরু-মহিষের গাড়ি ও হাল ধরে রেখেছেন, তারাও আর যন্ত্র চালিত গাড়ী ও গো-খাদ্যর মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় তা ধরে রাখতে চাচ্ছে না।
কারন হিসাবে হারাগাছ ইউনিয়নের নাজির দহ গ্রামের সামছুল হক জানায়, যন্ত্র চালিত পরিবহন ব্যবস্থা বৃদ্ধি পাওয়ায় গরু মহিষের হাল ও গাড়ির চাহিদা অনেক কমে গেছে। এছাড়া বর্তমানে গরুর খাদ্য ও ঔষধের দাম অনেক বেশি। সরকারীভাবে এই সংস্কৃতি কে ধরে রাখার কোন ব্যাবস্থা নেই।
এলাকাবাসীর দাবী গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য গরু-মহিষের হাল ও গাড়ি ধরে রাখার জন্য সরকারী -বেসরকারী পৃষ্টপোষকতা প্রয়োজন।
উপজেলা কৃষি অফিসার সাইফুল আলম জানান, গরু-মহিষের গোবর জৈবসার হিসেবে কৃষক জমিতে ব্যবহার করতো ফলে জমিতে ফসল ভাল হতো। বর্তমানে তার সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মনোজিৎ কুমার সরকার জানান, গরু-মহিষের হাল ও গাড়ি একসময় গ্রাম বাংলার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতো। বিয়ে থেকে পন্য পরিবহনে এসব গাড়ির কদর ছিল। কিন্তু আধুনিকতার যাতাকলে পড়ে তা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।

সারওয়ার আলম মুকুল/আর এইচ

Comments are closed.