rockland bd

মতিন চৌধুরীর পর গাজী

0

নারায়নগঞ্জ প্রতিনিধি
সোমবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:

নারায়ণগঞ্জে বিএনপি সরকারের আমলেই সবচেয়ে বেশী ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছিলেন দলের এমপিরা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মত গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ছিল বিএনপির মতিন চৌধুরীর দখলে। পরবর্তীতে তিনি বয়সের ভারে ন্যুহ থাকার পরেও বিএনপি সরকার দলের প্রতি অবদানস্বরূপ দিয়ে রাখেন দপ্তরবিহীন মন্ত্রী। এছাড়া সোনারগাঁয়ের রেজাউল করিমকে দেওয়া হয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী।

তবে মাঝে আওয়ামী লীগের এমপিরা দোর্দান্ড দাপটে জয় আনলেও মন্ত্রীত্ব জুটেনি কারো ভাগ্যে। আর এ নিয়ে যখন আক্ষেপ তখন ৭ জানুয়ারী অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রীসভায় ডাক পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-১ তথা রূপগঞ্জ আসনের এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী।

৭ জানুয়ারী সোমবার বিকেলে মন্ত্রীসভার শপথ গ্রহণ করা হবে। গাজী নারায়ণগঞ্জ-১ তথা রূপগঞ্জ আসনের এমপি। ২০০৮, ২০১৪ ও সবশেষ গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ী হন গাজী। যদিও তার মনোনয়ন নিয়ে ছিল নানা নাটকীয়তা।

সূত্র বলছে, রাজধানী লগোয়া হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে রাজনীতির সূতিগার হিসেবে পরিচিত নারায়ণঞ্জ। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধে এ জেলার অবদান খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। ফলে সব সরকারই রাজনৈতিক বিবেচনায় নারায়ণগঞ্জকে গুরুত্বের সহিত মূল্যায়ন করার চেষ্টা করেছেন। ফলশ্রুতিতে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের (আওয়ামী লীগ) সরকারের সময় (১৯৭৩ এর নির্বাচনে) এমপি হয়েছিল নারায়ণগঞ্জের ভাষা সৈনিক একেএম সামসুজ্জোহা। সত্তর দশকের শেষের দিকে জিয়াউর রহমানের (বিএনপি) শাসনামলে নারায়ণগঞ্জ থেকে এম এ সাত্তারকে পাটমন্ত্রী করা হয়। তিনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ আসনের এমপি ছিলেন। এম এ সাত্তারকে মন্ত্রী করার মধ্যে দিয়ে নারায়ণগঞ্জবাসী প্রথম মন্ত্রীত্বের স্বাদ পায়।

আশির দশকে হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের (জাতীয় পাটি) শাসনামলে সোনারগাঁয়ের আ ন ম বাহাউল হককে উপ-মন্ত্রীর পদমর্যায় জেলা পরিষদের চেয়াম্যান করা হয়। ফলে তখন প্রথম উপমন্ত্রীরও স্বাদ পেল নারায়ণগঞ্জবাসী। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর নারায়ণগঞ্জ থেকে আব্দুল মতিন চৌধুরীকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়। মতিন চৌধুরী রূপগঞ্জ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) করার মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জবাসীর মুখ উজ্জল হয়ে উঠে।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়। কিন্তু নারায়ণগঞ্জবাসীর কপালে মন্ত্রী জোটেনি। ২০০১ সালে আবার বিএনপি ক্ষমতায় আসে। তখন আব্দুল মতিন চৌধুরীকে পুনরায় বস্ত্রমন্ত্রী করা হয়। একই সাথে সোনারগাঁও আসন থেকে নির্বাচিত এমপি অধ্যাপক রেজাউল করিমকেও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী করা হয়। একই জেলায় দুইজনকে মন্ত্রী করার কারণে আরেক ধাপ নারায়ণগঞ্জবাসীর মুখ উজ্জল হয়। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের বিএনপির নেতা অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে বিআরটিসির চেয়ারম্যান করা হয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আবার আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসে।
এরপর থেকে আওয়ামী লীগ সরকারই সবসময় সরকার গঠন করে আসছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জেলার পাঁচটি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ তিনটি ও তাদের শরিক জাতীয় পাটি দুটি আসনে এমপি নির্বাচিত হলেও মন্ত্রী সভায় নারায়ণগঞ্জ স্থান পায়নি। তার ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামীলীগ জয়লাভ করে। স্বাধীনতার পর এবারই প্রথম আওয়ামীলীগ সরকারের মন্ত্রী পেল নারায়ণগঞ্জবাসী। দীর্ঘ ১৭ বছর পর মন্ত্রী পেয়ে নারায়ণগঞ্জবাসীর মধ্যে দেখা দিয়েছে আনন্দ উচ্ছাস। নারায়ণগঞ্জ থেকে আওয়ামী লীগের এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী এবার মন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। তিনি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রীর দায়িত্ব পাচ্ছেন। গাজী নারায়ণগঞ্জ-১( রূপগঞ্জ) আসনের এমপি। ২০০৮, ২০১৪ ও সর্বশেষ গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ী হন তিনি। যদিও তার মনোনয়ন নিয়ে ছিল নানা নাটকীয়তা। গোলাম দস্তগীর গাজীই নারায়ণগঞ্জের ইতিহাসে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম মন্ত্রী। স্বাধীনতার পর এবারই প্রথম আওয়ামী লীগ সরকার থেকে নারায়ণগঞ্জবাসী পূর্ন মন্ত্রী পেয়ে বেশ উচ্ছসিত।
মো: মামুন মিয়া/রাকিব

Comments are closed.