rockland bd

কিশোরীদের হতাশাগ্রস্ত হওয়ার হার বেশি

0

ডেস্ক রিপোর্ট, ঢাকা
রবিবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:
ফেসবুক ও টুইটারের মতো সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী কিশোরীরা কিশোরদের চেয়ে দ্বিগুণ বিষণ্নতায় ভুগছে। প্রধানত অনলাইন হয়রানি ও অনিয়মিত ঘুমের পাশাপাশি শারীরিক গঠন এবং হীন আত্মসম্মানবোধের কারণে কিশোরীদের মধ্যে বিষণ্নতায় আক্রান্তের হার বাড়ছে। গত শুক্রবার ইউকে ইকোনমিক অ্যান্ড সোস্যাল রিসার্চ কাউন্সিল (ইএসআরসি) প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

কিশোরীদের হতাশাগ্রস্ত হওয়ার হার বেশি

গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরিতে ব্রিটেনের ১১ হাজার কিশোর-কিশোরীর তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। সেখানে গবেষকরা দেখতে পান, ১৪ বছরের কিশোরীরা বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম অত্যধিক ব্যবহার করছে।
এদের মধ্যে দুই-পঞ্চমাংশ প্রতিদিন ২-৩ ঘণ্টার বেশি সময় সোস্যাল মিডিয়ায় অতিবাহিত করে। অন্যদিকে কিশোরদের মধ্যে প্রতিদিন ২-৩ ঘণ্টার বেশি সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে এক-পঞ্চমাংশ।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় যেসব কিশোর-কিশোরী কম সময় কাটায়, তাদের ১২ শতাংশ এবং যারা অত্যধিক ব্যবহার করে, তাদের ৩৮ শতাংশের মধ্যে হতাশাগ্রস্তের তীব্র লক্ষণ দেখা যায়।
সোস্যাল মিডিয়ার ৪০ শতাংশ কিশোরী ও ২৫ শতাংশ কিশোর ব্যবহারকারী কোনো না কোনোভাবে অনলাইন হয়রানি এবং সাইবারবুলিং অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। সোস্যাল মিডিয়ার কারণে অনিয়মিত ঘুমের সমস্যায় ভোগে ৪০ শতাংশ কিশোরী ও ২৮ শতাংশ কিশোর। গবেষকরা জরিপে তরুণ প্রজন্মের উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠা এবং অনিয়মিত ঘুমের সঙ্গে বিষণ্নতার যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের এপিডিওলজি অ্যান্ড হেলথকেয়ার ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ইভন কেলি এ গবেষণার সহকারী নিয়ন্ত্রক ছিলেন। তিনি অভিভাবক ও নীতিনির্ধারকদের গবেষণা প্রতিবেদনের ফলাফল নিয়ে নতুন করে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে ইভন কেলি জানান, তাদের গবেষণা প্রতিবেদনের ফলাফল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নীতিনির্ধারকদের এ বিষয়ে এখনই ভাবতে হবে। বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতিমালা জরুরি হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, নীতিনির্ধারকদের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে সোস্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাব মুক্ত রাখতে পরিবার সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। অভিভাবকদেরই নিশ্চিত করতে হবে, কম বয়সীরা কখন কোথায় সোস্যাল মিডিয়া কত সময়ের জন্য ব্যবহার করতে পারবে। সন্তানের ঘুমানোর ঘরে কোনো পরিস্থিতিতেই মোবাইল ডিভাইস ব্যবহারের অনুমোদন দেয়া ঠিক নয় বলে সতর্ক করেন তিনি। সূত্র: রয়টার্স

আর এইচ

Comments are closed.