rockland bd

গুরুদাসপুরে কৃষিজমির মাটি কেটে পুকুর খনন, থামছেনা ইটভাটা মালিকদের দৌরাত্ম

0

গুরুদাসপুরে কৃষিজমির মাটি কেটে পুকুর খনন, থামছেনা ইটভাটা মালিকদের দৌরাত্ম

গুরুদাসপুর প্রতিনিধি
শনিবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ফসলি জমির উর্বর মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে ইটভাটা মালিকরা। এতে জমি আবাদি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর ফসল উৎপাদন কম হওয়ায় ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটছে পরিবেশের। উৎপাদিত ধান, পাট, রসুনের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় আবাদি জমিতে পুকুর খননের মহোৎসবে মেতেছে কৃষকরা।
এ সুযোগে ভাটা মালিকরা আরেক দফা মাটি কেটে নিচ্ছে। আর কৃষকরা বিনামূল্যে পুকুর উপহার পাচ্ছে। ফলে এলাকায় কমছে আবাদি জমির পরিমান। কৃষিজমির মাটি ইটভাটায় ব্যবহার নিষিদ্ধ হলেও কার্যকরী ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয়কে দায়ী করেছেন এলাকার ভুক্তভোগী সচেতন লোকজন। তিনদশক ধরে ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে ভাটায় নেওয়ার ফলে আবাদি জমির সংখ্যা কমে গুরুদাসপুর এলাকায় এখন পুকুরের সংখ্যা বেড়েছে। তাছাড়া মাছ চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা মাছ চাষেই ঝুঁকছে বেশি।
অধিকাংশ ইটভাটা গুরুদাসপুর পৌর এলাকায় অবস্থিত। পাওয়ার ট্রিলার ও ট্রাক্টরে করে ইটভাটায় মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার ফলে কোটি কোটি টাকার নির্মিত পাকা সড়কগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলেই কাঁদা পানিতে সড়কগুলো পিচ্ছিল হয়ে যায়। দুর্ঘটনায় পতিত হয় অনেক যানবাহন। শিশুসহ আহত নিহতের ঘটনাও ঘটেছে অনেক। জমির মাটি কেটে ট্রাক্টরে করে যাতায়াতের কারণে পাকা সড়কগুলোতে কার্পেটিং উঠে গেছে, নানা খানাখন্দক, ছোটবড় গর্ত এবং ভেঙে দেবে সাইড ধ্বসে গেছে। ইটভাটায় ব্যবহৃত যানবাহনগুলোর উপর্যুপরি চলাচলে আশপাশের বাড়িঘরগুলো নোংরা ধূলাবালিতে আচ্ছাদিত হয়ে যেন ভূতের এলাকায় পরিণত হয়েছে। এতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। কমছে না ভোগান্তি।
বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এবং লোভ দেখিয়ে কৃষকদের বোকা বানিয়ে কৃষিজমিতে মাটি কেটে পুকুর খননে প্ররোচিত করা হচ্ছে। ইটভাটা মালিক ও এক শ্রেণির দালালচক্র কৃষকদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এসব করছে। ইটভাটার কারণে এলাকার আম, লিচু, নারকেলসহ বিভিন্ন গাছে ফল ধরছে না, ধরলেও তা কম-এ অবস্থা বিরাজ করছে। ইটভাটাগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উদ্যোগ নেই।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল করিম জানান, ২০১৮ সাল পর্যন্ত গুরুদাসপুরে ১৫ হাজার ৭১৪ হেক্টর কৃষিজমি রয়েছে। অথচ পাঁচ বছর আগেও ২০ হাজার হেক্টরের বেশি কৃষিজমি ছিল। এলাকায় কৃষি জমিতে মাটি কাটা ও পুকুর খনন অব্যাহত থাকলে কৃষিজীব বৈচিত্র ও পরিবেশের বিপর্যয় ঠেকানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানান, গুরুদাসপুর উপজেলায় সরকারি ৩২টিসহ ৫ হাজার ৩৩৫টি পুকুর রয়েছে। অথচ পাঁচ বছর আগে ১০০টি পুকুরও ছিল না। তবে বেসরকারি হিসেবে পুকুরের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার হবে বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে নাটোর জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ বলেন, কৃষিজমিতে মাটিকাটা ও পুকুর খনন করা চলবে না। তারপরেও যদি কেউ এ অন্যায় করে তাহলে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো. আখলাকুজ্জামান/আর এইচ

Comments are closed.