rockland bd

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য জামাই আদুরী ধান

0

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য জামাই আদুরী ধান

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:
কেউ বলে জামাই আদূরী, কেউ বলে কালোজিরা, আবার কেউ বা বলে ভোগ ধান। যে নামেই ডাকা হোকনা কেন সেই জামাই আদূরী ধান রংপুর অঞ্চলে এখন আর তেমন চোখে পড়ে না।
আজ থেকে প্রায় ২ যুগ আগে কৃষকরা এ প্রকার ধান আবাদ করত। ধানটা দেখতে কালো এবং বেশ লম্বা। ধানের শীষ আশা থেকে শুরু করে মানুষের পেটে না যাওয়া পর্যন্ত মনোমুগ্ধকর সুগন্ধী ছিলো। কোনো বাড়িতে জামাই আদুরী চাল রান্না করলে তার সুগন্ধ চারদিকে ছড়িয়ে পড়তো, রাস্তা দিয়ে পথচারীরা সহজেই বুঝে নিতে পারতো ওই বাড়িতে জামাই এসেছে।
এখন সেই ধান আর আগের মতো চোখে পড়ে না। জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে কমিয়ে আসছে আবাদী জমির পরিমান তাই নতুন নতুন গবেষনায় আবিস্কৃত স্বল্প মেয়াদী উচ্চ ফলনশীল ধানের ভীড়ে বিলুপ্তির পথে আজ জামাই আদুরী ধান। উপজেলার নিজপাড়া গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, বি-৩, বি-৫২, হাই ব্রিড,বি-২৮, বি-২৯ সহ বিভিন্ন ধরনের স্বল্প মেয়াদী উচ্চ ফলনশীল ধানের বীজ এখন বাজারে পাওয়া যায়। যার ফলন একর প্রতি প্রায় ৬০/৭০ মণ। আর কালোজিড়া বা জামাই আদুরী ধান উৎপাদন হয় একর প্রতি সর্বোচ্চ ১২ থেকে মণ তাই এসব ধানের আড়ালে হারিয়ে গেছে জামাই আদুরী ধান।
গদাই গ্রামের কৃষক শাহজাহান বলেন, একটা সময় ছিলো জামাই আদুরী ধান আবাদ না করলে প্রতিটি কৃষকের চাষাবাদে অতৃপ্তি থাকতো। কিন্তু সময়ের সাথে তাল মিলাতে লাগামহীন এই দ্রব্যমূল্যের বাজারে অল্প উৎপাদন করে সংসার চলার কথা নয়।
কৃষকরা মনে করেন টাকা থাকলে জামাইকে বাজার থেকে পোলাও চাল কিনে খাওয়ানো যাবে। এতো কথার পরেও কৃষকরা স্বীকার করেন জামাই আদুরী চালের স্বাদ আর বর্তমান বাজারে পাওয়া পোলার চালের স্বাদ এক নয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল আলম জানান এই ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহী করে তোলার চেষ্টা চলছে।

সারওয়ার আলম মুকুল/আর এইচ

Comments are closed.