rockland bd

শেখ হাসিনার জয়ে আনন্দে আত্মহারা বিলুপ্ত ছিটমহলবাসী

0

শেখ হাসিনার জয়ে আনন্দে আত্মহারা বিলুপ্ত ছিটমহলবাসী

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
মঙ্গলবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:
১৯৪৭ সালে পাক-ভারত বিভক্তির সময় সমস্যা শুরু। এরপর ৭৪’এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সময় ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির আলোকে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা। আর ২০১৫’র ৩১ জুলাই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্থল সীমানা চুক্তির আলোকে প্রায় ৬৮ বছরের পর সকল যাতনার মুক্তি।
দীর্ঘ সময়ের সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কাছে চির কৃতজ্ঞ বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতের ১১১টি ছিটমহলের নাগরিকরা। আর এই কৃতজ্ঞতার প্রতিদান হিসেবে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রথমবারের মত ভোট দিয়ে আবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনতে সহযোগিতা করতে পারায় কিছুটা ঋণমুক্ত হল বাংলাদেশের সাথে সংযুক্ত হওয়া বিলুপ্ত ছিটমহলের নতুন ভোটাররা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুনরায় নির্বাচিত হওয়ায় তারা অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। তিন দিন ধরে গ্রামে গ্রামে চলছে মিষ্টি বিতরণ।
তাদের আশা মুক্তির পর মাত্র সাড়ে তিন বছরে ছিটমহল এলাকায় সরকার যে উন্নয়ন কার্যক্রম করেছে তারই ধারাবাহিকতায় আগামি পাঁচ বছরে চলমান এবং এখনও শুরু হয়নি এমন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে।
১৯৪৭ থেকে ২০১৫, প্রায় ৬৮ বছরের যাতনার অবসান ঘটিয়ে ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতের পর বাংলাদেশে ও ভারতের মধ্যে বিনিময় ১৬২টি ছিটমহল। এর মধ্যে পঞ্চগড়, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলায় অবস্থিত ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের ভূখন্ডের সাথে একীভূত হয়।
ছিটমহল বিনিময়ের সময় কিছু লোক ভারতের নাগরিকত্ব নিয়ে ভারতে চলে গেলেও অধিকাংশই রয়ে যায় বাংলাদেশে। বিলুপ্ত ছিটমহলের নতুন ভোটাররা পরের বছর ২০১৬ সালে প্রথমবারের মত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তারা ভোট দিতে পারলেও এবারই প্রথম তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রদান করতে পারল। এতে করে উল্লসিত বিলুপ্ত ছিটমহলের নতুন নাগরিকরা।
পঞ্চগড় নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড় জেলার বিলুপ্ত ৩৬টি ছিটমহলের প্রায় ৯ হাজার নতুন ভোটার এবার পঞ্চগড়ের দু’টি নির্বাচনী আসনে ভোট প্রদান করেন। এর মধ্যে পঞ্চগড়-১ আসনের সদর উপজেলায় বিলুপ্ত ৭টি ছিটমহলে ভোটার হয়েছিলেন এক হাজার ২৫ জন এবং পঞ্চগড়-২ আসনের বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার ২৯টি বিলুপ্ত ছিটমহলের নতুন ভোটার ছিলেন সংখ্যা ৭ হাজার ৯১০ জন।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নে অবস্থিত বিলুপ্ত গারাতি ছিটমহলে ইয়ারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সপিজউদ্দীন (৮২) বলেন, আমরা শেকলে বাধা জীবন কাটিয়েছি ৬৮টি বছর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের অভিসাপ থেকে মুক্তি দিয়েছেন। এবারই প্রথম আমরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিলাম। আমরা চেষ্টা করেছি প্রতিদান দেয়ার। সফলও হয়েছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও ক্ষমতায়
এসেছে। আমরা খুব খুশি।
একই ইউনিয়নের পূর্ব শালবাগান গ্রামের বাসিন্দা আনার আলী (৮৫) বলেন, মুক্তির সাড়ে তিন বছরে সরকার আমাদের সব কিছু দিয়েছে। অন্ধকার থেকে মুক্তি দেয়ার পর আমাদের বাড়ি বাড়ি বিদ্যুৎ দিয়ে আমাদের আলোকিত করেছেন। পথচলার রাস্তা পাকা করে দিয়েছেন। আমরা যা কিছু চাইনি তাও পেয়েছি। আর কিছু চাওয়ার নেই। খুব ভাল লাগছে প্রথমবারের ভোটে ঋণ শোধের চেষ্টা করার। বিলুপ্ত ছিটমহলের সকল ভোটার নৌকার সাথেই ছিলেন। চেস্টা করেছি সবাই কিছুটা হলেও প্রতিদান দেয়ার।
বাংলাদেশ-ভারত বিলুপ্ত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির বাংলাদেশ ইউনিটের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলার সভাপতি মফিজার রহমান বলেন, বর্তমান সরকার ছিটমহল বিনিময়ের পর আমাদের নাগরিকত্ব দিয়েছে। সরকার আমাদের বিলুপ্ত ছিটমহল এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছে। আগে আমরা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলাম। আর এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারলাম। বিলুপ্ত ছিটমহলের সকল ভোটার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথেই ছিলেন।
তিনি আবারও ক্ষমতায় আসতে পেরে আমরা যারপর নাই খুশি। ভোটের ফলাফল পাওয়ার পর থেকে তিনদিন ধরে আমরা সবাইকে মিষ্টি খাওয়াচ্ছি। এখনও মিষ্টি খাওয়া চলছেই। আমাদের জন্য এর চেয়ে আনন্দের আর কি হতে পারে।

সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম/আর এইচ

Comments are closed.