rockland bd

মুন্সীগঞ্জে ভোট দিতে বাধা, ধানের শীষের এজেন্টরা কেন্দ্র ছাড়া

0

মুন্সীগঞ্জ সংবাদদাতা
রবিবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:
কোন প্রকার সহিংসতা ছাড়াই মুন্সীগঞ্জ জেলার তিনটি আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহন সম্পন্ন হয়েছে। তবে জেলা শহরের দক্ষিন ইসলামপুর একটি কেন্দ্রে নৌকার পুলিং এজেন্টরা সিল মারতে চাইলে এলাকাবাসী প্রতিরোধ গরে তুলে। পরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষনিক পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। পরে পুনরায় ভোট গ্রহন শুরু হয়।
সকাল ৮টার আগে থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি থাকলেও ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি এমন অভিযোগ রয়েছে ভোটরদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সকালে ভোট গ্রহনের শুরুতে নৌকার সমর্থকরা কেন্দ্রগুলো দখলে নিয়ে জেলার অধিকাংশ কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেয়। সাধারন ভোটাররা ভোট দিতে গেলে ভোটার আইডি কার্ড লাগবে এমন অজুহাত দেখিয়ে ভোটরদের হাতের ছাপ রেখেই বের করে দেয়।
ভয়ভীতিসহ নানা কারনে সাধারন ভোটাররা ভোট দিতে এসেও হতাশ হয়ে ভোট না দিয়েই চলে যায়। যারা ভোট দিতে পেরেছে তাদেরকেও প্রকাশ্যে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে। দুপুর ১২ টার মধ্যেই জেলার অধিকাংশ কেন্দ্র ভোটার শুন্য হয়ে যায়। এর পর থেকে নির্বাচর্নী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অলস সময় পার করে। এছাড়াও মুন্সীগঞ্জ ১ ও ২ আসনে ছিলো একই চিত্র।
সাধারণ ভোটারদের অভিযোগ সরকার দলীয় সমর্থকদের অব্যাহত হুমকি, হামলা, মামলার কারনে বিএনপির কর্মীরা এলাকা ছাড়া থাকায় সাধারন ভোটাররা সাহস পায়নি। এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে জেলার প্রতিটা কেন্দ্র দখলে নেয় নৌকার সমর্থকরা। তিনটি আসনেই বেলা ১২ টার মধ্যে শেষ হয়ে যায় ভোট গ্রহনের কাজ। জেলার তিনটি আসনে মোট ভোটার ১১,৬৩,৫৪৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫,৯৭,৭৫৬ জন ও মহিলা ৫,৬৫,৭৯২জন। ৪৬১টি কেন্দ্রের ২,২৭৪টি কক্ষে চলছে ভোট গ্রহন । নির্বাচনী সহিংসতা এড়াতে কঠোর অবস্থানে আইনসৃংখলা বাহিনী। জেলার প্রধান প্রধান সড়কে টহল দিচ্ছে সোনাবাহিনী ও বিজিবি ।
মুন্সীগঞ্জ ১ (সিরাজদিখান-শ্রীনগর) আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে মাহি বি চৌধুরী নৌকা ও বিএনপি থেকে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ধানের শীষ। শাহ মোয়াজ্জেম কেন্দ্র দখল, জাল ভোট ও এজেন্ট বের করে একচেটিয়া নৌকা মার্কায় সিল মারার অভিযোগে নির্বাচন বয়কট করেন।
মুন্সীগঞ্জ-১ আসন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীক প্রার্থী কে. এম আতিকুর রহমান বেলা ১২ টার দিকে সিরাজদিখানে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ভোট কারচুপি, পোলিং এজেন্ট বেড় করে দেওয়া, কক্ষের গোপন কক্ষে প্রবেশ না করে প্রকাশ্যে টেবিলে ভোট দেওয়া, প্রশাসনের সহযোগীতা না পাওয়ার অভিযোগে এই সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
এ সময় তিনি জানান, তারা ভোট থেকে সরে দাড়াননি এখনো। তাদের কেন্দ্র থেকে যে নির্দেশনা পাবেন তারা জানাবেন। এ সময় তিনি আরো বলেন, জোর করে যে ভোট নিচ্ছে এটা কে গণতান্ত্রিক দেশের ভোট বলে না। এ নির্বাচন মেনে নিতে পারিনা। মুন্সীগঞ্জ-১ এর ভোটাররা এ এলাকায় ভোট দিতে পারেন নাই। ভোট গুলো জোর করে নিয়েছে, এভাবে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হতে পারে না। হাত পাখার বিজয়কে ছিনিয়ে নিয়ে নৌকা মার্কার লোকজন কেন্দ্র গুলো দখল করে নিয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ ২ আসনে আ’লীগ থেকে নৌকা প্রতিকে সাগুফতা ইয়াসমিন ও বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতিকে মিজানুর রহমান সিনহা। মনোয়ন জমা দেওয়ার পর থেকেই এলাকায় আসতে পারেনি মিজান সিনহা। তিনি এই নির্বাচনে কোন এজেন্ট, প্রচার প্রচারনাও চালাতে পারেনি।
মুন্সীগঞ্জ ৩ আসনে আ’লীগ থেকে নৌকা প্রতীকে মৃণালকান্তি দাস ও বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকে আবদুল হাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আবদুল হাই মামলা হামলা উপেক্ষা করে নির্বাচনের দিন সকাল পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকলেও তার এলাকার বাইরে যেতে পারেননি।
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রার্থী আবদুল হাই জানান, আমাদের কোন এজেন্ট দিতে দেয়নি, ভোটাররা ভোট কেন্দ্রে আসলে তাদের ফিরিয়ে দেয়। সকাল ৯ টার মধ্যে সবকটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহন শেষ হয়ে যায়। এর ফলেই বুঝা যায় কাল রাতেই ৫০ থেকে ৬০ ভাগ ব্যলটে সিল মেরে রাখা হয়েছে। তিনি আরো জানান, ভোট বর্জন করা না করার কোন বিষয় না, নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়নি এটাই বড় কথা।

জুয়েল রানা/আর এইচ

Comments are closed.