rockland bd

জামায়াতকে আসন দেয়া হবে জানলে ঐক্যফ্রন্টে আসতাম না: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে ড. কামাল

0

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান ডক্টর কামাল হোসেন

ডেস্ক প্রতিবেদন, ঢাকা
বৃহস্পতিবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:
‘জামায়াত নেতাদের বিএনপির মনোনয়ন দেয়া হবে এটা আগে জানলে আমি ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিতাম না।’
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়াম এক্সপ্রেসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান ডক্টর কামাল হোসেন এমনটি বলেছেন।
তিনি বলেছেন, জামায়াত নেতাদের মনোনয়ন দেয়া হবে জানলে ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিতেন না তিনি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধেও কথা বলেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ।
রাজনীতির বাস্তবতায় হতাশা প্রকাশ করে ড. কামাল বলেন, ‘দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, জামায়াতের সাবেক নেতাদের মনোনয়ন দেয়া হলো বোকামি। আমি লিখিতভাবে বলেছিলাম, জামায়াতের জন্য কোন সমর্থন নেই, ধর্মের নামে রাজনীতির কোন জায়গা নেই, মৌলবাদ, উগ্রপন্থারও কোন স্থান নেই।’
‘জামায়াত নেতাদের বিএনপির মনোনয়ন দেয়া হবে এটা আগে জানলে আমি ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিতাম না। তাদের সঙ্গে আমি একদিনও থাকবো না যদি এসব লোক ভবিষ্যৎ সরকারে কোন পদে আসীন হয়।’
ভারতের সঙ্গে বিএনপির খারাপ সম্পর্কের বিষয়ে ড. কামাল বলেন, ‘ভারতে সফরের সময় খালেদা জিয়া বলেছেন, ভারতের সঙ্গে অতীত কর্মকাণ্ড ভুল ছিলো। তিনি বলেছেন শুধরে নেবেন। তিনি এরইমধ্যে শুধরানো শুরু করেছেন।’
দক্ষিণ এশিয়ার পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি নিয়ে কামাল হোসেন বলেন, ‘কেন আমরা বংশ পরম্পরায় শাসিত হবো। অথচ বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত ও শ্রীলংকায় এটিই হচ্ছে।’
ঐক্যফ্রন্ট গঠনের ইতিবৃত্ত নিয়ে কামাল হোসেন বলেন, ‘বিএনপির মহাসচিব মাস কয়েক আগে আমার সঙ্গে দেখা করতে এলেন তখন আমি আমার পেশাগত কাজেই ব্যস্ত ছিলাম। তিনি আমাকে একটি ফ্রন্টের নেতৃত্ব দিতে বললেন। দেশে যেসব ঘটনা ঘটছিল তা নিয়ে আমি সজাগ ছিলাম। আর তাই তাঁর প্রস্তাবে আমি রাজি হলাম।
ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি কাউকে চ্যালেঞ্জ করছি না। আমি ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ। আমি শুধু আইনের শাসনের সংরক্ষণ ও দেশের গণতন্ত্রের জন্য কাজ করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি নির্বাচনের দিনটির জন্য অপেক্ষা করছি। নির্বাচনের দিনটি স্বাধীনতার দিবসের মতো। নির্বাচন যদি অবাধ ও নিরপেক্ষ হয় তবে সেটা হবে আমাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতা দিবস।’
গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল বলেন, ‘বর্তমানে গণতন্ত্র দুর্বল অবস্থায় আছে এবং গণতন্ত্র খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতা তখনই অর্থপূর্ণ হয়, যখন সেখানে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের জনগণকে দেশের মালিকানা ফিরিয়ে আনতে হবে। সুতরাং, দখলদারের হাত থেকে রাষ্ট্রকে পুনরুদ্ধার করার জন্যই এই নির্বাচন।’
ভোটে জিতে সরকার গঠন করতে পারলে প্রধানমন্ত্রী হবেন কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘আমি হ্যাঁ’ও বলছি না, না’ও না…কিন্তু কোনো পদ বা বেতন ছাড়াই আমি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।’
পুলিশের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ এই নেতা সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘পুলিশ কর্মকর্তারা আমাকে বলেছেন, তাঁরা আমার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। যদি প্রয়োজন পড়ে তবে পুলিশ আমার চেম্বার ও বাড়িতে নিরাপত্তা দেবে।’

আর এইচ

Comments are closed.