rockland bd

বিরোধী দলের প্রচারণায় অব্যাহত হামলা, নির্বাচনকে ঘিরে শঙ্কা

0

ঈশ্বরদীতে বুধবার বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের উপর হামলা

ডেস্ক প্রতিবেদন, ঢাকা
বৃহস্পতিবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:
বাংলাদেশে নির্বাচনী প্রচারণাকে ঘিরে সহিংসতা চরম আকার ধারণ করেছে। বিরোধী দলগুলোর নেতারা বুধবার (২৬ ডিসেম্বর) এ নিয়ে অনেক অভিযোগ করেন। সরকার একতরফা নির্বাচনের পায়তারা চলছে বলে দাবি করছেন তারা।
প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপগুলোর মধ্যে সংঘর্ষে বিরোধী বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি)’র এক প্রার্থী আহত হওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ব্যানার বহনকারী একদল মটরসাইকেল আরোহী যুবকরা আরেক বিএনপি প্রার্থীর উপর ছুরি নিয়ে হামলা চালায়।
পুশিল জানায়, উত্তরাঞ্চলীয় শহর ঈশ্বরদীতে বুধবার বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের উপর মটরসাইকেল আরোহী প্রায় ১৫ জন যুবক হামলা চালায়।
স্থানীয় পুলিশের প্রধান বাহাউদ্দিন ফারুকি বলেন, হামলাকারীরা হাবিবের পিঠে তিনবার ছুরিকাঘাত করে। তিনি গুরুতর আহত হন। তবে শংকামুক্ত।
আগের দিন মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় সিনিয়র বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আহত হন। এসপি এসএম শফিউর রহমান এ কথা জানান। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে রায়ের মুখ বেয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়তে দেখা যায়।
আগামী রবিবারের সাধারণ নির্বাচনের প্রচারণাকে ঘিরে প্রতিদিনই সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় গিয়ে রেকর্ড গড়তে চান। কিন্ত তার দল গণগ্রেফতার ও ভীতি ছড়িয়ে জনগণকে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে চায় বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর বিএনপি ও এর প্রধান সহযোগী জামায়াতে ইসলামীর ১১,৫০০-এর বেশি কর্মী সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দল দুটি দাবি করেছে। সরকারি পক্ষের হামলায় আরো শত শত কর্মী-সমর্থক আহত হয়।

হাজার হাজার গ্রেফতার
নির্বাচনী সহিংসতায় এ পর্যন্ত চার বিএনপি ও দুই আওয়ামী লীগ সমর্থক নিহত হয়েছে।
বিএনপি’র নেতৃত্বাধিন বিরোধী জোট প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদার পদত্যাগ দাবি করেছে। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের সহিংসতাকে সমর্থন করার অভিযোগ আনা হয়।

ঢাকায় মির্জা ফখরুলের ওপর হামলা

বিরোধী জোটের মুখপাত্র ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তার [হুদা] পক্ষে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব নয়। তার কাছ থেকে ন্যায্য আচরণ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
মঙ্গলবার বিকেলে সিইসির সঙ্গে বৈঠক থেকে বিরোধী দলগুলো ওয়াকআউট করে। রবিবারের ভোট গ্রহণের জন্য তারা একজন নিরপেক্ষ সিইসি দাবি করেন।
তারা বলেন, বিএনপি’র ৮,২৪৩ এবং জামায়াতে ইসলামীর ৩,৬০০ কর্মী সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
পুলিশ গ্রেফতারের সংখ্যাটি নিশ্চিত করতে না পারলেও গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা ছিলো বলে দাবি করেছে।
পুলিশের মুখপাত্র সোহেল রানা বলেন, আইন না ভাংলে আমরা কখনো কাউকে টার্গেট করি না।
১৯৯১ সালে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পথে যাত্রা শুরু করার পর থেকেই হাসিনা ও বিএনপি নেতা খালেদা জিয়ার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলে আসছে। তখন থেকে এ পর্যন্ত তারা দুই জনই পালাক্রমে ক্ষমতায় ছিলেন।
তবে বিএনপি ২০১৪ সালের নির্বাচন বয়কট করায় ২০০৯ সাল থেকে হাসিনা ক্ষমতায় রয়েছেন। অন্যদিকে দুর্নীতি মমলার রায়ে খালেদা কারাগারে থাকায় এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। অবশ্য এই মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বিরোধী দল দাবি করছে।
আবার ভোট পাওয়ার জন্য হাসিনা সরকার গত ১০ বছরে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে জনগণের সামনে তুলে ধরতে চাচ্ছে।
নির্বাচন উপলক্ষে গত সোমবার থেকে সারা দেশে ৩০,০০০ সেনা মোতায়েন করা হয়। বিএনপি আশা করছিলো এর ফলে ১৬৫ মিলিয়ন জনসংখ্যার মুসলিম দেশটিতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।
কিন্তু আলমগীর বলেন যে শুধু মঙ্গলবারেই ২৮টি নির্বাচনী এলাকায় বিরোধী প্রার্থীদের উপর হামলা করা হয়েছে। এতে শতাধিক লোক আহত হয়।
সুশিল সমাজ ও অধিকার গ্রুপগুলো হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে ভিন্নমত দমন ও গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করার অভিযোগ এনেছে।

আর এইচ

Comments are closed.