rockland bd

পঞ্চগড়ে নাব্যতা ফেরাতে নদী পুনঃ খনন কাজ শুরু

0

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
বুধবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:
আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে, বৈশাখ মাসে তার হাটু জল থাকে। পার হয়ে যায় গরু পার হয় গাড়ি, দুই ধার উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি। রবী ঠাকুরের ‘আমাদের ছোট নদী’ কবিতার এই পংক্তিগুলো এখন পুরোনো হয়ে গেছে। এখন নদীতে হাটু পানির জন্য আর বৈশাখ মাসের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। পঞ্চগড় জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট-বড় ২৭টি নদীর ওপর দিয়ে বর্ষা শেষ হওয়ার পরই হেটে পার হওয়া যায়। উজান থেকে নেমে আসা অধিকাংশ নদীর উৎসমূখে প্রতিবেশী দেশ নদী শাসন আইন অমান্য করে নদীগুলোর উৎস এবং প্রবেশ মুখে বাঁধ, স্লইস গেইট, জলাধার, ফিডার ক্যানেল, ও রেগুলেটর নির্মাণ করে পানির স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন এবং জেলার ২২১ কিলোমিটার সীমান্তব্যাপী বেড়িবাঁধ নির্মাণের ফলে নদীগুলো ধীরে ধীরে মরা খালে পরিণত হচ্ছে।
দেশের ৬৪ জেলার অভ্যন্তরের ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃ খনন প্রকল্প (১ম পর্যায়) এর আওতায় সারাদেশের ৪৪৮টি ছোট নদী, খাল এবং জলাশয় পুনঃ খনন করা হবে। এই প্রকল্পের আওতায় পঞ্চগড় জেলায় ৫টি নদী ও একটি খাল পুনঃ খনন করা হবে। এ সকল নদী ও খালের ১৬৪ কিলোমিটার পুনঃ খনন করতে ব্যায় হবে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। গতকাল বুধবার সকালে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পাথরাজ নদীর ধারে মোঘলে কেল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন খনন কাজের উদ্বোধন করেন। বোদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ মাহামুদ হাসানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ গোলাম আজম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাঈমুল হাছান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী এনায়েতুল্লাহ, নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান, বোদা থানার অফিসার ইনচার্জ আবু হায়দার মো. আশরাফুজ্জামানসহ স্থানীয়রা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এই প্রকল্পের আওতায় তেতুলিয়া উপজেলার ভেরসা নদীর ১০ কিলোমিটার, সদর উপজেলার চাওয়াই নদী ২০ কিলোমিটার, করতোয়া নদীর ৭৮ কিমি, দেবীগঞ্জ উপজেলার বুড়িতিস্তার ২০ কিলোমিটার, বোদা উপজেলার পাথরাজ নদী ৩০ কিলোমিটার এবং আটোয়ারী উপজেলার বড়সিংগিয়া খালের ৬ কিলোমিটার পুনঃ খনন করা হবে।
পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে ছোট নদী, খাল এবং জলাশয়গুলোতে পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এর মাধ্যমে বছরব্যাপি সেচ সুবিধা বৃদ্ধিও ফলে কৃষি উৎপাদনও বৃদ্ধি হবে। নদী ও খালগুলো পুনরুজ্জীবীত করে মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধিসহ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা হবে। এই প্রকল্প দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।
সামসউদ্দীন চৌধুরী কালাম/রাকিব

Comments are closed.