rockland bd

পুলিশি ধড়পাকড়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে

0

মহাদেবপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি
বুধবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদলগাছী) আসনে বিএনপি নেতাকর্র্মীদের মধ্যে ততই আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে বিএনপির নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। হামলা-মামলায় জর্জরিত ধানের শীষের নেতাকর্মীরা পুলিশি গ্রেপ্তার-হয়রানি এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছে।
বিএনপির অভিযোগ, রাতের আঁধারে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে হানা দিয়ে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে। নির্বাচন থেকে দূরে সরে রাখতে ও আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য পুলিশ হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। ফলে এ দুই উপজেলার কয়েক’শ নেতাকর্মী পুলিশি গ্রেফতার এড়াতে গ্রাম ছেড়েছেন। বিএনপির ক্ষেত্রে সবধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ বিএনপির।

জানা গেছে, নাশকতা পরিকল্পনার অভিযোগে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারী মহাদেবপুর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় গত ১৬ ডিসেম্বর রাতে বাড়ির দরজা ভেঙ্গে উপজেলার রাইগাঁ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোজ্জাম্মেল হক শরিফুল ও সাধারণ সম্পাদক আলী মোর্তুজা বেলালকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একই মামলায় গত ২৪ ডিসেম্বর রাতে উপজেলা সদরের মাছের মোড় থেকে মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন, গত ২৩ ডিসেম্বর খাজুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ উদ্দীন ও গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, হাজিম উদ্দীন এবং আব্দুল কুদ্দুস মৃধাকে মহাদেবপুর থানা পুলিশ গেফতার করে। তফসিল ঘোষনার পর থেকে বদলগাছী থানা পুলিশ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৭ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মামলায় গেফতার করেছে।
বিএনপি প্রার্থী পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনির অভিযোগ, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার-প্রচারণা শুরুর পর থেকেই প্রতিপক্ষের লোকজন আমাদের প্রচারণায় বাধা দিয়ে যাচ্ছে। গত ১৬ ডিসেম্বর রোববার বিকেলে উপজেলার পাঠাকাঠা বাজারে নির্বাচনী গণসংযোগ চালানোর সময় আমাদের এক কর্মীকে মারধর করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু নেতাকর্মীরা। নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার জন্য একই দিন রাত ৩ টার দিকে চেরাগপুর ইউনিয়নের বয়েরা গ্রামে বিএনপির নির্বাচনী ক্যাম্পে ভাঙ্চুর করে তাতে আগুন লাগিয়ে দেয় দুঃস্কৃতিকারীরা। এছাড়া এলাকায় আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য ওই গ্রামের বাসিন্দা বিএনপির কর্মী আতোয়ার রহমানের ধানের পালায় আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। পুলিশ নেতাকর্মীদের অবাধে গ্রেফার করছে। পোস্টার ছিড়ে ফেলা হচ্ছে। দিনের বেলা ধানের শীষের পোস্টার টানালে রাতের বেলাই সেগুলো নাই হয়ে যাচ্ছে। এসব বিষয়ে বারবার অভিযোগ করা সত্তে¡ও প্রশাসন ও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’

জনির নির্বাচনী এজেন্ট যুবদল নেতা লিয়াকত আলী বাবলু জানান, ‘পুলিশি গ্রেপ্তার-হয়রানির ঘটনায় জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না।’

মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘নাশকতা পরিকল্পনার অভিযোগে পূর্বের একটি মামলায় বিএনপির ওইসব নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চলতি বছরের ২২ ফেব্রæয়ারি মামলাটি দায়ের করা হয়। ওই মামলায় সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, পুলিশ তার নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে। কেউ অভিযুক্ত হলে পুলিশ তাকে আটক কিংবা গ্রেফতার করবেই। সেটি বিএনপির নেতাকর্মী আর যেই হোক। অযথা কাউকে হয়রানি করা হচ্ছে না।

নওগাঁ জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান জানান, অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

মো. ইউসুফ আলী সুমন/আর বি

Comments are closed.