rockland bd

নীলফামারী-১ আসনে জাপা প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন

0

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি
সোমবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:

নীলফামারী-১ (ডোমার ডিমলা) আসনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকার ও ডিমলা থানার ওসি মফিজ উদ্দিন শেখের বিরুদ্ধে নির্বাচনী পথসভার স্থান দখল ও প্রচার কাজে বাধার সৃষ্টির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জাফর ইকবাল সিদ্দিকী।
গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গার হাটে জাতীয় পার্টির নির্বাচনী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
জাফর ইকবাল সিদ্দিকী আরও বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নীলফামারী-১ আসনে আমি জাতীয় পাটির্র দলীয় প্রার্থী। গতকাল বিকেল তিনটায় ডিমলা সদরের হাসপাতাল মোড়ের কালীর ডাঙ্গায় আমার নির্বাচনী পথসভার আয়োজন করা হয়। পথসভার জন্য শনিবার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অনুমতিও নেয়া হয়েছে। কিন্তু রোববার সকালে জাতীয় পার্টির নির্ধারিত পথসভার স্থান দখল করে আওয়ামী লীগ দলীয় বর্তমান সংসদ সদস্য ও তার সমর্থকরা নির্বাচনী পথসভার মঞ্চ তৈরী করে। ফলে নির্ধারিত স্থানে আমি পথসভা করতে পারিনি।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অনুমতি নেয়ার পর আমি ডিমলা থানার ওসি মফিজ উদ্দিন শেখকে আমার প্রচার প্রচারনার বিষয়ে অবহিত করলে তিনি আমাকে বলেন, আপনারা এখানে মিছিল মিটিং করলে আমাদের দায়ভার নিতে হবে। তিনি আমাদের মিছিল মিটিং না করার জন্য অনুরোধ করেন। পরে আমি পুলিশ সুপারকে বললে পুলিশ সুপার বলেন, প্রচার প্রচারনায় কোনো বাধা নেই, আপনারা মিছিল মিটিং করতেই পারেন। কিন্তু ওসি সাহেব কোনো দ্বায়িত্ব নিতে চান না।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, ‘ আফতাব উদ্দিন সরকার ডোমার উপজেলার চিলাহাটিতে তার এক নির্বাচনী সমাবেশে নেতা কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী এখানে সভা সমাবেশ করতে চাইলে তোমরা তাকে লাঠি পেটা করবে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এধরনের আচরন নির্বাচনের জন্য সুখকর নয়। এতে করে জনগণ, নির্বাচন কমিশন, সর্বপরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে ডিমলা উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া হোসেন অভিযোগ করে বলেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী যদি নির্বাচনী প্রচারনায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে বাধার মুখে পড়ে, তাহলে মহাজোট থাকলো কোথায়?
উপজেলা জাতীয় পার্টির উপদেষ্ঠা জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী ওই সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, তারা শুধু কালীর ডাঙ্গা মাঠই দখল করে ক্ষান্ত হননি। তারা আমাদের প্রতিটি সভা সমাবেশে বাধা সৃস্টি করছেন। যা নির্বাচনী আচরন বিধি লঙ্ঘনের সামিল।
অভিযোগ অস্বীকার করে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মফিজ উদ্দিন শেখ বলেন, নির্বাচনী আচরণ বিধি অনুসরণ করে প্রার্থীরা প্রচারণা চালাচ্ছেন। আমি বাধা দিব কেন ? তারা কখন কি করতে চেয়েছেন সেটা আমার জানা নেই। বাধা দেয়ার প্রশ্নই আসে না।
আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন সরকার বলেন, সকল অভিযোগ বানোয়াট। মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ করে লাঙ্গলের প্রার্থী শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করছেন।
উল্লেখ্য আসনটি মহাজোটের উম্মুক্ত হওয়া আওয়ামী লীগের প্রার্থী আফতাব উদ্দিন সরকার (নৌকা), জাপার জাফর ইকবাল সিদ্দিকী লাঙ্গল), বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ ন্যাপ’র জবেল রহমান গানি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মো. ইউনুছ আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের(বিএনএফ) মো. সিরাজুল ইসলাম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলামসহ আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।
ডোমার ও ডিমলা (দুই) উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মিলে এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭২ হাজার ৫৩৫ জন।

বি. চ. কা./রিপন

Comments are closed.