rockland bd

আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী নিরপেক্ষ থাকুন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে মির্জা ফখরুল

0

নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে অফির্সাস ক্লাব ষ্টার মাঠে নীলফামারী-৪ আসনের দলীয় প্রার্থী আমজাদ হোসেন সরকার’র নির্বাচনী জনসভা

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি,
শনিবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,‘দেশের আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীকে আওয়ামী লীগ এমনভাবে ব্যবহার করছে যেন মনে হয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আওয়ামী লীগের চাকরী করে।’
শনিবার দুপুরের দিকে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে অফির্সাস ক্লাব ষ্টার মাঠে নীলফামারী-৪ আসনের দলীয় প্রার্থী আমজাদ হোসেন সরকার ভজের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অনুরোধ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,‘ আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। আপনারা কোন দল বা ব্যক্তির কর্মচারী কিংবা কর্মকর্তা নন। আপনাদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। নির্বাচনে জনগণ যাতে ভোট দিতে পারে তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে আপনাদের। আওয়ামী লীগের কথায় যখন তখন গণগ্রেপ্তার করা যাবে না।’
নির্বাচনের কোন পরিবেশ নাই উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘জনগণের মুখে হাসি নাই। নির্বচানের যে লেভেলপ্লেয়িং তৈরী করার কথা ছিল সেই তথাকথিত লেভেলপ্লেয়িং নেই। নির্বাচনের জন্য যে সুষ্ঠ সুন্দর মাঠ থাকার কথা সেই মাঠই নেই আজ।’
তিনি আরো বলেন,‘ আপনারা দেশের মানুষ, আপনারাই এই দেশের মালিক। এই দেশ আপনাদের। সুতরাং আপনারা ভয় পাবেন না, ভয় করবেন না। আপনাদের অধিকার আপনরা আদায় করে নিন। ৩০ ডিসেম্বর আপনারা সকাল সকাল ভোট কেন্দ্র যাবেন এবং আপনাদেও পছন্দেও প্রার্থীকে ভোট দিবেন আর ভোট শেষে ভোট গণনা শেষে বাড়ি ফিরবেন। এটাই আপনাদের কাজ। আপনার অধিকার আপনি রক্ষা করতে না পারলে কেউ আপনার অধিকার রক্ষা করতে পারবে না। যারা জোর করে অধিকার নিতে চাই তারা এ দেশের শক্র।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরো বলেন, ‘দেশের বিচার বিভাগ, ‘আইন বিভাগসহ সরকারর সংস্থাকে হাতের মুঠোয় বন্ধি করে আজ আওয়ামী লীগ বড় বড় কথা বলছে; যে নির্বাচনের মাঠে বিএনপি নেই।
আমরা মাঠে আছি কিনা আপনারা দেখেন, এতো অত্যাচার, নিপীড়নসহ শত শত মামলা দিয়েও আমাদেও দমায় রাখতে পারেনি। আজ সৈয়দপুরসহ দেশের প্রত্যেকটি নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির নির্বাচনী সমাবেশে মানুষের ঢল নামে।’
আওয়ামী লীগের সাহস নেই মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন,‘ গণতন্ত্র ও আমাদের মাতা মহিষী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় কারাগাওে বন্দি কওে রেখেছেন। সাহস থাকেতো বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে নির্বাচন করতে দেন? এতো ভয় কেন? তাকে মিথ্যা মামলায় আটকে রেখেছেন, তাকে ছেড়ে দিন তিনি নির্বাচন করুক, দেখেন কি অবস্থা হয় আপনাদের। আপনার ভীতু সেই জন্য নির্বাচনের ১০ মাস আগে বেগম খালেদা জিয়াকে আপনারা কারাগারে আটক কওে রেখেছেন। মিথ্যা মামলা দিয়ে তারেক রহমানকে দেশের বাহিরে রেখেছেন, ৯২হাজার হাজার মামলা দিয়ে আমাদেও ২৫ লক্ষ নেতাকর্মীকে আসামী করে রেখেছেন।’
নির্বাচন কমিশন ঠুঠো জগন্নথ মন্তব্য কওে তিনি বলেন,‘ঢাল নাই তলওয়াড় নাই তাই তারা কিছুই করতে পাওে না। কিছু বললেই তারা অসহায়ের মতো চুপচাপ বসে থাকেন। আমরা আগেই বলেছি এই নির্বাচন কমিশন দিয়ে কখনই দেশে সুষ্ঠ্য নির্বাচন হতে পারে না। দলীয় সরকারের অধিনে কখনই অবাদ ও সুষ্ঠ্য এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না। এর পরেই আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি; গণতন্ত্রেও আন্দোলনের অংশ হিসেবে। গণতন্ত্রকে উদ্ধার, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত করা এবং তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি আমরা।
এই লড়াই করছি গণতন্ত্রের জন্য; এ লড়াই বিএনপি কিংবা ঐক্যফ্রন্টে কামাল হোসনে বা মির্জা আলমগীরের জন্য লড়াই করছি না। আমরা লড়াই করছি দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য।’
আজ দেশে যখন ধানের শীষের জোয়ার চলছে তখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিভিন্ন রকমের মামলা, হামলা চালিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীদের নির্বাচনী মাঠ থেকে সড়িয়ে দিচ্ছেন। আমরা এতো ভীত নই যে আপনাদের মামলা আর হামলার ভয়ে মাঠ ছেড়ে চলে যাবে। জীবনের শীষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকবো এবং ৩০ তারিখের নির্বাচনের ভোটের গণণা শেষে বিজয় নিয়ে বাড়ি ফিরবো।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরো বলেন,‘ আদালত, পুলিশ ছাড়া এখন আওয়ামী লীগের কিছু নাই। জনগণ তাদেও সাথে নেই, জনগণ তাদেও সাথে তাকলে বা জনগণ কে বিশ্বাস করলে এবং আস্তা থাকলে আজকে আওয়ামী লীগকে এই আদালত আর পুলিশ নিয়ে থাকতে হতো না। আওয়ামী লীগ ভীত হয়ে আজ জনগণের কাজে পরাজিত। তাই তোমরা (আ.লী) মানুষ বাদ দিয়ে অন্য কিছুর দিয়ে বিএনপিকে পরাজিত করতে চাও। জনগণ আমাদেও সাথে আছে তাই তোমরা যতই পরিকল্পনা করোনা কেন আমাদেও পারাজিত করতে পারবেনা।’
আওয়ামী লীগ ও নৌকা ইতোমধ্যেই পরাজিত গেছে। জনগণ থেকে সর্ম্পূণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। যে কারণে তারা এখন আদালতের হুমকি দেখায়, সরকারের আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থাকে দিয়ে হুমকি দেখায়। জনগণের সাথে নির্বাচন যুদ্ধে জয়ী হতে পারবে না বলেই তারা এসব অপকৌশলের আশ্রয় নিয়েছে।
৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন জাতির কাছে সবচেয়ে গুরুত্ব পূর্ণ । কারন এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত গৃহিত হবে এই দেশে গণতন্ত্র থাকবে, কি থাকবে না। আমরাকি আমাদেও ভোটে আমাদেও প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারবে, নাকি শৈরাচার ফেসীবাদী সরকার জনগণের রায়কে উপপেক্ষা কওে জোর করে ক্ষমতা দখল কওে নিবে। এই নির্বাচনে সিদ্ধান্ত গৃহিত হবে আমরা কি স্বাধীন জাতি হিসেবে টিকে থাকবো নাকি শৃঙ্খলীত জাতি হিসেবে বন্ধি থাকবো। আমাদেও তরুণ যুবককেরা দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে থাকবে নাকি ঐই শৃঙ্খলিত অবস্থায় তাদেও ভবিষ্যৎ টিকে থাকবে। আমাদেও মা বোনেরা স্বাধীন ভাবে মাথা উচুঁ করে চলতে পারবে নাকি মাথা নিচুঁ কওে চলবে সব সিদ্ধান্ত হবে এই নির্বাচনে।
তিনি আরো বলেন‘, আওয়ামী লীগ গত ১০ বছরে শৈরাচার এবং ফেসীবাদের মতো একটি পাথর হয়ে আমাদেও বুকের ওপড় চেপে বসে রয়েছে। এই পাথর চাপা দিয়ে তারা আমাদেও বাকস্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার কওে নিয়ে রাষ্ট্র যন্ত্রকে একে একে ধ্বংস কওে দিয়েছে। এখন আদালতে গেলে বিচার পাওয়া যায়না। প্রশাসনের কাছে গেলে তারা আওয়ামী লীগ ছাড়া কিছুই দেখেন না। আমাদের ছেলে-মেয়েরা চাকরীর জন্য তাদের কাছে গেলে আমাদের ছেলে-মেয়েদের চাকরী দেওয়া হয়না। আমাদেও সন্তানদেও চাকরী নিতে হলে ১০ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হয়।’
উন্নয়নের নামে আওয়ামী লীগ নিজেদের উন্নয়ন ঘটিয়েছে মন্তব্য কওে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,‘ আমাদেও জনগণের পকেট কেটে টাকা চুরি করে আওয়ামী লীগ সরকার নিজেদের পকেট ভর্তি করেছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানিসহ সব কিছুর দাম বাড়িয়ে বাড়িয়ে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাহিরে চলে গেছে।’
আওয়ামী লীগ কথা দিয়ে কথা রাখেনা মন্তব্য কওে তিনি বলেন, ‘কৃষকদের বিনামূল্যে সার দেওয়ার কথা দিলেও তারা বিনা মূল্যে সার দেয়নি। আজ কৃষকরা বাজার থেকে ১২শ’ থেকে ১৩শ’ টাকায় ইউরিয়া সার কিনতে হচ্ছে। ১০ টাকার কেজি দওে মানুষকে চাউল দেওয়ার কথা বললেও আজ সেই চাল ৪০ থেকে ৫০ টাকায় কিনে খেতে হচ্ছে জনগণকে। প্রত্যেকটি নিত্যপণ্যেও দাম তারা তিন থেকে ছয় গুন বাড়িয়েছে।’
সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল গফুর সরকারের সভাপতিত্বে এসময় ধানের শীষের প্রার্থী আমজাদ হোসেন সরকার ভজে, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বিলকিস ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

বি.কে. চক্রবর্তী/আর এইচ

Comments are closed.