rockland bd

নির্বাচনী হুমকি বাড়ছে, আত্মগোপনে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা

0

বিরোধী দলের নির্বাচনী প্রচারনায় পুলিশের ধাওয়া।

ডেস্ক প্রতিবেদন, ঢাকা
শুক্রবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:
দলীয় অফিস ছেড়ে বাইরে যেতে ভয় পাচ্ছেন বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে বিরোধী দলের একজন প্রার্থী সুব্রত চৌধুরী, কারণ নির্বাচনী প্রচারণাকালে মৃত্যু আর হুমকি প্রতিদিনই বাড়ছে।
ঢাকার এই আইনজীবীর এখন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে মানুষের হাতে লিফলেট বিতরণ করার কথা। কিন্তু তিনি বললেন, এটা এখন খুবই বিপজ্জনক এবং তার দল অভিযোগ করেছে যে প্রার্থীদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ কিছুই করছে না।
অব্যবহৃত পোস্টার ব্যানারের মধ্যে বসে চৌধুরী বললেন, “এই সব পোস্টার লাগাতে গিয়ে আমরা ক্ষমতাসীন দলের লোকদের হামলার কবলে পড়েছি। পুলিশ হয় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখেছে, না হয় তাদের সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেছে”।
নির্বাচনী প্রচারণাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মধ্য সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছে।
নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য সারা দেশে ২০ হাজারের বেশি আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করেছে। সেনাবাহিনীও মোতায়েন করা হবে।
কিন্তু বিএনপি এতে আশ্বস্ত নয়।
তারা বলেছে তাদের অন্তত চারজন দলীয় কর্মী নিহত হয়েছে। একই সাথে গত সপ্তাহে কয়েক হাজার আহত হয়েছে।
দলটি দাবি করেছে যে, ৩০০ বিরোধী দলের প্রার্থীর মধ্যে ১৫২ জনের উপরই হামলা হয়েছে। তাছাড়া গত মাসে ১৪ প্রার্থীসহ ৮৭০০ নেতাকর্মীকে প্রচারণাকালে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আতঙ্কিত ভোটার
বিরোধী দল বলছে, তাদের সমাবেশে পুলিশ ছড়ড়া গুলি ও টিয়ার গ্যাস ছুড়ে সভা ভেঙে দিয়েছে। ফলে ভোটাররা আতঙ্কিত হয়ে বিরোধী পক্ষের প্রতি সমর্থন দেখাচ্ছে।
চৌধুরির মতো প্রার্থীরা আরও সরব হওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু প্রচারণা চালাতে গিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমর্থকদের হুমকির মুখে পড়েছেন তিনি।
দুজন আওয়ামী লীগের সমর্থকও বিরোধীদের সাথে সংঘর্ষে নিহত হয়েছে।
পুলিশ সভা সমাবেশে হস্তক্ষেপ বা বিরোধী নেতাকর্মীদের হয়রানি করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিরোধী প্রার্থীসহ যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারের ওয়ারেন্ট রয়েছে বলে পুলিশের দাবি।

একতরফা দৌড়
মানবাধিকার গ্রুপ ও সরকারের সমালোচকরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার দিকে যাচ্ছে না।
নিউইয়র্ক ভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া ডিরেক্টর ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, “প্রধান বিরোধী দলের সদস্য এবং সমর্থকদের গ্রেফতার করা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে, এমনকি গুমও করা হয়েছে। একটা ভয় ও দমনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে যেটা বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের জন্য অনুকূল নয়”।
২০১৪ সালে নির্বাচন বয়কট করেছিল বিএনপি। সে সময় একতরফা নির্বাচনে হাসিনা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ক্ষমতায় গিয়েছিলেন। সেই একই আশঙ্কা এবারও করছেন অনেকেই।
সে সময় থেকেই হাসিনা এবং তার দলের বিরুদ্ধে ক্রমেই স্বৈরাচারি আচরণ, বিরোধীদের দমন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দিয়ে মিডিয়াকে দমনের অভিযোগ উঠেছে। সূত্র: সাউথ এশিয়ান মনিটর

আর এইচ

Comments are closed.