rockland bd

নাটকীয় ম্যাচে হার বাংলাদেশের

0

cricketখেলা ডেস্ক: বাংলাদেশের আরেকটি দুর্দান্ত জয়ের সাক্ষী হতে পারতেন ‍মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। এই জুটি মিলে এক পর্যায়ে দিশাহীন হয়ে পড়া বাংলাদেশকে শেষ পর্যন্ত কূলে পৌঁছিয়ে দিয়েছিলেন। ১২ বলে ৩০ লাগে এমন কঠিন সমীকরণও মুশফিক সহজ করে দিয়েছিলেন টানা ৫ চারে। রশিদের শেষ ওভারের প্রথম বলে মুশফিক ফিরে এলেও হাল ছাড়েননি বাংলাদেশ। লড়ে গেলেন শেষ ওভারের শেষ বল পর্যন্ত।
কিন্তু ওই বলে নাটকীয়তার রোমাঞ্চই জাগাতে পারল শুধু। হেরে গেল মাত্র ১ রানে। ফলে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা নিয়েই দেরাদুনের দুঃস্বপ্ন শেষ করল টাইগাররা।
মুশফিক ১৯তম ওভারে কমির জান্নাতকে পরপর ৫টি চার মেরে বাংলাদেশকে জয়ের সম্ভাবনা দেখাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ২০তম ওভারে রশিদ খান এসে সেই সম্ভাবনায় পানি ঢেলে দিলেন। প্রথম বলেই ফিরিয়ে দিলেন মুশফিককে। আর তাতেই হাত ফস্কে যায় ম্যাচটি।
৭ জুন ভারতের দেরাদুনে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৬ রান করে আফগানিস্তান। জবাবে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৪ রান করে বাংলাদেশ। ৩৭ বলে ৪৬ রান করে ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন মুশফিকুর রহিম। ম্যান অব দ্য সিরিজ হয়েছেন রশিদ খান।
দলীয় ৫৩ রানের মাথায় চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান যখন আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে তখন বড় বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
তখন মুশফিকুর রহিমের সাথে এসে যোগ দেন মাহমুদউল্লাহ। দুইজন মিলে ৬৪ বলে ৮৪ রান করে জয়ে স্বপ্ন দেখান বাংলাদেশকে। শেষ ২ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৩০ রান। ১৯তম ওভার করতে আসেন করিম জান্নাত। তার ওভারে পরপর ৫টি চার মারেন মুশফিক। শেষ ওভারে এক রান নিয়ে আবার স্ট্রাইক নেন।
কিন্তু শেষ ওভারের প্রথম বলে রশিদ খানকে তুলে মারতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে নাজিবুল্লাহ জাদরানের তালুবন্দী হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। এরপর মাহমুদউল্লাহ ও আরিফুল হক মিলে চেষ্টা করলেও হার এড়াতে পারেননি।
শেষ বলে চার রানের প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। রশিদকে লঙ অনে তুলেও মেরেছিলেন আরিফ। কিন্তু শফিউল্লাহর দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে বাউন্ডারির সীমানা পার হতে পারেনি বল। তিন রান নিতে গিয়ে রান আউটের শিকার হন মাহমুদউল্লাহ। ৩৮ বলে তিনি করেছেন ৪৫ রান।
এর আগে দলীয় ১৬ রানের মাথায় মুজিব উর রহমানের বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান তামিম।
তিন নম্বরে নেমে ভালোই খেলছিলেন সৌম্য সরকার। একটি ৬ ও একটি চারে মিলিয়ে করেছিলেন ১৫ রান, ১৩ বলে। কিন্তু তারপরই রান আউটের শিকার হয়ে ফিরে গেলেন তিনি। এদিকে ওপেনার লিটন দাসকেও মনে হচ্ছিল বেশ সাবলীল। কিন্তু একই ওভারে তিনিও ফিরে গেলেন রান আউট হয়ে।
এদিন টস ভাগ্যও ছিল আফগানদের পক্ষে। টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং বেছে নেন আফগান অধিনায়ক আসগর স্ট্যানিকজাই। দুই ওপেনার মোহাম্মদ শাহজাদ ও উসমান ঘনি মিলে ৫৫ রান এনে দেন। এদিন ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা আফগান ওপেনার শাহজাদকে এদিন বেশি বাড়তে দেননি নাজমুল ইসলাম অপু। দলীয় অষ্টম ওভারের চতুর্থ বলে এলবিডাব্লু ফাঁদে ফেলে শাহজাদকে সাজঘরের পথ দেখান অপু।
২১ বলে ২৬ রান করেছেন শাহজাদ। এরপরই আঘাত হানেন রাহী। নিজের করা প্রথম ওভারের পঞ্চম বলে অন্য ওপেনার ওসমান গনিকে (১৯) মুশফিকুর রহিমের তালুবন্দী করেন।
এরপর আফগান অধিনায়ক আসগর স্ট্যানিকজাইকে ফেরান আরিফুল হক। আফগানদের দলীয় রান তখন ৯৫। ৬টি ছক্কার সমন্বয়ে ১৬ বলে স্ট্যানিকজাই করে ফেলেছেন ২৭ রান। তখনই আরিফুলের বলে বদলি নামা ফিল্ডার সাব্বির রহমানের তালুবন্দী হন স্ট্যানিকজাই। এরপর আবার আঘাত হানেন রাহী। মোহাম্মদ নবীকে এদিন ৩ রানের বেশি করতে দেননি তিনি।
১৫ তম ওভারের প্রথম বলে নবীকে আউট করেন রাহী। তবে শেষ দিকে একটু বেশি রান দিয়ে ফেলে বাংলাদেশের বোলাররা। শেষ ৫ ওভারে ৪৪ রান তুলে নেয় আফগানরা। হারায় দুইটি উইকেট। সাকিব তুলে নেন নাজিবউল্লাহ জাদরানের (১৫) উইকেট। আর অপু ফেরান শফিউল্লাহকে (৪)। সামিউল্লাহ শেনওয়অরি ৩৩ রানে ও রশিদ খান ১ রানে অপরাজিত থাকেন।
বাংলাদেশের হয়ে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন অপু ও রাহী। এছাড়া সাকিব ও আরিফ একটি করে উইকেট নিয়েছেন।
বাংলাটুডে/এবি

Comments are closed.