rockland bd

রোহিঙ্গা হত্যাকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দেয়ার আহ্বান মার্কিন সিনেটরদের

0

গত বছরের অগাস্ট থেকে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

বিদেশ ডেস্ক,
বৃহস্পতিবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:
সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটরদের উভয়দলীয় একটি গ্রুপ।
গতকাল বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে দেওয়া এক চিঠিতে এ আহ্বান জানান তারা।
গত বছর মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকটি সীমান্ত চৌকিতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা হামলা চালানোর পর রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে দমন অভিযান শুরু করে দেশটির সামরিক বাহিনী।
এ দমনাভিযানের মুখে গত বছরের অগাস্ট থেকে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।
মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর এ দমনাভিযানকে জাতিগত নির্মূল অভিযান বলে বর্ণনা করেছে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অন্যান্যরা।
জাতিগত নির্মূল অভিযানের অভিযোগ অস্বীকার করেছে মিয়ানমার।
মার্কিন সিনেটরদের ওই গ্রুপটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেওর কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে বলেছেন, “পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব প্রতিবেদনে গণহত্যার সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও মন্ত্রণালয় গণহত্যার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে দৃঢ় আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না নেওয়ায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।”
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর পদক্ষেপ নিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক অবস্থান নেওয়ার জন্য পম্পেওর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ওই সিনেটররা।
চিঠিতে বলা হয়েছে, “সন্ত্রাস ছড়ানো, তাড়িয়ে দেওয়া এবং রাখাইনের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নির্মূল করা-উত্তর রাখাইন রাজ্যের এসব সহিংসতা কোনো প্রশ্ন ছাড়াই গণহত্যার সংজ্ঞার সঙ্গে খাপ খায়।”
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ওই পদক্ষেপকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণহত্যা আখ্যা দিতে ব্যর্থ হওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য ‘সত্য বলা ও দায়িত্ব’ অস্বীকার করা হবে এবং ‘মানবাধিকার, মর্যাদা ও জবাবদিহিতার প্রচার ও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে’ মার্কিন জাতির উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে ‘কলঙ্কা লেপন’ করা হবে।
রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ‘গণহত্যা’ ঘোষণা করলে আইন অনুযায়ী ওয়াশিংটনকে নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিতে হতে পারে। তাই এ ধরনের ঘোষণার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি অংশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে মন্তব্য রয়টার্সের।
সেনাবাহিনীর অভিযানের আগে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের যে অঞ্চলটিতে রোহিঙ্গারা বসবাস করতো এরইমধ্যে সে এলাকাটির আমূল রূপান্তর ঘটিয়ে ফেলা হয়েছে এবং এটি সেখানে রোহিঙ্গাদের ফেরা আরও জটিল করে তুলেছে বলে মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে রয়টার্স।
রোহিঙ্গা শরণার্থী বিষয়ক সংকট নিরসনে মিয়ানমারকে জাতিসংঘের সঙ্গে মিলে কাজ করতে চাপ দিতে দেশটির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে নিরাপত্তা পরিষদ। সূত্র: রয়টার্স

আর এইচ

Comments are closed.