rockland bd

হামলা, গ্রেপ্তারের বিষয়ে কূটনীতিকদের জানালো ঐক্যফ্রন্ট

0

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার।

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
বুধবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কূটনীতিকদের জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
বৈঠক শেষে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সহিংসতা পরিহার করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল রবার্ট মিলার।
আজ (১৯ ডিসেম্বর) বুধবার রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।
দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে ওই বৈঠক শুরু হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।
কাউকে দেখলেই পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে কামাল হোসেন বলেন, ‘পুলিশ অসাধারণভাবে তৎপর। এত পুলিশ রাস্তায় টহল দিতে আমি দেখিনি। কাউকে দেখলেই তারা ধরে বসে। কারণ ছাড়াই ধরছে। মানুষ পুলিশি সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছে। সরকার ভয়ভীতির সৃষ্টি করছে। তারা চাচ্ছে বিরোধীরা যেন নির্বাচনে না আসতে পারে।’
তবে তাঁর কথা শুনে পুলিশের মহাপরিদর্শককে চিঠি দেওয়ার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) ধন্যবাদ জানান তিনি। ঐক্যফ্রন্টের এই শীর্ষ নেতা বলেন, দেশের মানুষ অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। সিইসি কে এম নূরুল হুদার অধীনে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সে আশঙ্কার কথা উনাকে নিজেই বলে এসেছি। তাঁর নিষ্ক্রিয়তা আমাদের খুব উদ্বিগ্ন করে।’
বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকারের চাপেই হোক বা নির্দেশেই হোক নির্বাচন কমিশন সবকিছু দেখেশুনেও চুপ করে থাকে। বৈঠকে উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে কথা বলেছি।’
তবে কূটনীতিকেরা কী বলেছেন, তা তিনি জানাননি। কূটনীতিকদের কাছে কী ধরনের সহযোগিতা চান—এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা যাতে নির্বাচনে অংশ নিই, সে জন্য তারা বহু অনুরোধ করেছে। আমরা তো নির্বাচনে গেলাম। প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছিলেন সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। মামলা ও গ্রেপ্তার হবে না। কিন্তু তা বন্ধ হয়নি।’ সরকার তার কোনো কথাই রাখছে না বলে অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা।
কূটনীতিকদের মধ্যে অংশ নেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত, অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার, পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার, তুরস্কের রাষ্ট্রদূতসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও পলিটিক্যাল সেক্রেটারিরা।
বৈঠকে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার ও নির্বাহী কমিটির সদস্য জেবা আমিন খান প্রমুখ।
এসময় নির্বাচন পদ্ধতি সুষ্ঠু রাখার আহ্বান জানান ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার।
বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে অংশ নেয়া ঐক্যফ্রন্ট নেত্রী জেবা আমিন খান জানান, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে ড. কামাল হোসেন ও নজরুল ইসলাম খান কূটনীতিকদের বিফ্রিং করেছেন। নির্বাচন নিয়ে দেশে যা হচ্ছে, সরকারি দল বিরোধী দলকে মাঠে দাঁড়াতে দিচ্ছে না এবং মামলা-হামলার বিষয়ে ব্রিফ করা হয়েছে। বিভিন্ন হামলার ভিডিও ফুটেজও দেখানো হয়েছে তাদের।

আর এইচ

Comments are closed.