rockland bd

নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে শিক্ষক ও ছাত্রের লড়াই

0

মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক ও সামসুল আলম প্রামাণিক

নওগাঁ প্রতিনিধি,
বুধবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:
আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এবারই প্রথম কোন ক্ষমতাসীন দলের অধিনে নির্বাচনে যাচ্ছে সবগুলো রাজনৈতিক দল।
এরই মধ্যে সারাদেশে উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দিন-রাত শীতকে উপেক্ষা করে চলছে নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা। জেলার ৬টি আসনের মধ্যে মান্দা হচ্ছে একক এবং বৃহত্তম একটি আসন।
তবে আ’লীগ প্রার্থী পুলিশ পাহারায় নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালালেও বিএনপি প্রার্থী কোন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন সামসুল আলম প্রামানিক।
তিনি বলেন, তাকে নির্বাচনী মাঠে নামতে না দেওয়ার জন্য নির্বাচনী অফিস ভাংচুর, পোস্টার-ব্যানার ছিড়ে ফেলা, রাতের আধাঁরে তার নেতাকর্মীর বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে পুলিশ-র‌্যাব ভয়ভীতি ও হুমকি-ধামকী প্রদান, কর্মী ও নেতাদের বিনা কারণে আটক করে জেল-হাজতে পাঠানোসহ অনেকভাবে বাধা দেয়া হচ্ছে।
নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ বিভিন্ন দল ও জোটের প্রার্থীরা নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ করে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
চলছে লিফলেট বিতরণ আর ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়। নিজ নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষে স্লোগান দিচ্ছেন কর্মী-সমর্থকরা। সাদা-কালো পোস্টার ও ব্যানারে ছেঁয়ে গেছে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট ও হাট-বাজারগুলো।
এ আসনে লড়াই হবে মূলত আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত প্রার্থী প্রবীন ও বর্ষিয়ান নেতা পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক এবং বিএনপি থেকে মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য সামসুল আলম প্রামাণিকের মধ্যে।
তাদের দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক শিক্ষক ও ছাত্র। এ আসনে ১৯৯১ সালে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা নাসির উদ্দিন জিহাদির কাছে পরাজিত হন।
১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত পরপর তিনবার নির্বাচিত হন বিএনপির সামসুল আলম প্রামাণিক। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবদুল লতিফ শেখ।
স্বতন্ত্র থেকে মনোনয়ন নেন মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক। সে সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রায় ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী বিএনপির মনোনীত সামসুল আলম ও আওয়ামী লীগ মনোনীত আবদুল লতিফ শেখকে পরাজিত করে বিজয়ী হন মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক। ওই নির্বাচনে আব্দুল লতিফ শেখ প্রায় ৩৬ হাজার ভোট পান।
এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আবার মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক নির্বাচিত হন। এর কিছুদিন পর তিনি বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান।
প্রামাণিক মন্ত্রী হয়েও গত ১০ বছরে এলাকার কাঙ্খিত তেমন উন্নয়ন করতে পারেননি। জেলার অন্য উপজেলা থেকে উন্নয়নের দিকে এ উপজেলাটি অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে এলাকার উন্নয়নসহ বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন আ’লীগের প্রার্থী।
মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন বলেন, আমি মান্দাবাসীর জন্য তেমন কিছুই করতে পারিনি। তবে তাদের জন্য অনেক কিছু করার ইচ্ছে আমার আছে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে মান্দাবাসী আবারও নৌকাকে জয়ী করবে। আগামীতে আমি নির্বাচতি হলে আমার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করবো। আমার বিশ্বাস মান্দাবাসী আমাকে ভোট দিয়ে অবশ্যই জয়যুক্ত করবেন।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সামসুল আলম প্রামাণিক বলেন, আমার স্যারের অনেক বয়স হয়েছে। তিনি কেন এখনো রাজনীতি করছেন তা আমার জানা নেই। তিনি আমার একজন প্রিয় স্যার। কোথায় তিনি আমাকে ছাত্র হিসেবে সহযোগিতা করবেন কিসের কি উল্টো তিনি আমাকে দমন করার জন্য আমার এবং আমার নেতাকর্মীদের উপর দিয়ে স্টিম রোলার চালিয়ে দিচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, স্যার যতই পায়তারা করুন না কেন এবার মান্দাবাসী বিপুল ভোটে ধানের শীষকে বিজয়ী করবেন বলে আমি আশাবাদি। কারণ আমি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও তিনবার এমপি থাকাকালীন সময়ে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করার চেষ্টা করেছি। অতীতে কোনো এমপি, এমনকি বর্তমান মন্ত্রী আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকও সে কাজ করতে পারেননি। জনগণ এলাকার উন্নয়ন দেখতে প্রার্থীর পরিবর্তন চাইছেন।

রহিদুল ইসলাম রাইপ/আর এইচ

Comments are closed.