rockland bd

পুনর্বাসন ছাড়াই উচ্ছেদ করা হচ্ছে কাউনিয়া বাঁধে আশ্রয় নেয়া ভূমিহীন মানুষদের

0

পুনর্বাসন ছাড়াই উচ্ছেদ করা হচ্ছে কাউনিয়া বাঁধে আশ্রয় নেয়া ভূমিহীন মানুষদের

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি,
মঙ্গলবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:
কাউনিয়ায় তিস্তা নদীর কড়াল গ্রাসে ভাঙ্গনের শিকার হয়ে বাড়ি-ঘর জমি হারেিয় নিঃস্ব পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছিল তিস্তা নদীর ডানতীর বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধে। বাঁধের রাস্তায় মাথা গোজার কোন মতে ঠাই করে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছিল তাদের।
ওরা স্বপ্ন দেখছিল সরকার ওদের বসবাসের জন্য খাসজমি বরাদ্দ দিবে। সেই স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে গেলে।
ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড উচ্ছেদের জন্য ৩ দফা নোটিশ প্রদান করে। এসব ভুমিহীন মানুষদের পুনর্বাসন ছাড়াই বাড়ী ঘর উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
ভোট আসলে নেতা কর্মীরা কত আশার বাণী শোনায় কিন্তু তাদের এই বিপদের দিনে কোন নেতা-কর্মীদের পাশে পাচ্ছেনা তারা। এখন একখন্ড ভিটার জন্য বাঁধে বসবাসরত মানুষগুলোর বোবা কান্না ছাড়া আর কিছুই নাই। সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ১৯৭৬-৮৮ পর্যন্ত খরস্রোতা তিস্তা নদীর কড়াল গ্রাসে বাপ-দাদার ভিটামাটি হারা মানুষগুলো বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের নিচে শুধু বসতবাড়ি নয়, দোকান পাট, গবাদিপশুর খামার, বাঁশবাগানসহ আরো অনেক কিছু গড়ে তোলে।
ভাসমান মানুষ হিসেবে বাঁধে আশ্রয় নিলেও তারা ভোটার হয়েছেন। পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে বসতবাড়ীর ট্যাক্সও দিচ্ছেন। তবুও সেই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলতে হচ্ছে তাদের।
রংপুর পাউবো বিভাগ-১ কার্যালয় সুত্রে জানানো হয়, তিস্তা ডানতীর বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধটি ঝুঁকিপুর্ণ হয়ে পড়েছে। বাঁধটি পুনঃনির্মাণ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার হারাগাছ পৌরসভা, শহীদবাগ, বালাপাড়া, টেপামধুপুর ও হারাগাছ ইউনিয়নের ১৪ দশমিক ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত কাজ শুরু হয়েছে।
বাঁধে আশ্রিত প্রায় ৪ হাজার পরিবারের প্রায় ২০ হাজার মানুষ এখন গৃহহারা হয়ে পথে বসেছে। কেউ কেউ অন্যের জমিতে আপাতত ঘর তুলছে, আবার অনেক ভুমিহীন পরিবার নতুন করে বাড়ি করার জায়গা না পেয়ে ঘর-বাড়ী নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
ঠাকুরদাস গ্রামে বাঁধে আশ্রিত ভুমিহীন বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ কুদ্দুছ মিয়া (৬০), নাজিরদহ গ্রামের আয়শা বেগম (৫৬) বলেন, নদী হামার ঠিকানা কারি নিচে। এই বানই (বাঁধয়েই) হামার একনা ঠিকানা আছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকেরা এ্যালা হামাক বান (বাঁধ) থাকি ঘর ভাঙ্গি দিবার নাগছে। ভাঙ্গা ঘর নিয়া হামরা এ্যালা কোনটে জামো।
কথাগুলো তাদের একার নয় ওই বাঁধে আশ্রিত সহাস্রাধিক পরিবারের সকলের।
বাঁধ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে হাজার হাজার মানুষ অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। থাকার ঘর এলোমেলো, রান্না ঘর নেই, টয়লেটের কোনো ব্যবস্থা নেই। দুই চালা একত্রিত করে অনেকে ঘর বানিয়েছেন। আবার অনেকের ঘরে বেড়া থাকলেও নেই চালা। অনেকে আবার ছোট শিশুদের নিয়ে পড়েছেন বিপাকে।
এরপর এই সংকট মোকাবিলা করে পরিবার গুলোকে রোজগারের চিন্তাও করতে হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম নাজিয়া সুলতানা জানান, পানি উন্নয়ন বিভাগ থেকে উচ্ছেদের বিষয়টি আমাকে জানানো হয়নি। জানালে হয়তো ভুমিহীন পরিবারগুলোকে খাসজমিতে বাসস্থানের ব্যবস্থা করা যেত। তারা আবেদন করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাহাফুজার রহমান মিঠু জানান, বিজয়ের ও নির্বাচনের মাসে এভাবে ভুমিহীন পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন না করে উচ্ছেদ করা ঠিক হচ্ছে না। নদীগর্ভে ঠিকানা হারানো মানুষগুলো শীতের হিমেল ঠান্ডায় স্থায়ীভাবে ঠিকানাহীন হয়ে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড রংপুর এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ হারুন অর রশিদ মুঠোফোনে জানান, উচ্ছেদের বিষয়টি জেলা প্রশাসকের দপ্তরে অবগত করা হয়েছে। আর বাঁধে বসবাসরতদের সরকারি জমিতে এত বছর ধরে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এখন বাঁধ পুনঃসংস্কারের প্রয়োজনে বাঁধের বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এজন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুযোগ নেই।

সারওয়ার আলম মুকুল/আর এইচ

Comments are closed.