rockland bd

পঞ্চগড়সহ উত্তরের জেলাগুলোতে পৌষেও শীতের দেখা মিলছে না

0

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
শনিবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:
হেমন্তে পেড়িয়ে শীতের আগমন হলেও শীতের দেখা মিলছে না পঞ্চগড়সহ উত্তরের জেলাগুলোতে। পৌষ-মাঘে হাড়কাঁপানো শীত দিয়ে বসন্তকে স্বাগত জানিয়ে বিদায় নেয় শীতকাল। শীত মানেই হিমালয় থেকে বয়ে আসা হীমশীতল হাওয়া আর দিগন্তজুড়ে ঢাকা ভারী কুয়াশা। শরীর উষ্ণ করার জন্য সকলের সাধ্যমত চেষ্টা। কুয়াশাঘেরা সকালে ঝাড়-পাতা দিয়ে উনুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টার সাথে এক ধরণের সিদ্ধ পিঠা আগুনে পুড়িয়ে খাওয়ার উৎসব।
সেই সাথে হীমশীতল সকালে খেজুরের টাটকা রস পান। ছিন্নমূল আর খেটে খাওয়া মানুষদের একটি শীতবস্ত্রের জন্য দিক-বিদিক ছোটাছুটি; শীতের চিরায়ত এমন চিত্র ধীরে ধীরে ম্লান হতে বসেছে। কিন্তু ভর শীত মৌসূমেও দেখা মিলছে না জমপেশ শীতের। পরিবেশবিদরা বলছেন, বায়ুমন্ডলে অধিক পরিমাণে কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃস্বরণের কারণে আবহাওয়ার ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে। ষঢ় ঋতুর দেশ বাংলাদেশ তার ঋতু বৈচিত্রও হারিয়ে ফেলছে। এখন দৃশ্যমান হচ্ছে মাত্র তিনটি কাল। গ্রীষ্ম, বর্ষা আর শীত। এই তিনটি কালের মধ্যে শীতকালও ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে।
ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পৌষ ও মাঘ মাস শীতকাল। তবে পঞ্চগড়সহ উত্তরের জেলাগুলোতে শীতের আগমন ঘটে হেমন্তের একেবারে শুরু থেকেই। হিমালয়ের একেবারে কাছে অবস্থান হওয়ায় সারা দেশের মধ্যে এই অঞ্চলে প্রতি বছরই শীতের তীব্রতা বেশী থাকে। পৌষ-মাঘের শীতে কাবু হয় এই অঞ্চলের মানুষগুলো। শীতজনীত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় বৃদ্ধ ও ছিন্নমূল মানুষেরা। শীতবস্ত্রের জন্য হাহাকার পড়ে যায় চারদিকে। সরকার ছাড়াও শীতার্ত মানুষদের সহায়তায় এগিয়ে আসে বিভিন্ন সংগঠন ও বিত্তবান মানুষরা। প্রতিদিনই বিভিন্ন প্রান্তে বিলি করা হয় কম্বলসহ বিভিন্ন শীতবস্ত্র। কিন্তু তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রমেই শীতের তীব্রতা কমে যাচ্ছে এই অঞ্চলে। এখন শীতকাল মনে হয় সন্ধ্যার পর থেকে সকাল পর্যন্ত। উত্তরের হিমেল বাতাসের সঙ্গে রাত বাড়ার সাথে সাথে ঘন কুয়াশা শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়। হু হু করে নেমে যায় ব্যারোমিটারের পারদ। আবার সকালে পুরো তেজ নিয়ে সূর্য উদয় হয়।দ্রুত বাড়তে থাকে তাপমাত্রা। দুপুরে রোদের মধ্যে দাড়িয়ে থাকা দায় হয়ে যায়। ডিসেম্বরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পঞ্চগড়ের সর্বমিন্ম তাপমাত্রা একদিনের জন্য ৮.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসে নামলেও এখন তাপমাত্রা কমার চেয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে ২৮ ডিগ্রী সেলসিয়াসের উপরে। হঠাৎ এমন আবহাওয়ার বিরুপ প্রতিক্রিয়াও লক্ষ্য করার মত। এখনি গাছের পাতা মাটিতে পড়ে যাচ্ছে। আবার দিন ও রাতের তাপমাত্রা অনেক কমবেশী হওয়ায় দেখা দিয়েছে নানান রোগ। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুরা সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাষকষ্ট, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালমূখী হচ্ছে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক তৌহিদুল ইসলাম জানান, ৩/৪ দিন আগে এই মৌসূমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৮.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস। গতকাল শনিবার সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯.৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। আর বিকেল ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৮.২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। তিনি আরও বলেন, পুরো শীত নামার সময় এখনও আছে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে শীত বাড়তে পারে বলে তিনি জানিয়েছেন।
পঞ্চগড় পরিবেশ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও বোদা পাথরাজ কলেজের ভূগোল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আলতাফ হোসেন বলেন, ব্যাপকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ থেকে ষঢ় ঋতু হারিয়ে যেতে বসেছে। প্রকৃতি এখন আর তার নিয়ন্ত্রণে নেই। বর্ষায় বৃষ্টি নেই; শীতকালে শীত নেই। বর্তমানে এমন অবস্থাই বিরাজমান। সব কিছু যেন ওলট-পালট হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এমন অবস্থার জন্য প্রকৃতি নয়, মানুষই দায়ী। বাংলাদেশ এর জন্য দায়ী না হলেও এর পুরো প্রভাব পড়ছে। এখনি বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃস্বরণ কমাতে না পারলে অদুর ভবিষ্যতে প্রকৃতি তার ভারসাম্য হারিয়ে ফেলবে। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পেতে আগামী এক দশকের মধ্যে প্রকৃতি থেকে ষঢ় ঋতুর নামটিও এক সময় হারিয়ে যাবে।

সামসউদ্দীন চৌধুরী /এবিএস

Comments are closed.