rockland bd

টিকিটের জন্য হাহাকার, হতাশা

0

বাংলাটুডে রিপোর্ট :

কমলাপুর রেলস্টেশনে ঈদের আগাম টিকেট বিক্রি শুরু হয়েছে। যাত্রীদের চাহিদার তুলনায় টিকেটের সংখ্যা কম। ফলে টিকেট না পেয়ে অনেকেই হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। আবার কেউবা আগের লাইন ছেড়ে টিকেট পাওয়ার আশায় ভিড় জমাচ্ছেন নতুন কোনো লাইনে।

আবদুল কুদ্দুস রাত ৮টায় মিরপুর থেকে এসে দাঁড়িয়েছেন কমলাপুর রেল স্টেশনে। চাকরি করেন একটি ল্যান্ড কোম্পানিতে। ২৭ রোজায় অফিস ছুটি হবে তার। বাসায় নিজের বউ বাচ্চারা ছাড়াও বাবা-মা, ভাই-ভাবি ও ভাতিজি রয়েছেন। গত কোরবানির ঈদে বাসায় গিয়েছিলেন আর এবার ঈদে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন।

নির্ধারিত দিনে বাসের টিকেট না পেয়ে ট্রেনের টিকেট পাওয়ার আশায় স্টেশনে এসেছেন। কিন্তু আশায় গুড়েবালি তার। স্টেশনে সেহরি খাওয়া আর নির্ঘুম রাত কাটানোর পর ১টা পর্যন্ত মেলেনি কাঙ্ক্ষিত টিকেট। তবুও আশা নিয়েই কিছুক্ষণ পরপর সামান্য একটু এগিয়ে যাচ্ছেন কাউন্টারের দিকে।

হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘শুনতেছি টিকেট নাকি নাই, টিকেট না পেলে বাড়ি যাব কেমনে? বাসের টিকেটও পাইনি, ট্রেনের টিকেট না পেলে বাসায় কী করে যাব বুঝতে পারছি না।’

আবদুল কুদ্দুসের মতো রংপুরের ওয়াসিম আকরামও লাইনে দাঁড়িয়েছেন রাত ৯টায়। তিনিও ট্রেনের টিকেট লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।

নীলফামারী যাবেন সরোয়ার রহমান। একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন। গতকাল অফিস শেষ করে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। অফিসে পাঞ্চ না করলে দিনের বেতনের অর্ধেক কাটা যাবে তাই তিনি একজনকে বলে গিয়ে পাঞ্চ করে এসে আবার লাইনে দাঁড়িয়েছেন। টিকেট তার খুবই দরকার। মাকে কথা দিয়েছেন তিনি বাড়িতে যাবেন বলে।

রাজশাহীগামী পদ্মা এক্সপ্রেসের টিকেট কাটতে এসেছেন আনিসুর রহমান। একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন তিনি। তার ছুটি হবে ২৭ রোজায়। বাড়ি চাপাইনবাবগঞ্জে। স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে নিয়ে বাড়িতে ঈদ করতে যাবেন তিনি। গতকাল সন্ধ্যায় লাইনে দাঁড়ানোর পরও টিকেট মিলবে কি না সন্দেহ করছেন। একদিকে ঘুম অন্যদিকে ক্লান্তি শরীরকে দমিয়ে রেখেছে। তাই প্লাটফর্মে বসে চিন্তায় মশগুল তিনি।

সিরাজগঞ্জ যাবেন যোবায়ের হাসান। তিনি গতকাল ( ৪ জুন) লাইনে দাঁড়িয়েছেন দুপুর ১২টায়। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় এসে ঈদ স্পেশাল ট্রেনের কাঙিক্ষত টিকেট পেয়েছেন। চোখে মুখে ক্লান্তি আর ঘুমের আবছায়া থাকলেও টিকেট পাওয়ার আনন্দে যেন কিছুটা হাস্যোজ্জ্বল ভাব এসেছে।

তিনি বলেন, ‘টোকেন নিয়ে লাইনে দাঁড়ালেও নিরাপত্তাকর্মীরা বেশ কয়েকবার নতুন করে টোকেন দিয়েছে আর পিছিয়ে দিয়েছে। না হলে আরও আগে টিকেট পেতাম।’

কমলাপুর রেলওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘টিকেট কালোবাজারি ঠেকাতে পুলিশ পোশাকে ও সাদা পোশাকে কাজ করছে। এখন পর্যন্ত এ রকম কাউকে পাওয়া যায়নি।’

কমলাপুর স্টেশন মাস্টার সিতাংশু চক্রবর্তী বলেন, ‘কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই ট্রেনের আগাম টিকেট বিক্রি হচ্ছে। কোনো অনিয়ম চোখে পড়েনি কিংবা কেউ অভিযোগও করেনি।’ শিডিউল ট্রেন ছাড়াও বিশেষ ট্রেন রয়েছে, সবাই বাড়িতে যেতে পারবেন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আজকে ২৭ হাজার ৪৬১টি টিকেট বিক্রি হবে। কিন্তু লাইনে দাঁড়িয়েছেন অন্তত ৫০ হাজারের মতো মানুষ। যা সক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ।’

ঈদের সময় প্রতিদিন সারাদেশে ২ লাখ ৬৫ হাজার যাত্রী পরিবহন করবে রেলওয়ে। এ জন্য ১৫০টি বাড়তি কোচ যোগ করা হচ্ছে। বাড়ানো হচ্ছে ইঞ্জিনের সংখ্যা। আর ঈদের চার দিন আগে থেকে ৭ জোড়া স্পেশাল ট্রেন চলাচল করবে। তা চলবে ঈদ পরবর্তী ৭ দিন পর্যন্ত। এসব বিশেষ ট্রেন ঢাকা থেকে দেওয়ানগঞ্জ, রাজশাহী, পার্বতীপুর এবং চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুর রুটে যাত্রী পরিবহন করবে। শোলাকিয়া ঈদগায় যাতায়াতের জন্য ঈদের দিন ভৈরববাজার থেকে কিশোরগঞ্জ এবং ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জ রুটে দুটি ট্রেন চালানো হবে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, রেলওয়ের কর্মকর্তাদের তদারকিতে ঢাকার কমলাপুর ও চট্টগ্রামে এই টিকেট বিক্রি হবে। একজন যাত্রী সর্বাধিক ৪টি টিকেট কিনতে পারবেন এবং বিক্রিত টিকেট ফেরত নেওয়া হবে না। কমলাপুরের ২৩টি কাউন্টার থেকে টিকেট বিক্রি হচ্ছে।
বাংলাটুডে/আরবি

Comments are closed.