rockland bd

নিয়ম ভঙ্গ করে বেনাপোল বন্দরে শিশু, রোগী ও প্রতিবন্ধীদের থেকে ফি আদায়

0

বৃহস্পতিবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:

ভারতগামী বাংলাদেশি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, শিশু (৫ বছরের নিচে), পঙ্গু, ক্যান্সার রোগী ও প্রতিবন্ধী পাসপোর্টযাত্রীদের কাছ থেকে জোর করে বন্দর টার্মিনাল ফি আদায় করা হচ্ছে। যাত্রীদের অভিযোগ, টার্মিনাল শুরু হওয়ার পর থেকে ভারতগামী এসব যাত্রীদের কাছ থেকে ফি আদায়ের নিয়ম ছিল না। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে নিয়ম ভঙ্গ করে ওইসব যাত্রীদের কাছ থেকেও বন্দর টার্মিনাল ফি অদায় করা হচ্ছে। ফলে পাসপোর্ট যাত্রীরা এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) পদে প্রদোষ কান্তি দাস সদ্য যোগদান করেন। তিনি যোগদানের পরই যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, শিশু, রোগী ও প্রতিবন্ধীদের কাছ থেকেও বন্দর ফি আদায়ের নির্দেশনা জারি করেন।
সরেজমিনে বেনাপোল বন্দরের প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে স্থাপিত সোনালী ব্যাংক বুথে সব ধরনের যাত্রী প্রতি ৪১ টাকা থেকে ৪৫ টাকা হারে টার্মিনা ফি আদায় করতে দেখা যায়। অথচ শিশু, ক্যানসার রোগী, প্রতিবন্ধী, পঙ্গু ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ভারত ভ্রমণে বন্দরের ফি মওকুফ ছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভারতীয় যাত্রীরা যারা বাংলাদেশে আসেন ভারত সরকার তাদের কাছ থেকে ভ্রমণ করও আদায় করে না। কিন্তু বাংলাদেশিরা ভারতে যাওয়ার সময় বাংলাদেশ সরকার যাত্রী প্রতি ৫০০ টাকা ভ্রমণ কর ও বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষর টার্মিনাল ফি ৪০ দশমিক ৭০ টাকা হারে আদায় করছে। অবশ্য, পাঁচ বছরের নিচে শিশু, ক্যানসার আক্রান্ত রোগী, পঙ্গু, প্রতিবন্ধী ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের বাংলাদেশ সরকার ভ্রমণ কর ও বন্দর ফি মওকুফ করলেও বর্তমানে বন্দর কর্তৃপক্ষ নতুন করে বন্দর কর বাধ্যতামূলক করেছেন।
বেনাপোল চেকপোস্ট আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে অবস্থিত সোনালী ব্যাংকের বুথ কর্মকর্তা নূরুল ইসলাম বলেন, সাধারণ যাত্রীদের কাছ থেকে ভ্রমণ কর বাবদ মোট ৫০০ টাকা ও বন্দর টার্মিনাল ফি বাবদ ৪১ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। তবে প্রথম থেকেই ৫ বছরের নিচে শিশু, ক্যান্সার রোগী, পঙ্গু, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধী পাসপোর্ট যাত্রীদের ক্ষেত্রে ভ্রমণ কর মওকুফ ছিল। চলতি সপ্তাহে বন্দর কর্তৃপক্ষ এসব যাত্রীদের কাছ থেকে টার্মিনাল ফি ৪০ দশমিক ৭০ টাকা হারে আদায়ের নির্দেশনা দেন। তাই এসব যাত্রীদের কাছ থেকেও তারা বন্দর ফি আদায় করছেন। এদিকে যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আড়াই বছরের মতো চালু হয়েছে প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল। সেখানে কেবল টয়লেট সুবিধা ছাড়া প্রতিশ্রুতিকৃত কোনো সেবায় চালু করতে পারেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ। অথচ টার্মিনাল ফি বেড়েই চলেছে। ভারতে চিকিৎসার উদ্দেশে বেনাপোল বন্দরে আসা ক্যান্সার ও প্রতিবন্ধী যাত্রীরা বলেন, এর আগে তারা যখন ভারতে গেছেন তাদের কাছ থেকে টার্মিনাল ফি ও বিদেশ ভ্রমন কর দিতে হয়নি। কিন্তু এখন বন্দর কর্তৃপক্ষ তা আদায় করছেন। বিষয়টি বন্দর কর্তৃপক্ষকে পুনরায় বিবেচনা করার আহ্বান জানান ক্যান্সার রোগী, পঙ্গু, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও প্রতিবন্ধী পাসপোর্টধারী যাত্রীরা। খুলনা থেকে আসা রেশমা বেগম একজন ক্যান্সার রোগী। তিনি বলেন, চিকিৎসার জন্য আমার সহায়সম্বল সব শেষ। এখন লোকের কাছ থেকে হাত পেতে যা পাই তাই নিয়ে ভারত যাই। দীর্ঘ ৫ বছর যাচ্ছি ভারতে চিকিৎসার জন্য। ভ্রমণকরসহ কোনো খরচ আমরা দেই না। আজ হঠাৎ বন্দরের গেটে দাঁড়ানো আনসার সদস্য বন্দর টার্মিনাল ফি ছাড়া আমাকে ভেতরে ঢুকতে দিলেন না। পরিশেষে ৪৫ টাকা দিয়ে বন্দর কর কেটে ভারত যাচ্ছি। এদিকে বন্দরের টার্মিনাল ফি যাত্রী প্রতি ৪০ দশমিক ৭০ টাকা এবং বাংলাদেশ সরকারের ভ্রমণ কর ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা থাকলেও টার্মিনাল ফি বাবদ জোর করে অতিরিক্ত ৪৫ টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট ট্যাক্স ছাড়াও বাড়তি আদায় হচ্ছে প্রায় ৮ লাখ টাকা। এ অর্থ ব্যাংক ও বন্দরের কিছু অসাধু ব্যাক্তির পকেটে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বেনাপোল বন্দর পরিচালক (ট্রাফিক) প্রদোষ কান্তি দাস জানান, বাংলাদেশ স্থলবন্দর চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তীর সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এই টার্মিনাল ফী নতুন করে চালু করা হযেছে। এখন থেকে সব ধরনের যাত্রীদের টার্মিনাল ফি বাবদ ৪০ দশমিক ৭০ টাকা হারে পরিশোধ করতে হবে।-ইউএনবি

এবিএস

Comments are closed.