rockland bd

‘দ. এশিয়ার উন্নয়নে নতুন আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে হবে’

0

ফাইল ফটো

নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:
পৃথিবীর প্রায় একচতুর্থাংশ মানুষের বাস দক্ষিণ এশিয়ায়। এ অঞ্চলে দারিদ্র, ক্ষুধা ও অপুষ্টির প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। দারিদ্র বিমোচনে রয়েছে বিদ্যুত, জ্বালানী, দক্ষ মাসবসম্পদ আর অবকাঠামোর অভাব। এ অবস্থায় দক্ষিণ এশিয়াকে বাদ দিয়ে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জণ সম্ভব নয়।
এসডিজির লক্ষ্য পূরণে সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তিখাত ও বেসরকারি উন্নয়ন সস্থার ভূমিকা রয়েছে। বিভিন্ন দাতা সংস্থার পাশাপাশি এসডিজি অর্জণে আঞ্চলিক সহায়তার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্তমান বাস্তবতায় দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সংস্থা সার্ক খুব বেশি কার্যকর হচ্ছে না।
এ অবস্থায় দক্ষিণ এশিয়ার উন্নয়নে নতুন আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) আয়োজনে এক সেমিনারে এ সব বিষয় উঠে এসেছে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে দক্ষিণ এশিয়ায় এসডিজি : নতুন কাঠামোর সন্ধানে শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারের উদ্বোধন করা হয়েছে। দুই দিনের সেমিনারের উদ্বোধনীতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উগদেষ্টা ড. গওহর রিজভী।
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইউএস-এসক্যাপের দক্ষিণ এশিয়া পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের প্রধান ড. নগেশ কুমার, জার্মানভিত্তিক সংস্থা ফ্রিডরিক এবার্ট স্টিফটুং (এফইএস) বাংলাদেশ অফিসের আবাসিক প্রতিনিধি টিনা ব্লম।
এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গওহর রিজভী বলেন, সব পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় কয়ে সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ করার সামর্থ্য ও ইচ্ছার উপর এসডিজির প্রতিটি লক্ষ্য অর্জণ নির্ভর করে। একক কোনো সংস্থা বা মন্ত্রণালয়ের কাজে লক্ষ্য পূরণ হবে না। সবগুলো মন্ত্রণালয়কে সম্মিলিতভাবেই কাজ করতে হবে। এ লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশের বিদ্যুত ও জ¦ালানী খাতে চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দক্ষ মানব সম্পদেরও অভাব রয়েছে।
তিনি বলেন, সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অর্জণে বাংলাদেশ সফল হয়েছিল। সময়ের ব্যবধানে এসডিজির চ্যালেঞ্জ তুলনামূলক বেশি। লক্ষ্যপূরণও বেশ কঠিন হবে।

# এশিয়াতে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা অন্যান্য এলাকার চাইতে বেশি
# নীতিনির্ধারকদের নতুন কর্মপন্থার অনুসন্ধান করতে হবে
# বাংলাদেশের বিদ্যুত ও জ্বালানী খাতে চ্যালেঞ্জ রয়েছে

এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ ও সচেতনতা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রানমন্ত্রী এসডিজি’র লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছেন। বর্তমান সরকার সব সময় আঞ্চলিক সহযোগিতা সর্বাধিক গুরুতত্ব দিয়েছে। এসডিজি অর্জনে সার্কের বিকল্প হিসেবে কার্যকর কিছু গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
মূল প্রবন্ধে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এসডিজি লক্ষ্যে দারিদ্র্য দূরীকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের বিষয়ে বলা সম্ভাবনা কাজে লাগেতে এই মুহূর্তে আঞ্চলিক কাঠামোর উন্নতি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, সার্ক কার্যকর না হওয়ায় জনপ্রত্যাশার সঙ্গে আমাদের আঞ্চলিক কাঠামোর পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে। এই পার্থক্য দূর করার জন্য হয়তো নতুন ধরনের পদ্ধতি এবং নতুন ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রয়োজন পড়বে। সেই কাঠামো জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে। এমনকি রাজনীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় বর্তমাণে ১৮৪ কোটি মানুষের বাস। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২৪ দশমিক ৪৬ শতাংশই থাকেন এ অঞ্চলে। এখানে জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার ও দরিদ্র মানুষের সংখ্যা অন্যান্য এলাকার চাইতে বেশি। এ অঞ্চলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হারও উন্নয়নশীল অন্যান্য দেশের উপরে। তবে বিশ্বের মোট রফতানি আয়ের মাত্র ৪ দশমিক ০৭ ভাগ আসে দক্ষিণ এশিয়ায়। অবশ্য ভারতকে বাদ দিলে এর হার এক শতাংশের নিচে নেমে আসে।
এ বিষয়ে দেবপ্রিয় বলেন, বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে আমাদের সামনের দিকে এগুতে হবে। আর তার জন্য নতুন জ্ঞানের দরকার, নতুন বিশ্লেষণের দরকার। নতুন জ্ঞান এবং বিশ্লেষন নিয়ে নীতিনির্ধারকদের নতুন কর্মপন্থার অনুসন্ধান করতে হবে। এটা করতে না পারলে বৈশ্বিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে আঞ্চলিক সহযোগিতার বাড়তি সুযোগ হারাতে হবে। এর ফলে এ অঞ্চলের জনগণ ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলেও তিনি মনে করেন।
ড. নাগেশ কুমার বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় দরিদ্র, ক্ষুধা ও অপুষ্টির প্রকোপ রয়েছে। এ অঞ্চলকে বাদ দিয়ে এসডিজি অর্জণ সম্ভব নয়। দক্ষিণ এশিয়াকে এগিয়ে নিতে হলে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহায়তায় গুরুত্ব বাড়াতে হবে। এক্ষত্রে এ অঞ্চলের দেশগুলোর সরকারের ভূমিকাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
এ লক্ষ্যে ব্যক্তিখাতকেও এগিয়ে আসতে হবে। বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি বহুজাতিক সংস্থাগুলোরও গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। অর্থনীতিতে এগিয়ে নিতে ব্যপক হারে মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টির তাগিদ দেন তিনি।

আব্দুল্লাহ আল মামুন/আর এইচ

Comments are closed.