rockland bd

প্রসঙ্গ: বিএনপি কার্যালয়ের ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন

0

আলী সরকার:
দেশে নির্বাচনী হাওয়া বেশ পুরাদমেই চলছে। সকল রাজনৈতিক দল, জোট, ফ্রন্ট একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনমুখী হয়েছে। নির্বাচনের আর মাত্র আছে কয়েক সপ্তাহ বাকি।
এই নির্বাচন গেলবারের মতই একতরফা হবে বলে অনেকেই এতদিন আশঙ্কা করছিলেন। কারণ, দেশের প্রধান দুই দলের অনুসৃত চরম বৈরিতার নীতি। দুটি বড় দলের মধ্যে কোন আলাপ-আলোচনার সংস্কৃতি নাই। ক্ষমতায় একবার বসতে পারলে তা প্রচলিত বৈধ উপায়ে ছাড়ার মানসিকতাও নাই।
সে কারণে এই সেদিন পর্যন্ত লোকজন ‌ভোটের মত ভোট হবে বলে বিশ্বাসও করতে পারছিলেন না। কিন্তু সহসা সংবিধান প্রণেতা প্রবীণ রাজনীতিবিদ ডঃ কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে একটি জোট গঠন করার পরই দেশের রাজনীতির আকাশে বিদ্যমান কালো মেঘ যেন কাটতে শুরু করে।
বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্না, ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরির মত নেতা ও স্বনামখ্যাত ব্যক্তি জাতীয় ফ্রন্টে শামিল হওয়ায় মানুষ মনে করছেন, যাই হোক এবার আর ১৪ সালের মত নির্বাচন করা সম্ভব হবে না।
ঢাকা এখন সরগরম দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা নানা দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ভিড়ে। এইসব সুষ্ঠু রাজনৈতিক তৎপরতা দেখে আমরা সাধারণ মানুষও আনন্দিত। দলীয় অফিসে অফিসে চলছে হবু প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার।
কিন্তু হঠাৎই এই সুবাতসে যেন একটা ছেদ পড়ল গতকালের একটা খবরে। দেশের প্রায় সকল প্রধান গণমাধ্যমের খবর, গুলশানের বিএনপির কার্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে । ফলে দলটির লন্ডন প্রবাসী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে দলীয় প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিতে পারছেন না।
মনে করা হচ্ছে সরকারি ইঙ্গিতে এমনটা করা হয়েছে। যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে সেটা আমাদের তথা শান্তিপ্রিয় কারো কাছেই সমর্থনযোগ্য নয়।
দেশবাসীর মনে আছে ২০১৩-১৪ সালে বিএনপির আন্দোলনের সময় কিভাবে দলীয় চেয়ারপাসেনের এই কার্যালয়টি বালুর ট্রাক দিয়ে কার্যতঃ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কিভাবে দলটির নয়া পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বার বার পুলিশী অভিযান হয়েছিল।
সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কোন প্রকার বাধা-বিঘ্ন ও হস্তক্ষেপ ছাড়া সকল দলের নির্বচনী কর্মকান্ড চালানোর সুযোগ না থাকলে তা হবে সকল দলের সমান সুযোগ পাওয়ার নীতির বরখেলাফ। এই বরখেলাফ দেশবাসী চায় না।
সরকারকে মনে রাখতে হবে যে, নির্বাচনের আগে প্রথামাফিক সংসদ ভেঙ্গে না দেওয়ায় ১০ম জাতীয় সংসদদের সকল সদস্য এখনও সংসদ সদস্য হিসাবে বহাল রয়েছেন। মন্ত্রীসভার সদস্যরাও স্ব স্ব পদে বহল রয়েছেন। এই অবস্থা মেনে নিয়েই সকল বিরোধীদল ও ফ্রন্ট নির্বাচনে এসেছে এই বিশ্বাসে যে ক্ষমতাসীনদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।
এ ক্ষেত্রে সরকারের দায়িত্ব অনেক। তাকে বিশ্বাস ও আস্থার সাথে এই দায়িত্ব পালন করতে হবে।

বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর

Comments are closed.