rockland bd

মাইকিং করে ৮ পরিবারকে একঘরে

0

মাইকিং করে ৮ পরিবারকে একঘরে

নাটোর প্রতিনিধি
মঙ্গলবার, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর:
চলনবিল অধ্যুষিত নাটোরের সিংড়ার দুর্গম আগতিরাইল গ্রামে বাদীর সাথে আপোষ করায় একটি হত্যা মামলার আসামী তিন পরিবার সহ ৮ পরিবারকে এক ঘরে করে রাখা হয়েছে। ওই পরিবারগুলোর প্রায় ৫শ’ বিঘা জমির ধান কাটতেও দিচ্ছে না একই মামলার অপর আসামীরা।

তাদের হুমকির মুখে একঘরে করে রাখা তিন পরিবারের পুরুষ সদস্যরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এব্যাপারে থানায় অভিযোগ করেও প্রতিকার মিলছেনা বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২২ আগস্ট সিংড়া উপজেলার ইটালী ইউনিয়নের দুর্গম আগতিরাইল পশ্চিম পাড়া গ্রামের আব্দুল হান্নানকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহত হান্নানের ভাই আকরাম আলী বাদি হয়ে ১৮জনকে আসামী করে সিংড়া থানায় মামলা করেন। মামলায় আগতিরাইল পূর্ব পাড়া গ্রামের মাহাতাব উদ্দিন মাস্টার ও তার ছেলে মজনু এবং ভাতিজা ভট্টু সরদারকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়।

মামলার স্বাক্ষী করা হয় আইয়ুব আলী সহ আগতিরাইল গ্রামের আরোও পাঁচ পরিবারের সদস্যদের। মামলা বিচারাধীন অবস্থায় সম্প্রতি মামলার তিন আসামী মাহাতাব উদ্দিন মাস্টার ও তার ছেলে মজনু এবং ভাতিজা ভট্টু সরদার বাদীর সাথে আপোষ করে মামলার স্বাক্ষী দেওয়ার জন্য বাদীর কাছে অঙ্গিকার করে। এতে অন্য আসামীরা ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে। তারা ওই তিন আসামী সহ স্বাক্ষী অপর পাঁচজনকে এক ঘরে করে রাখার ঘোষনা দিয়ে জমির ধান কাটতে বাধা দিচ্ছে।

মাহতাব মাষ্টার ও বাদী আকরাম আলী অভিযোগ করে বলেন, মসজিদের মাইকে মাইকিং করে তাদের এক ঘরে করে রাখার ঘোষনা দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর ওই আট জনের বাড়িতে কেউ যেন কাজ না করে ও কোন প্রকার সম্পর্ক না রাখে সে জন্য চলতি বছরের ১৮ অক্টোবর বিকেলে পূর্বপাড়া মসজিদের মাইকে ঘোষনা দেওয়া হয়। তারা আরও অভিযোগ করেন, মসজিদের মাইকে মাইকিং করে ঘোষনা দেওয়ার পর থেকে এক ঘরে করে রাখা পরিবারের আত্মীয়-স্বজনকেও গ্রামের রাস্তা দিয়ে হাটতে দেওয়া হচ্ছেনা।

এদিকে জমির ধান কাটতে না পারায় অনেক ধান মাটির সাথে মিশে গেছে। ধানগুলো খাওয়ানো হচ্ছে গবাদি পশু ও হাঁস দিয়ে। হুমকির মুখে মাহাতাব উদ্দিন মাস্টার ও তার ছেলে মজনু, ভাতিজা ভট্টু সরদার এবং স্বাক্ষী আইয়ুব আলী সহ অন্যন্য স্বাক্ষীরা গ্রাম থেকে পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। এসব পরিবারে মহিলা ছাড়া আর কোন সদস্য নেই ।

ভুক্তভোগী আইয়ুব আলী সরদার অভিযোগ করেন, গত ৩০ অক্টোবর সিংড়া থানায় জিডি করলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি পুলিশ। তারা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তবে অভিযুক্ত কথিত ১৫ আসামী অভিযোগকে মিথ্যাচার দাবী করে বলেছেন, রাস্তা দিয়ে হাঁটতে না দেওয়া বা হুমকির দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়।

মামলার কথিত আসামী অইয়ুব আলী, জহুরুল ইসলাম ও ইসমাইল হোসেন বলেন, মামলায় গ্রামের নিরীহ ও গরীব মানুষদের আসামী করা হয়। অথচ যাদের জন্য গ্রামে বিরোধ লেগেই থাকে তারা নিজেরাই মিমাংশা করে নিয়ে অন্যদের হয়রানি করতে শুরু করেছে। মামলার বাদী ও প্রধান বিবাদী আপোষ মিমাংসা করে নিলে আমরাও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সহ বিশিষ্টজনদের মাধ্যমে মিমাংশার প্রস্তাব দেওয়া হয়। সাড়ে ২২ লাখ টাকার রফাও হয়।

কিন্তু বাদি হঠাৎ করে মিমাংশা করতে অস্বীকার করলে গ্রামের সকলেই বিষয়টি বিচেনার জন্য আবারও তাদের প্রস্তাব দিলে তারা রাজি হলেও কালক্ষেপন করতে থাকে। তাদের টালবাহানা বুঝতে পেরে গ্রামবাসী বিষয়টি মিমাংশা না হওয়া পর্যন্ত প্রথমে তাদের ধান কাটতে নিষেধ করা হলেও পরে ধান কেটে নিতে বলা হয়। কিন্তু তারা অর্থশালী হওয়ায় ধান না কেটে মিথ্যা প্রচারনা চালিয়ে আমাদের হয়রানি করে চলেছেন।

এ ব্যাপারে সিংড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মীর আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা সহ গ্রামের একঘরে পরিবারগুলোর নিরাপত্তা দানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তারা যেন নির্বিঘ্নে ধান কাটতে পারে সে ব্যাপাারে সহযোগিতা করা হবে।

এম.এম আরিফুল ইসলাম/আর বি

Comments are closed.