rockland bd

বাংলাদেশে আসছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস

0

বিবিসি বাংলা ৩১ জানুয়ারি ২০১৭
আগামীকাল বুধবার তিন দিনের এক সফরে বাংলাদেশে আসছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। ১৯৯৭ সালে প্রয়াত ফিলিস্তিনি নেতা ইয়াসির আরাফাতের সফরের পর এটিই ফিলিস্তিনি কোন প্রেসিডেন্টের আনুষ্ঠানিক বাংলাদেশ সফর।
বহু বছর ধরে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সংগ্রামে সমর্থন দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। এতদিন ধরে দু’দেশের সম্পর্ক পুরোটাই শুধু এই বিষয়টিকেই ঘিরে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্কের দিকে এগুতে চায়। কিন্তু তা কতোটা সম্ভব?
বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত ইউসেফ এস ওয়াই রামাদান বললেন, বাংলাদেশ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে যে ধরনের সমর্থন ও সহায়তা দিয়েছে তাতে তারা কৃতজ্ঞ।
তিনি বলছেন, বাংলাদেশ ও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ককে আরো কিভাবে বিস্তৃত করা যায় সেটিই হবে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সফরের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, “আমরা এই সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক বিষয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে আরো বিস্তৃত করার চেষ্টা করছি। বাংলাদেশ আমাদের সবসময়ই অনেক সহায়তা দিয়েছে এবং এখনো দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আমাদের যা দিয়েছে আমরা তার প্রতিদানে কিছু দিতে চাই।”
তিনি বলছেন, বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্কের দিকে এগুতে চায় ফিলিস্তিনি।
কিন্তু ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের যে ইমেজ চোখে ভাসে তা হলো একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রাম, রাজপথে ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি তরুণদের লড়াই আর বিধ্বস্ত বাড়িঘর।
ফিলিস্তিনের প্রতিটা সীমান্তই ইসরায়েল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সেখানে নেই কোন বিমানবন্দর বা সমুদ্রবন্দর। নিজেদের সকল আমদানি রপ্তানিও চলে পুরোটাই ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণেই। সেই প্রেক্ষিতে ফিলিস্তিন-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিস্তৃতি কিভাবে সম্ভব?
“যেমন ধরুন ফিলিস্তিনি অনেক ব্যবসায়ী ও কোম্পানি আছে যারা বড় বড় ব্রিজ বা রাস্তাঘাট নির্মাণ করে, তেল বা গ্যাস প্ল্যান্ট পরিচালনা ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় দিয়ে থাকে, কৃষিতে আমরা প্রযুক্তির দিক থেকে ভালোই এগিয়ে, ফিলিস্তিনি অনেক কোম্পানি ইত্যাদি নানাবিধ কাজ করে। আমরা তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যাপারে উৎসাহিত করতে চাই,” বলেন বাংলাদেশে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত।
যে ধরনের বিনিয়োগের কথা বলছেন মি রামাদান তার কতটা সক্ষমতা তার আছে? জিজ্ঞেস করেছিলাম অর্থনীতির অধ্যাপক এম এম আকাশের কাছে।
তিনি বলছেন, “প্যালেস্টাইন তো খুবই ক্ষুদ্র একটি জায়গা এবং ক্ষুদ্র একটা অর্থনীতি। তাদের পুঁজির অভাব আছে। দুপক্ষেরই লাভ হবে এমন সুযোগ আছে কিনা সেটি তাদের প্রেসিডেন্টের সফরের পর বোঝা যাবে।”
তিনি বলেন, তবে একটা সম্ভাবনা আছে। যেমন ফিলিস্তিন থেকে হয়তো সুযোগ নাই কিন্তু ধনী ফিলিস্তিনিরা যারা দেশের বাইরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন তারা হয়তো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চাইতে পারেন।”
ফিলিস্তিনের মোট এক কোটি তিরিশ লাখ জনগোষ্ঠীর অর্ধেকই পৃথিবীর নানা দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। যাদের তৈরি করা অনেক কোম্পানি এমনকি পশ্চিমা বিশ্বেও প্রভাবশালী।
রাষ্ট্রদূত রামাদান বলছেন, “ফিলিস্তিনের ভেতরে যে জনগণ থাকে তাদের তাদের কোনই সামর্থ্য নেই। বাংলাদেশ থেকে ফিলিস্তিন এখন অনেক পোশাক নিচ্ছে। এখন বাংলাদেশের সাথে যে ব্যবসা হবে সেটি এই দেশের বাইরের জনগোষ্ঠীর সাথেই হবে। তারা ইউরোপের অনেক অনেক কোম্পানি পরিচালনা করেন।”
তবে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত নাসিম ফেরদৌস মনে করেন, অর্থনৈতিক দিক থেকে বাংলাদেশকে দেবার মতো তেমন কিছু নেই ফিলিস্তিনের। বরং সেখানকার জনগোষ্ঠীই ব্যাপকভাবে অন্যদের সহায়তার উপর নির্ভরশীল।
তার মতে যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর বিশ্বে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট যেভাবে পরিবর্তন হয়েছে, তাতে নতুন করে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের পক্ষে আরো সমর্থন জড়ো করাই এই সফরে প্রাধান্য পাবে।
তিনি বলেছেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সেখানে যে নীতির পরিবর্তন হচ্ছে তাতে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের ব্যাপারে তাদের ভূমিকা কি হবে, সেনিয়ে জাতিসংঘে প্রস্তাব উঠলে তাতে সমর্থন দরকার হতে পারে। একটা ভোটের ব্যবধানেও অনেক কিছু হতে পারে।”
বিশ্বের সবচাইতে বড় শরণার্থী জনগোষ্ঠীই হলো ফিলিস্তিনি। তাদের জন্য রাজনৈতিক সমর্থন অথবা বিনিয়োগ, বাণিজ্যের প্রসার, যে বিষয়েই আগামী তিন দিন আলাপ হোক না কেন সেটি মূলত চিন্তার আদান প্রদানেই আপাতত সীমাবদ্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রদূত।

Comments are closed.