rockland bd

ভৈরবে মডেল যুবক যুবতী আটক

0

এম.আর রুবেল, ভৈরব প্রতিনিধি :

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বসবাস করার অভিযোগে শর্টফিল্মের দুই মডেল যুবক যুবতীকে আটক করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শহরের নিউ টাউন এলাকার একটি বাসা থেকে ভৈরব থানার এসআই রাসেল মিয়া তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

আটককৃত রুমানা ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বাহাদুরপুরের রমজান মিয়ার মেয়ে এবং নাহিদ চৌধুরী নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার বাঁশগাড়ির সাখাওয়াত হোসেনের ছেলে। তারা দুজনে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে নিউ টাউন এলাকার হাবিবুল মিয়ার বাসায় ১ বছর ধরে ভাড়া থাকতেন। দুই মডেল আটকের খবর মুহুর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি উৎসুক মানুষজনের কাছে টক অব দ্যা টাউন-এ পরিনত হয়।

এসআই রাসেল মিয়া জানান, মডেল রুমানা ইসলামের অভিযোগের ভিত্তিতে নিউ টাউনের একটি বাসা থেকে তাদের দুজনকেই আটক করা হয়। দুপক্ষের অভিভাবকগণ গতকাল সকালে থানায় এসে তাদের অপকর্মের কথা শুনে তাদেরকে নিয়ে যেতে দুপক্ষই অস্বীকৃতি জানালে পুলিশ দুপুরে অসামাজিক কর্যাকলাপে আটক দেখিয়ে রুমানা ও নাহিদকে কোর্টে প্রেরণ করেন।
জানাগেছে, ভৈরবে গত কয়েক বছর ধরে নাটক ও সর্টফিল্মের আড়ালে কতিপয় মডেলদের এধরণের অনৈতিক কাজের ঘটনা আরো বহুবার ঘটেছে। নাটক ও শর্টফিল্ম তৈরির নামে কথিপয় মডেল নারীরা ভৈরবের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে দেহ ব্যবসা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। উঠতি বয়সের মডেলরা বাড়তি রোজগারের আশায় একাধিক পুরুষের শয্যা সঙ্গী হচ্ছে। বৈধ স্বামী-স্ত্রী না হয়েও বেশিরভাগই মডেলরাই ভৈরবের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে কৌশলগত কারণে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে শর্টফিল্ম নির্মাণ করেন একটি চক্র তাদের নানা অপকর্ম আড়াল করতে কৌশলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজনকে তাদের নাটক ও শর্টফিল্মে অভিনয়ে সম্পৃক্ত করছেন। তাদের প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তারাদেরও শর্টফিল্মের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাচ্ছে। ফলে চক্রটি র্নিভয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে গেলেও কেউ কথা বলার সাহস পাচ্ছেনা। মডেল রুমানা ও নাহিদ আটকের পর শর্টফিল্ম ও নাটকে তাদের অভিনয় করার অন্তরালে এসব অপকর্মের ঘটনায় বিভিন্ন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ভৈরবের সচেতন মহলের মাঝে।

বর্তমানে তথাকথিত মডেলদের নিয়ে বিভিন্ন অশ্লীল ও নিম্নমানের মিউজিক ভিডিও, শর্ট ফিল্মে তৈরিতে ব্যস্ত কিছু নির্মাতাগণ। নামসর্বস্ব পরিচালকদের দিয়েই মূলত নির্মাণ করা হয় এসব শর্ট ফিল্ম ও মিউজিক ভিডিও। কোনো ধরনের মাননিয়ন্ত্রণ ছাড়াই এসব ভিডিও নির্মাণ হওয়ায় প্রভাব পড়ছে দেশীয় সংস্কৃতিতে। ইচ্ছে হলেই শুধুমাত্র দুই চারজন বন্ধু মিলে একটি ক্যামরা দিয়ে অশ্লীল ভিডিও তৈরির ধুম পড়ে। জানাযায়, এসকল ভিডিও বাজারে ছাড়ার উদ্দেশ্যে তৈরি হয়না, শুধুমাত্র তাদের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে পোষ্ট করা হয়ে থাকে। টাকা খরচ করে শর্টফিল্ম তৈরি করার মুল উদ্দেশ্যই নাকি দেহ ব্যবসার মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা রোজগার করার। মডেলদের নোংরা এসব কর্মকান্ডের ফলে সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে স্বনামধন্য ও প্রতিষ্ঠিত মডেলদের এবং পরকীয়ার মত জঘন্য ঘটনা দিনদিন বেড়েই চলছে।
বাংলাটুডে/আর বি

Comments are closed.