rockland bd

সবজির বস্তায় কারাগারে মাদক পাঠাতেন জেলার সোহেল রানা

0

সবজির বস্তায় কারাগারে মাদক পাঠাতেন চট্টগ্রাম কারাগারের জেলার সোহেল রানা

ভৈরব প্রতিনিধি, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর-
বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে ফেন্সিডিল, নগদ অর্ধকোটি টাকা ও বিভিন্ন ব্যাংকের চেক-এফডিআরসহ আটক হওয়া চট্টগ্রাম কারাগারের জেলার সোহেল রানা বিশ্বাস রিমান্ডে ভৈরব রেলওয়ে পুলিশকে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে।
গত ৩০ ও ৩১ অক্টোবর রিমান্ড শেষে ভৈরব রেলওয়ে ওসি মো: আব্দুল মজিদ বৃহস্পতিবার সকালে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।
ওসি জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সোহেল রানা বিশ্বাসকে ২দিনের রিমান্ডে আনা হয়।
জেলার সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দিতে তাঁর বিভিন্ন অপকর্মের কথা স্বীকার করেছেন। সে নিজে একজন মাদকসেবী। কারাগারের অধিকাংশ দায়িত্বপ্রাপ্তরাও মাদক সেবনে জড়িত রয়েছে।
জেলার সোহেল রানার সাথে কয়েদী, কারারক্ষীসহ কারাগারের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ঠিকাদারদের খাদ্য সরবরাহ পিকাপ ভ্যানে পেঁয়াজ, রসুন ও সবজির বস্তার ভিতরে করে বন্দীদের কাছে ফেন্সিডিল, ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন ধরণের মাদকদ্রব্য পৌঁছার পর কয়েদীদের মাধ্যমে বন্দীদের কাছে বিক্রি করা হতো।
মাদক বিক্রির টাকা মাস শেষে স্টাফসহ কারাগারের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে বন্টন করত। জেলারের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত টাকা মাসিক বন্টন শেষে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিল সে। কোটি কোটি টাকা প্রতিমাসে বন্দিদের কাছ থেকে এবং মাদক বিক্রির মাধ্যমে অবৈধ উপার্জন করা হতো।
এছাড়াও বন্দীদেরকে জিম্মি করে কাশিমপুর কারাগারে পাঠানোর হুমকি দিয়ে টাকা সংগ্রহ করতো জেলার। কারা অভ্যন্তরে বন্দিরা টাকা দিলে বিনাশ্রম কারাদন্ড হয়ে যেত সশ্রম ও টাকা না দিলে সশ্রম কারাদন্ড হয়ে যেত বিনাশ্রম কারাদন্ড।
অন্যদিকে বন্দীদের যারা টাকা দিত তাদেরকে রাতে রাখা হতো হাসপাতালের বেডে। টাকা না দিলে ১শ থেকে দেড়শ বন্দীকে একসাথে রাখা হতো ১২ ফুটের একটি কক্ষে।
অভিযুক্ত জেলারের ভাষায় সেটাকে বলা হতো ‘ইলিশ বেড’।
জেলার পুলিশকে আরো জানিয়েছেন, আগামী ৯ নভেম্বর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে কারারক্ষী পদে নিয়োগ বাণিজ্যের কথা। ওই নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে কোথা থেকে কিভাবে টাকা আসবে সে তথ্যও দেয়।
কারাগারে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িতদের অনেকের নামও প্রকাশসহ আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ওই নাম গুলো পুলিশ আপাতত প্রকাশ করতে পারছেনা বলে জানান ওসি।
উল্লেখ্য, ওই ঘটনায় ভৈরব রেলওয়ে থানার এসআই আশরাফ উদ্দিন ভূঁইয়া বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য ও মানিলন্ডারিং আইনে মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলা দুটির মধ্যে মানিলন্ডারিং আইনের মামলাটি তদন্ত করবে দুদক এবং অপর মাদক আইনের মামলাটির তদন্ত করছেন রেলওয়ে পুলিশ।
তদন্তের প্রয়োজনে রেলওয়ে পুলিশ বিজ্ঞ আদালতে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে কিশোরগঞ্জ বিচারিক আদালত-২ এর হাকিম ইকবাল মাহমুদ ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এম.আর রুবেল/আর এইচ

Comments are closed.