rockland bd

সরকার ও ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ সফল হোক

0

মোহাম্মদ আলী সরকার-
এখন দেশবাসীর পুরা মনোযোগ আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারী বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিতব্য ডঃ কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সংলাপ।
বহুদিন ধরেই চরম বৈরিতা, অবিশ্বাস ও হানাহানির রাজনীতির যে ধারা দেশের মানুষ দেখে আসছেন তা থেকে বের হয়ে আসার প্রবল আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন দেশবাসী দেখতে চান এই সংলাপে।
২০১৪ সালের সাধারণ নির্বচানের পর থেকেই দুই একটি দেশ ছাড়া প্রায় সব দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশে সকল দলের অংশগ্রহণমূলক একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন।
দেশবাসী আশা, আগামীকালের সংলাপে যেন তার প্রতিফলন ঘটে।
দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় আনার লক্ষ্যে জনাব কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জোট যে ৭টি দাবি পেশ করেছেন সেগুলি বিবেচনায় আনা হবে বলে আমরা আশা করি। নির্বাচনকালীন সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, খালেদা জিয়াসহ রাজ বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার যে দাবি সেগুলির বাস্তবায়ন দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আমরা আশা করি।
মনে রাখতে হবে সংবিধানের যে সব সংশোধনী নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ নির্বাচনের পথে বাধা হতে পারে প্রয়োজনে সেগুলি সংশোধন করতে হবে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন, পথ বের করা যাবে। দরকার শুধু সদিচ্ছার।
এই সদিচ্ছার অভাবে আমরা দেখেছি নিকট অতীতে কীভাবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংলাপ ব্যর্থ হয়েছে।
কমনওয়েলথ-এর মহাসচিব ও অষ্ট্রেলিয়ার সাবেক গভর্নর জেনারেল স্যার নিনিয়ান রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে এক এক করে ৩৯দিন আলোচনা করেও দুই পক্ষকে একমত করাতে পারেন নি। সেটার পুনরাবৃত্তি আমরা দেখতে চাই না। শেখ হাসিনার সরকার এবার সংলাপের ডাকে যে ভাবে সাড়া দিয়েছেন তাতে মানুষ আশাবাদী হয়ে পড়েছেন।
সরকার ছাড় দিতে রাজি হয়েছেন বলে শুনেছি। আমরা আশা করব জনমত এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পরামর্শের আলোকে কালকের সংলাপ ফলপ্রসূ হবে।
শুধু সংবিধানের দোহাই দিয়ে দেশকে আরো অনিশ্চয়তা ও সংঘাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে জাতির জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক ও ক্ষতিকর।

সম্পাদক, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর

Comments are closed.