rockland bd

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মন্দিরে হামলায় আ.লীগ নেতাদের উস্কানির ভিডিও ফুটেজ হাতে হাতে

0

ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাংলাটুডে২৪ রিপোর্ট :
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মন্দিরে ভাঙচুর ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বসতিতে হামলার ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ইন্ধন দেওয়ার প্রমান মিলেছে। ঐ হামলার ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের উস্কানি দেয়ার ভিডিও ফুটেজ স্থানীয় লোকজনের হাতে হাতে পাওয়া যাচ্ছে।
এ ঘটনার কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্তে একাধিক তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি বেসরকারী টেলিভিশনকে বলেন, ঘটনার সাথে কারা জড়িত? কেন এ ধরনের ঘটনা ঘটল? কাদের কর্তব্যে অবহেলার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে? তা তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশের গাফলতি রয়েছে কি না। এসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তদন্তে প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রসরাজ দাস নামের নাসিরনগরের এক যুবকের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ধর্মীয় অবমাননাকর ছবি আপলোড করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠলে রবিবার স্থানীয় কয়েকটি সংগঠন প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। এর একটিতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিছিলসহ যোগদান করে এবং সুরুজ আলী নামের এক নেতা উত্তেজনাকর বক্তব্য দেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছে। চাপরতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. সুরুজ আলী মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও হামলায় ইন্ধনের অভিযোগ নাকচ করেছেন। তবে হামলার আগে তার দেয়া উস্কানিমূলক বক্তব্যের ভিডিও এখন স্থানীয়দের হাতে হাতে পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমি শুধু ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে রসরাজের ফাঁসি দাবি করেছি। বক্তব্যে কোনো ধরনের উসকানিমূলক কথা ছিল না।’ খাঁটি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের উপজেলা কমিটির প্রচার সম্পাদক মুফতি ইসহাক আল হোসাইন জানান, আওয়ামী লীগ নেতা সুরুজ আলী তাঁদের সমাবেশে বক্তব্য দেন। তিনি কী বলেছেন তা বক্তব্যের রেকর্ড শুনলে বোঝা যাবে। তবে এ সমাবেশ থেকে কেউ হামলায় অংশ নেয়নি বলে দাবি করেন আহলে সুন্নাত নেতা। নাসিরনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ টি এম মনিরুজ্জামান সরকার বলেন, ‘সুরুজ আলী কোনো সমাবেশে বক্তব্য রেখেছেন কি না, মিছিল নিয়ে গিয়েছেন কি না, তা জানা নেই। তবে একটি সমাবেশ থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালানোর জন্য লোকজনকে ছুটে যেতে দেখেছি।’ ওদিকে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে মোট ১৪টি মন্দিরে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। নাসিরনগর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমেদ জানান, এলাকার পরিস্থিতি এখন শান্ত। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।
আপাতত মন্দিরগুলোকে কিছু আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘তদন্ত শুরু হয়েছে। আমরা নেপথ্যের লোকজন ও উসকানিদাতাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছি। হামলার ঘটনায় আরো একজনকে আটক করা হয়েছে।’ সূত্র: সময় টিভি

Comments are closed.