rockland bd

জনমত জরিপে হিলারিকে ছাড়িয়ে গেছেন ট্রাম্প

0

বিবিসি, এএফপি, সিএনএন, রয়টার্স । বাংলাটুডে২৪ ডেস্ক :
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী দৌড়ের শুরু থেকেই জনসমর্থনে ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন অনেক এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু ভোটের মাত্র ছয় দিন আগে হঠাৎ করেই প্রথমবারের মতো তাকে ছাড়িয়ে গেছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এবিসি নিউজ ও ওয়াশিংটন পোস্টের যৌথ জরিপে দেখা গেছে, হিলারির চেয়ে ১ পয়েন্ট এগিয়ে গেছেন ট্রাম্প। সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের সমর্থন ৪৬ শতাংশ আর হিলারির সমর্থন ৪৫ শতাংশ।
ই-মেইল বিতর্ক নিয়ে হিলারির বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে, শুক্রবার মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের প্রধান জেমস কোমি এ ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই নির্বাচনের রং বদলাতে শুরু করেছে। শুক্রবারের পর থেকে প্রায় সব জরিপেই হিলারির জনমত আগের চেয়ে অনেক কমে যাওয়ার আভাস মিলছে।
সর্বশেষ জরিপে টেলিফোনে তথ্য সংগ্রহ করা হয় ২৭ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময় টেলিফোন ও মোবাইল ফোনে প্রাপ্তবয়স্ক এক হাজার ৭৭৩ জন ভোটারের মতামত নেওয়া হয়। এর আগে রবিবার এই প্রতিষ্ঠান দুটির যৌথ জরিপে হিলারির চেয়ে ১ পয়েন্ট পিছিয়ে ছিলেন ট্রাম্প।
তবে বিবিসির জরিপে হিলারি ৪৯ শতাংশ এবং ট্রাম্প ৪৬ শতাংশ মানুষের সমর্থন পেয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। আর এক সপ্তাহ আগেও হিলারির চেয়ে ১২ পয়েন্ট পিছিয়ে ছিলেন ট্রাম্প।
৮ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগে ই-মেইল বিতর্কের পুরো বিষয়টিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে প্রমাণের চেষ্টা চালাচ্ছে হিলারি শিবির।
তারা বলছে, ভোটের আগ মুহূর্তে এফবিআইপ্রধান এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে আইন ভেঙেছেন। তবে ট্রাম্প শিবির এফবিআইয়ের এ উদ্যোগকে ‘সৎ ও সাহসিকতা’র উল্লেখ করে এর প্রশংসা করছে।
ই-মেইল বিতর্কের বিষয়ে হিলারি নিজেকে শুরু থেকেই ‘নির্দোষ’ দাবি করে এলেও ট্রাম্প বলেছেন, হিলারির মতো ‘অপরাধী’ প্রেসিডেন্ট হলে সাংবিধানিক সংকট ঘিরে ধরবে যুক্তরাষ্ট্রকে।
২০১৫ সালে প্রথম হিলারির ব্যক্তিগত সার্ভারে ই-মেইল চালাচালির বিষয়টি ফাঁস হয়। অভিযোগ ওঠে, হিলারি তার ব্যক্তিগত সার্ভার থেকে ৩৩ হাজার ই-মেইল মুছে ফেলেছেন।
বিষয়টি নিয়ে এফবিআই দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত জুলাই মাসে জানায়, এসব ই-মেইলে গুরুতর কিছু পাওয়া যায়নি। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর পর থেকেই এই বিষয়কে হিলারির বিরুদ্ধে একটি বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাম্প।
জবাবে হিলারি বলে আসছিলেন, এফবিআই তো তদন্ত করে জানিয়েই দিয়েছে গুরুতর কিছু পাওয়া যায়নি।
কিন্তু এফবিআই বিষয়টি নতুন করে তদন্তের ঘোষণা দেওয়ায় শেষ বেলায় কিছুটা বেকায়দায় পড়েছেন হিলারি। বিপরীতে নির্বাচনী দৌড় শুরুর পর থেকেই ট্যাক্স ফাঁকি, অভিবাসী ও মুসলিমদের নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য, যৌন হয়রানির একের পর এক অভিযোগ ও টেলিভিশনে তিনটি প্রেসিডেনশিয়াল বিতর্কে হিলারির কাছে বিধ্বস্ত হওয়া ট্রাম্প যেন হঠাৎ করেই প্রাণ ফিরে পেলেন।
মিশিগানে প্রচারসভায় ট্রাম্প বলেন, হিলারির ই-ইমেইলে এফবিআই বড় ধরনের অনিয়মের সন্ধান পেয়ে থাকতে পারে। মার্কিন জনগণের নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে রাষ্ট্রীয় গোপন ই-মেইল তিনি নিজের ব্যক্তিগত সার্ভারে চালাচালি করেছেন। এ কেলেঙ্কারির জন্য তাঁকে ফৌজদারি বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। পুলিশ তদন্তে থাকা অবস্থায় তাঁকে প্রেসিডেন্ট করা হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক হবে। এটি সাংবিধানিক সংকট তৈরি করবে। তিনি যত দিন ক্ষমতায় থাকবেন তার পুরোটা সময় তাঁর ই-মেইল তদন্ত ছায়া ফেলবে প্রশাসনে। হিলারি বারবার আইন ভেঙেছেন বলেও ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন।

Comments are closed.