rockland bd

২৮ হাজার বছরেও ‘অক্ষত’ সিংহশাবক!

0

২৮ হাজার বছর আগে সাইবেরিয়ায় মারা যাওয়ার পর বরফে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল একটি সিংহশাবকের মৃতদেহ। সম্প্রতি প্রায় অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে এর ফসিল। (ছবি: ইন্টারনেট থেকে।)

বিটি২৪ ডেস্ক

প্রাগৈতিহাসিক যুগের একটি সিংহ শাবকের দেহাবশেষ আবিষ্কার করেছেন জীবাশ্ম নিয়ে গবেষণাকারী বিজ্ঞানীরা। অবাক করা তথ্য হচ্ছে, পাওয়া যাওয়া প্রাণীটির মৃতদেহ ২৮ হাজার বছর আগের আর এটির পায়ের নখগুলি এখনও ধারালো রয়েছে। সম্প্রতি সাইবেরিয়া অঞ্চলে বরফস্তূপের নিচে এই  সিংহশাবকের জীবাশ্ম পাওয়া যায়।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বরফে আচ্ছাদিত সাইবেরিয়ার আর্কটিক অঞ্চলে পাওয়া এই সিংহশাবকটির মৃতদেহ এখনও এতটাই স্পষ্ট যে দেখে মনে হচ্ছিল এটি এখনও ঘুমিয়ে আছে। জীবাশ্ম পরীক্ষার পর বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রাণীটির ২৮ হাজার বছর আগে মৃত্যু হয়েছে তবে বরফ ঢাকা অঞ্চল হওয়ায় এতদিনেও এর শরীরের তেমন কোনো বিকৃতি ঘটেনি!

ভারতীয় গণমাধ্যম জি নিউজ ওই বিজ্ঞানীদের বরাত দিয়ে এ বিষয়ে যে  প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তাতে বলা হয়েছে, ওই শাবকটি দীর্ঘসময় বরফের নিচে থাকায় এর সোনালি রঙের লোমে শুধু খানিকটা জট বেঁধে গিয়েছে। এটুকু বাদ দিলে শাবকটির দাঁত, ত্বক ও শরীরের ‘সফট টিস্যু’ এবং অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মমি হয়ে গেছে। এমনকি ২৮ হাজার বছর আগে শাবকটি মারা গেলেও তার নখগুলি এখনও ধারালো রয়েছে! বিজ্ঞানীরা এই সিংহ শাবকের জীবাশ্মের নাম দিয়েছেন ‘স্পার্টা’।

এর আগে একই এলাকায় আরেকটি প্রাগৈতিহাসিককালের সিংহ শাবকের জীবাশ্ম পেয়েছিলেন বিজ্ঞানীরা। তার নাম দেওয়া হয়েছিল বরিস। বরিসের দেহের অবশ্য কিছুটা ক্ষতি হয়েছিল। স্পার্টার মৃতদেহের থেকে এই দেহটির দূরত্ব ছিল ১৮ মিটার। প্রথমে মনে করা হয়েছিল, সিংহশাবক দুটি একই মা-সিংহের পেটে জন্মেছিল। তবে নতুন গবেষণা বলছে, দু’টি শাবকের বয়সের পার্থক্য ১৫ হাজার বছর!

সাইবেরিয়ান প্রজাতির এই সিংহের বাস ছিল পাহাড়ের গুহায়। সম্প্রতি রাশিয়ার ফার ইস্ট অঞ্চলে একটি নদীর পারে এই দু’টি সিংহশাবকের দেহের সন্ধান পান ম্যামথের দেহাবশেষ খুঁজতে থাকা এক দল গবেষক।

এই দুটি সিংহশাবককে নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন সুইডেনের স্টকহোমের প্যালিওজেনেটিকস সেন্টারের কয়েকজন অধ্যাপক। তাদের মতে, এখন পর্যন্ত বরফযুগের যেসব প্রাণীর মৃতদেহের সন্ধান পাওয়া গেছে, তার মধ্যে স্পার্টাকেই সবচেয়ে অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

/টিএন/

Comments are closed.