rockland bd

সাঘাটায় ভাঙ্গা বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে তলিয়ে গেল ২৪৬ একর ধানক্ষেত

0

সাঘাটা (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি-


বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়া প্রায় ৪০ মিটার বাঁধ পুনঃনির্মাণ না করায় যমুনা নদীর পানি ঢুকে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের ভাঙ্গামোড়, ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের গজারিয়া ও কাতলামারী গ্রামের ২৪৬ একর জমির ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে।

গত ১৩ দিন থেকে পানিতে নিমজ্জিত থাকার পর রবিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) থেকে পানি নামতে শুরু করলেও নিম্নাঞ্চলের জমির ধানগাছ নষ্ট হওয়ার আশংকা করছেন কৃষকরা। এদিকে বাঁধের ভাঙ্গা ওই অংশে একটি সুইসগেট নির্মাণের দাবি করেছেন গ্রামগুলোর ভুক্তভোগী কৃষকরা।

সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, সাঘাটা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, গত বছরের বন্যায় সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের ভাঙ্গামোড় গ্রামে ৪ বছরের বেশি সময় আগে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত প্রায় ৪০ মিটার বাঁধের একটি অংশ যমুনা নদীর পানির চাপে ভেঙ্গে যায়। এরপর সেই বাঁধটি আর পুনঃনির্মাণ করা হয়নি।

সেই বাঁধের ভাঙ্গা অংশ দিয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ভাঙ্গামোড়, গজারিয়া ও কাতলামারী গ্রামের ২৪৬ একর ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়। এরমধ্যে সাঘাটার অংশে ৭৪ একর ও ফুলছড়ির অংশে ১৭২ একর। প্রতি বিঘা জমিতে চাষ, ধানের চারা, নিড়ানী, সার ও কীটনাশকসহ সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা থেকে ছয় হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে।

বাঁধটি পুনঃনির্মাণে সাঘাটা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় থেকে একটি প্রকল্প পাঠানো হলেও সেটি পাশ না হওয়ায় কাজ করা সম্ভব হয়নি আজও। নদীতে আরও পানি বৃদ্ধি পেলে অপেক্ষাকৃত উঁচু অংশের আরও ৩০০ একরেরও বেশি ধানক্ষেত পানিতে তলিয়ে যেত বলে জানান স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চলতি আমন মৌসুমের ভাঙ্গামোড়, গজারিয়া ও কাতলামারী গ্রামের নিম্নাঞ্চলের ধান গাছগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অপেক্ষাকৃত অনেক উঁচু জমিগুলোতে পানি ওঠেনি। এসব এলাকায় আরও কয়েক’শ একর ধানের জমি রয়েছে।

ভরতখালী ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল আজাদ শীতল বলেন, ভাঙ্গা বাঁধটি থেকে উত্তরে নবাবগঞ্জ বাজার পর্যন্ত বাঁধটি স্থায়ীভাবে মেরামত করে মজবুত ও বাঁধের ভাঙ্গা অংশে এলজিইডির অধীনে একটি সুইসগেট নির্মাণ করা হবে। এজন্য আগামী মাসে একটি প্রতিনিধিদল বিষয়টি যাচাই করতে গাইবান্ধা আসবেন।

সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম মুবিনুজ্জামান চৌধুরী ও মো. আসাদুজ্জামান বলেন, নদী থেকে পানি ঢুকে ২৪৬ একর ধানক্ষেত তলিয়ে গেছে। এখন এসব জমি থেকে পানি নদীতে নেমে যাচ্ছে। তবে নিচু জমিগুলোর কিছু ধান গাছ নষ্ট হতে পারে। যা দু-একদিনের মধ্যে জানা যাবে। আমরা প্রতিদিন রিপোর্ট দিচ্ছি। ধানক্ষেত ক্ষতিগ্রস্থ হলে কৃষকদের সাহায্যে সহযোগিতা চাওয়া হবে।

বাংলাটুডে২৪/শাহজাহান সিরাজ/আর এইচ

Comments are closed.