rockland bd

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ হাট-বাজারের দখলে

0

 

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি :

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ হাট-বাজারের দখলে থাকায় ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা আর উদ্বিগ্ন অভিভাবকবৃন্দ। শিক্ষার পরিবেশ মারাত্বক ভাবে বিঘ্নিত হলেও কর্তৃপক্ষের নজরে আসছে না। সরকারী নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হাটের ইজারাদার প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলা কালিন হাটবাজার বসিয়ে অর্থ আয় করছে। এসব প্রতিরোধে সরকারী নীতিমালা থাকলেও তার কোনো বাস্তবায়ন দৃশ্যমান দেখছেনা ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবক। সপ্তাহে ২ থেকে ৩দিন হাট বসে এই মাঠ গুলোতে।

সরেজমিনে উপজেলা বিভিন্ন হাট বাজার ঘুরে দেখা গেছে কোথাও জোর করে এসব হাট-বাজার বসানো হয়েছে, অথবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে অবৈধভাবে ইজারা নিয়েছে। এতে যেমন বিঘ্নিত ঘটছে শিক্ষার পরিবেশ, তেমনি ভাবে দূষিত করছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ। এসব অনিয়ম দেখার দায়িত্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করছে। তাদের ভাব দেখে মনে হয় খাঁচায় বন্দি আফরিকার সিংহ। সরকার শিক্ষা খাতে সব্বোর্চ বরাদ্দ ও গুরুত্বদিয়ে কাজ করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে অর্থলোভী কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে হাট-বাজার বসিয়ে শিক্ষা ও শিক্ষার্থীর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। উপজেলার টেপামধুপুর ইউনিয়নে টেপামধুপুর মাদ্রাসা মাঠ, ভায়ার হাট মাদ্রসা মাঠ, চরমবাদিলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ, বুড়ির হাট ইসলামীয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, বালাপাড়া ইউনিয়নে মোফাজ্জল হোসেন মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে, কাউনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ, শহীদবাগ ইউনিয়নে শহীদবাগ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, ক‚র্শা ইউনিয়নে ধর্মেশ^র-মহেশা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ,কুটিরপার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ, হারাগাছ ইউনিয়নে ইমামগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজ মাঠ, নাজিরদহ একতা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ,হারাগাছ পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে গড়ে উঠছে গরু ছাগলসহ নানা রকম পন্যের হাট-বাজার। স্থানীয়রা জানায়, গবাদিপশু ব্যবসায়ীসহ নানা পণ্য বিক্রেতা স্কুল ছুটি না হতেই গরু ছাগল হাঁস মুরগী ধান গম ভুট্টা, পাট, বাঁশ,খড় ইত্যাদি নিয়ে এসব বিদ্যালয়ের মাঠে ঢুকে পড়েন। মাঠ ছাড়াও তারা ব্যবহার করছে বিদ্যালয়ের বারান্দা ও পিলার। ব্যবসায়ী কর্তৃক কোনো কোনো বিদ্যালয়ের রুম ভাড়া নিয়ে সেখানেই পণ্য ক্রয়-বিক্রয় এবং ট্রাকে বা পি-কাপ ভ্যানে লোড-আনলোড করছে। শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য ক্রীড়ার বিকল্প নেই কিন্তু উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো হাট-বাজারের দখলে থাকায় খেলা-ধুলা করতে পারছেনা কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এব্যাপারে মোফাজ্জল হোসেন মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব আলী জানান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আইনানুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হাট-বাজার বসার নিয়ম নাই। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। এতে কোন কাজ হয়নি। হাট বসার ফলে পাঠদানে বিঘœ ঘটছে তাই আমিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ রক্ষার্থে হাট-বাজার চাই না। এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জাকির হোসেন জানান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে হাট বাজার বসার বিষয়ে উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় বলেছি যেন বন্ধের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম নাজিয়া সুলতানা জানান উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় সকল চেয়ারম্যানকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে যেন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে হাট বাজার না বসে।

বাংলাটুডে/আর বি

Comments are closed.