rockland bd

শিক্ষার্থীর কাছে আতংকের নাম ফাহিমা রফিক আইডিয়াল স্কুল

0

আব্দুল ওয়াদুদ, শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রশাসনের নজর এড়িয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে কোচিং বানিজ্য। বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি কোচিং শিক্ষায় বাধ্যকর করা হচ্ছে কোমলমতি স্কুল শিক্ষার্থীদের। কোচিং না করলে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অনেকটাই বেত্রাঘাত করে চলেছে। ফলে নানা ভয়-শংকায় লেখাপড়ায় মনোনিবেশ নষ্টসহ চিত্ত বিনোদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। সাধারণ পাঠদানের পাশাপাশি কোচিংয়ে বাধ্য করতে বেত্রাঘাতের অভিযোগ উঠছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার গোপালপুরের ফাহিমা রফিক আইডিয়াল স্কুল এবং ইংলিশ লার্নিং সেন্টারের বিরুদ্ধে। এদিকে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সকল প্রকার কোচিং সেন্টার বন্ধ হলেও এ প্রতিষ্ঠানে কোচিং বন্ধ না হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সচেতনমহলে নানা প্রশ্লের উদয় হচ্ছে। অভিনব কায়দায় স্কুল চলাকালীন কোচিং বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে এই স্কুলটি।
নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি বাধ্যতামুলক কোচিং বানিজ্যের অভিযোগে সরেজমিনে গত বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে ফাহিমা রফিক আইডিয়াল স্কুল এবং ইংলিশ লার্নিং সেন্টারে গিয়ে জানা যায় নানা তথ্যচিত্র। ২০১৫ সালের প্রথমে ফাহিমা রফিক আইডিয়াল স্কুল এবং ইংলিশ লার্নিং সেন্টার গড়ে তোলে এলাকার কতিপয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ২ শতাধিক শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান চলতে থাকলেও উপজেলা প্রশাসন থেকে পাঠদানে অনুমোদন মেলে ২০১৭ সালে। ক্লাস ওয়ান থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পাঠদান শুরু হয়ে শেষ হয় বিকাল ৪টার দিকে। এদিকে একই প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক শাখার শিক্ষার্থীদের ক্লাস শেষ হয় বেলা ১২টার দিকে। অপরদিকে মাধ্যমিক শাখায় ৬ষ্ঠ শ্রেণী থেকে নবম ও দশম শ্রেণী পর্যন্ত বেলা ৪টা পর্যন্ত ক্লাস শেষ হয় । কিন্তু মাধ্যমিক শাখার ক্লাস চলাকালিন সময়ে বেলা ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের নিয়মিত কোচিং শিক্ষা চালায় ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শিক্ষক ও পরিচালকরা। ২০১৮ সালে ক্লাস নবম শ্রেণীর ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করলে এলাকার অভিভাগদের নিয়ে মিমাংসা করেন। এদিকে কোচিং ক্লাশে বাধ্যতামূলক উপস্থিত না হলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অনেক বেত্রাঘাতও সহ্য করতে হয়। এমন অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় অভিভারকরা তাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে নানা ভয়ের সঞ্চারসহ শারীরিক বিকাশ ও চিত্তবিনোদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মনে করছেন।
এ ব্যাপারে ফাহিমা রফিক আইডিয়াল স্কুল এবং ইংলিশ লার্নিং সেন্টারে অধ্যায়রত কোমলমতি শিক্ষার্থী আবির, রাজকুমার, শিনথিয়া, জোবায়েরসহ একাধিকরা অভিযোগ করে বলে ‘‘ আমাদের ক্লাস শেষ হয় বেলা প্রায় ১২টার দিকে, কিন্তু স্যারেরা কোচিং পড়ায় বেলা ২টা থেকে..। তবে কোচিং না করলে তাদেরকে বেত দিয়ে ৩টি করে পেটোন দেওয়া হয়। তাই তাদের মনের মধ্যে সব সময় ভয় কাজ করে, তাছাড়া খেলাধুলায় সুযোগতো পায়ই না। এছাড়াও সাংবাদিকদের কাছে বেত্রাঘাত ও কোচিং এর কথা অস্বীকার করতে নিষেধ করে দেয় কর্মরত শিক্ষকরা।
এ ব্যাপারে কয়েকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিভাবকরা বলেন, তাদের ছেলে-মেয়েদের সাধারণ পাঠদানের জন্য বিদ্যালয় নির্ধারিত বেতন দিলেও অতিরিক্ত কোচিং এর জন্য অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয়। তবে কোচিং এ উপস্থিত না হলে শিক্ষকদের বেত্রাঘাতের খবর আমাদের মনে শিশুর মানষিক ও শারীরিক বিকাশ নিয়ে নানা ভয়ের সৃষ্টি হচ্ছে।

এ বিষয়ে ফাহিমা রফিক আইডিয়াল স্কুল এবং ইংলিশ লার্নিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মো: ওমর ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে উনি অভিযোগ গুলো অস্বিকার করেন। এ প্রসঙ্গে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাইয়ুম বলেন, আমরা এ বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
তারা/৮/২/১৯

Comments are closed.