rockland bd

শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন বন্ধ প্রায় রাবি শিক্ষার্থী রুমকির

0

রিজভী আহমেদ, রাবি প্রতিনিধি

‘আমার মতো রুমকি যেন আর পৃথিবীতে না আসে‘ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রশাসনের নিকট বারবার আবেদন করে এভাবেই হতাশার কথা জানাচ্ছিলেন ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আরবি বিভাগের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী রাজিয়া সুলতানা রুমকি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় প্রশাসন ভবনের সামনে দেখা মিলে এই প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর।
তার আগে গত মঙ্গলবার রাবি শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এহসান মাহফুজ তার ফেইজবুক ওয়ালে উপাচার্য বরাবর মানবিক আবেদন জানিয়ে রুমকির জন্য সহায়তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য একটি পোস্ট আপলোড করেন। তারপর থেকেই এই শিক্ষার্থীর সমস্যাটি নজরে আসে।
ভবিষ্যতে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে রাবির আরবি বিভাগে ভর্তি হওয়া জন্ম থেকে প্রতিবন্ধী রুমকির বাড়ি রাজশাহীর পাঠানপাড়ায়। তার বাবা হাফিজুর রহমান পেশায় একজন ট্রাক চালক, মা নাজনীন বেগম ছাড়াও তার একটা ভাই রয়েছে। সে বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ ৪.৩৯ পেয়ে এসএসসি এবং রাজশাহী সরকারী কলেজ থেকে মানবিক বিভাগ থেকে ৪.০৮ পেয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। মেধা ও কঠোর পরিশ্রম আর মা নাজনীন বেগমের অধম্য চেষ্টায় সে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে রাবিতে প্রতিবন্ধী কোটায় আরবি বিভাগে ভর্তির সুযোগ পান। কিন্তু সকল তার শ্রম আর মায়ে চেষ্টা বৃথা হতে চলেছে যখন সে জানতে পারলো আরবি বিভাগের সকল ক্লাস নেওয়া হয় শহীদুল্লাহ কলা ভবনের তৃতীয় তলায়। কারণ রুমকির পক্ষে তৃতীয় তলায় উঠে ক্লাস করা আদৌ সম্ভব নয়।
রুমকি বলেন, শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে রাবিতে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু ক্লাসরুম তিনতলায় হওয়ায় আমার ক্লাস করা সম্ভব হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষও আমার জন্য কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
রুমকির মা জানান, আমার কষ্ট কষ্টই রয়ে গেল। প্রশাসনের কাছে ঘুরে ঘুরেও কোনো ব্যবস্থা হচ্ছে না আমার মেয়ের পড়াশুনার সুবিধার জন্য। কতৃপক্ষের নিকট কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এমতাবস্থায় যদি প্রশাসন কোনো সিদ্ধান্ত না নেয় তাহলে তো আমার মেয়ের লেখাপড়া থেমে যাবে।
আরবি বিভাগের সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আমাদের বিভাগে নিয়মিত ক্লাস না করলে টিকে থাকাও মুশকিল হয়ে পড়বে। বিশেষ করে আরবি ভাষা সাহিত্যের ক্লাস করতেই হবে। আবার তিন তলায় এসে এই প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর পক্ষে ক্লাস করাও সম্ভব না। এখন যদি উপাচার্য মহোদয় নিচতলায় যেসব বিভাগের ক্লাস হয় সেগুলোতে তাকে স্থানান্তর করার ব্যবস্থা করেন তবেই সমস্যাটির সমাধান হতে পারে।
সমস্যাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিনসের দ্বারস্থ হলে তিনিও আশাহুত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়ার কাছে শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি জানান, আরবি বিভাগের ক্লাসরুম নিচতলায় নিয়ে আসা সম্ভব নয় এবং এই প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে অন্য অনুষদে প্রেরণ করাও সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় তাকে তৃতীয় তলায় গিয়েই ক্লাস করতে হবে নয়তো এখানে পড়াশুনা বাদ দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। তারপরেও আমরা দেখি আর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারি কিনা।
ছাত্র উপদেষ্টা লায়লা আর্জুমান বানুও এমনটাই মনে করছেন বলে জানান তিনি।
রাকিব/০১/০২/২০১৯

Comments are closed.