rockland bd

ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর হস্তক্ষেপে ফসলী জমিতে বন্ধ হল পুকুর খনন

0

মো. আখলাকুজ্জামান, গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার পিপলা গ্রামের একটি কৃষিজমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন চলাকালে খননকারীদের কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিতে দেখা যায় সোহেল রানা নামের এক তরুন প্রজম্মের আওয়ামী লীগ কর্মিকে। তিনি নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের বারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মো. আব্দুল কুদ্দুসের ভাতিজা হন। আর তাঁর নেতৃত্বেই পুকুর খনন বন্ধ করেন সোহেল। ঘটনার সময় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় এই প্রতিবেদকের সাথে দেখা হলে নিজের মনের কথা জানাতে আগ্রহী হন তিনি।
জানা যায়, এলাকাবাসীর সমর্থন পেয়ে এবারের উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন সোহেল রানা। পদপ্রার্থী হিসেবে এলাকাবাসীর সাথে সাক্ষাৎকার, মতবিনিময়সহ গণসংযোগ করছেন। তিনি গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়নের চরবিলসা গ্রামের বাসিন্দা মো. আমীর সরদারের ছেলে। আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মি হিসেবে সোহেল রানা বলেন, উপজেলা নির্বাচনে গুরুদাসপুরের অনেক অযোগ্য ব্যক্তি প্রার্থী হয়েছেন। তারা দলের হয়ে বা নির্বাচনী মাঠে কাজ করেন না। আর আমরা ছোটবেলা থেকেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আদর্শের বীর মুক্তিযোদ্ধা গুরুদাসপুর ও বড়াইগ্রাম বাসীর উন্নয়নের প্রতিক অধ্যাপক মো. আব্দুল কুদ্দুস এমপির নির্দেশে আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মি হিসেবে মাঠে কাজ করছি। তিনি আরো বলেন- আমি আওয়ামী লীগের পরিবারের সন্তান। এমপি মহোদয় ছাড়াও তাঁর মেয়ে কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগ নেত্রী অ্যাড. কোহেলী কুদ্দুস মুক্তি আপা এবং আমার বড় ভাই খুবজীপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মনিরুল ইসলাম দোলনের সঙ্গে থেকে আওয়ামী লীগের সকল উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নিয়েছি।
নির্বাচন করার প্রসঙ্গে সোহেল রানা বলেন- আমি নির্বাচন করব। জনগণ ভোট দেবে এ ভরসা আমার আছে। ইউনিয়নবাসী পৌরসভার কোনো ক্যান্ডিডেটকে এখন আর ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি করতে চায় না। গুরুদাসপুরে এখন যেসব আওয়ামী লীগ নেতার পদ আছে তারা আব্দুল কুদ্দুস এমপির ছত্রছায় থেকেই পদ পেয়েছেন। কিন্তু যেসব ব্যক্তি পদধারী হওয়ার পর নিজের গুরুকে অপমান অবমাননা করে তারা আওয়ামী লীগের পদ পাওয়ার যোগ্যতাই রাখেনা।
এলাকার উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে সোহেল জানান, গুরুদাসপুর উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়েছি। এ পর্যন্ত খুবজীপুর ইউনিয়নের ছয়জন মাদক সম্রাট বিক্রেতা ও সেবনকারীকে ধরিয়ে দিয়েছি। এছাড়া চলনবিলের প্রাণকেন্দ্র গুরুদাসপুরের বিলসায় নির্মিত ‘মা জননী সেতু’ নির্মানের সময় এলাকাবাসীদের সাথে নিয়ে সর্বোচ্চ শ্রম দিয়ে সহযোগিতা করেছি। এ সেতুকে ঘিরেই আমাদের গুরুদাসপুরে বড় একটা পর্যটন কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শুক্রবার ও শনিবার নানা শ্রেণিপেশার হাজারো মানুষ সেখানে সময় কাটায়। আর চলনবিলের প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করে। আমি আশা করি, ভবিষ্যতে চলনবিলটা এক সময় জেলায় পরিণত হবে এবং দেশের একটি নামকরা পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।
মনের কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে এই ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বলেন- আমরা ইউনিয়ন পর্যায়ের লোকজন পৌরসভার নেতাকর্মিদের কাছে নির্যাতিত। তাদের কাছে আমাদের কোনো মূল্যায়ন নেই। কর্মিদের সাথে এ ধরণের ব্যবহার খুব দুঃখজনক। আগে কখনও ভাবিনি আমি নির্বাচন করবো। কিন্তু এসব দুঃখজনক কারণেই উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে নেমেছি।
তিনি আরো বলেন- আমি জনগণের সেবা ঠিক কতটুকু করতে পারবো তা জানিনা। তবে যারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী করবেন তাদের যে অধিকার এবং মূল্যায়ন আছে সেটা আমি জনগণের মাঝে বুঝিয়ে দেব। যখন যে অবস্থাতেই থাকিনা কেনো আমি মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াই।
উপজেলার পিপলা গ্রামের আসাদ আলী জানান, সোহেল রানার কোনো খারাপ দিক নেই। একজন নিরীহ গরীব মানুষ যার কেউ নেই তার সহযোগিতার জন্য হাত বাড়িয়ে দেয়। আমাদেরকে যতটুকু উপকার করা সম্ভব সোহেল ততটুকুই করে আসছে। অর্থ দিতে না পারলে মুখের কথা দিয়ে বা ফোন মাধ্যমে হলেও এলাকাবাসীর বিপদে পাশে থাকে। তাই এলাকাবাসীর সমর্থনে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন মো. সোহেল রানা।
অপর এক এলাকাবাসী মো. ফারুক জানান, সোহেল আমার চাচাতো ভাই। আমরা সবাই তাকে নিয়ে আশাবাদি। কখনো কারো কোনো অন্যায় করিনি। কেউ বলতে পারবে না যে এমপি সাহেবের ভাতিজারা কোনো খারাপ কাজ করেছে। জনগণ ভোট দেবে জেনেই সোহেল নির্বাচনী মাঠে নেমেছে।
রাকিব/০২.০২.২০১৯

Comments are closed.