rockland bd

বাবরসহ ১৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড, তারেক রহমানের যাবজ্জীবন

0

আদালত প্রতিবেদক, ঢাকা-


২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ মোট ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

আজ বুধবার (১০ অক্টোবর) সকালে ৩১ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। রাজধানীর পুরান ঢাকার পুরানো কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর স্থাপিত বিশেষ আদালতে উপস্থিত হন বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন। এছাড়া রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

ব্যাপক পুলিশি পাহারায় বুধবার সকাল ১২টা ০২ মিনিটে বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন নাজিমুদ্দিন রোডের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এ আদেশ দেন।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের আদেশ আজ হওয়ার কথা ছিলো। এ উপলক্ষে সকাল থেকে পুরান ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার ঘিরে কড়া নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে।

কারাগারের আশেপাশের এলাকা দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য কড়া নজরে রেখেছেন কারাগার প্রাঙ্গণ। আশপাশের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আশপাশের দোকানপাটও বন্ধ রাখা হয়েছে । তবে সাধারণ লোকজন যাতায়াত করতে পারলেও তাদের তল্লাশির মুখে পড়তে হচ্ছে।

এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর মামলার যুক্তিতর্ক ও শুনানি শেষে বিচারক রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন। ওই দিন রায়ের তারিখ ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষ সব আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি এবং আসামিদের পক্ষ থেকে বেকসুর খালাস দাবি করে।

মামলাটি প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষে ৫১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ২২৫ জনকে আদালতে উত্থাপন করা হয়। ২১ আগস্ট গেনেড হামলা মামলার মোট আসামি ছিলেন ৫২ জন। বিচারকালে আসামি জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহাম্মাদ মুজাহিদের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এবং ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর হামলার মামলায় হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান ও শরিফ শাহেদুল ইসলাম বিপুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় তাদের এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। বর্তমানে মামলা দু’টিতে মোট আসামির সংখ্যা ৪৯।

এ মামলায় জামিন বাতিল হওয়া আটজনসহ ৩১ আসামি কারাগারে আছেন, বাকি ১৮ জন পলাতক। এ মামলায় রায়ের দিন নির্ধারণ করার আগে জামিনে থাকা আট আসামির জামিন বাতিল করে কারাগারে আটক রাখার আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

এই মামলার কারাবন্দি ৩১ আসামিরা হলেন- স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, সামরিক গোয়েন্দা অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুর রহিম, পুলিশের সাবেক আইজি শহিদুল হক, খোদা বক্স ও আশরাফুল হুদা, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ভাগ্নে সাইফুল ইসলাম ডিউক, ঢাকা সিটি করপোরেশেনের সাবেক কাউন্সিলর আরিফুল ইসলাম আরিফ, সিআইডির সাবেক তিন কর্মকর্তার মুন্সী আতিকুর রহমান, আব্দুর রশীদ ও রুহুল আমিন, পাকিস্তানি নাগরিক আব্দুল মজিদ ওরফে ইউসুফ ভাট ওরফে আব্দুল মাজেদ ভাট, হরকাতুল জিহাদ ও অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের নেতা মাওলানা শেখ আব্দুস সালাম, মাওলানা শেখ ফরিদ, আব্দুল মালেক ওরফে গোলাম মোস্তফা ওরফে জিএম, মাওলানা আব্দুল হান্নান ওরফে সাব্বির, মাওলানা আব্দুর রউফ, হাফেজ মাওলানা ইয়াহিয়া, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডাক্তার আবু জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, শাহাদাত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, হোসাইন আহম্মেদ তামিম, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আব্দুর রাজ্জাক, রফিকুল ইসলাম সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামিম ওরফে রাশেদ, উজ্জ্বল ওরফে রতন ও আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার।

পলাতক হিসেবে দেখানো হয়েছে ১৮ জনকে। তারা হলেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপি নেতা কাজী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদ, সাবেক উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর ভাই মাওলানা তাজউদ্দিনসহ, মহিবুল মুত্তাকিন ওরফে মুত্তকিন, আনিসুল মুরছালিন ওরফে মুরছালিন, মো: খলিল, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মো: ইকবাল, লিটন ওরফে মাওলানা লিটন, সাবেক ডিসি পূর্ব মো: ওবায়দুর রহমান, সবেক ডিসি দক্ষিণ খান সাইদ হাসান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব:) সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার, মেজর জেনারেল (অব:) এ টি এম আমিন, হানিফ এন্টারপ্রাইজের মালিক মো: হানিফ, শফিকুর রহমান, আব্দুল হাই ও বাবু ওরফে বাতুল বাবু।

বাংলাটুডে২৪/আর এইচ

Comments are closed.