rockland bd

বাংলাদেশের স্থায়িত্ব ও সমৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সবার অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন : যুক্তরাষ্ট্র

0

ঢাকা, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকম
যুক্তরাষ্ট্র মনে করে বাংলাদেশের স্থায়িত্ব ও সমৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সবার অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন। যে নির্বাচনে জনমতের সত্যিকার প্রতিফলন ঘটবে। ঢাকা সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মুখ্য সহকারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিস ওয়েলস এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এ মনোভাবের কথা জানিয়েছেন।

তিনদিনের সফরের শেষদিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এলিস ওয়েলস বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি গতিশীল। আর তা দ্রুত বেড়ে চলেছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক কাঠামোগুলো জোরদার করা গেলে এদেশের ভবিষ্যত সাফল্যকে এগিয়ে নেবে। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারকে মৌলিক অধিকার, বিশেষ করে বাক্ ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং জনমতের প্রতিফলন ঘটে এমন অবাধ, বিশ্বাসযোগ্য এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে দেয়া অঙ্গীকার রক্ষা করার আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছে।

এলিস ওয়েলস বলেন, বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের কাছে যে বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন তার মর্মকথাই হচ্ছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এই মুহূর্তে তারা ড. কামাল হোসেনের জোটকে সমর্থন দিচ্ছেন কিনা? জবাবে এলিস বলেন, আমরা কোন ব্যক্তি বা জোটের সঙ্গে নই, আমরা চাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন। বিরোধী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব কিনা, এমন এক প্রশ্নের জবাবে এলিস ওয়েলস বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যারা জড়িত এবং সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যেন তারা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করে যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে এলিস ওয়েলস বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল, চীনকে কাউন্টার নয়; বরং এখানে চীনেরও ভূমিকা রয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কথাও জানান এলিস ওয়েলস। বলেন, সুশীল সমাজ এই আইন সম্পর্কে যে উদ্বেগ জানিয়েছে তা নিরসনে সরকারের উচিত তাদের সঙ্গে সংলাপে বসা। কারারুদ্ধ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফটোসাংবাদিক শহীদুল আলমের ব্যাপারে এলিস ওয়েলস বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সম্মানিত ব্যক্তি। দুনিয়াজুড়েই তার খ্যাতি আছে। যুক্তরাষ্ট্র আশা করে, তিনি যেন ন্যায়বিচার পান। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশে যারাই জেলে আছেন তারা যেন ন্যায়বিচার পান।

রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে এলিস ওয়েলস বলেন, তাদের নিজেদের শক্তি ও অদম্য চেতনা দেখে বিস্মিত হয়েছি। এই বেহাল অবস্থায়ও তারা নিজেদের আত্মপরিচয় ও ঐক্য ধরে রাখতে সচেষ্ট রয়েছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে সহায়তা করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছে ৩৪ কোটি মার্কিন ডলারের অর্থ সহায়তা। সফরের শেষভাগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে একান্ত বৈঠকের কথা রয়েছে।

আর এইচ

Comments are closed.