rockland bd

বরিশালে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চান ৫ আ. লীগ নেতা

0

শাহ্ মুহাম্মদ সুমন রশিদ, বরিশাল ব্যুরো
বরিশালে আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বরিশাল সদরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন আওয়ামী লীগ পদধারী বেশ কয়েকজন নেতা। গ্রিন সিগন্যাল পেতে তাঁরা দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার পাশাপাশি লবিং চালাচ্ছেন। প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু, জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোয়েজ্জেম হোসেন চুন্নু, বরিশাল সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনিরুল ইসলাম ছবি, মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য ভিপি আনোয়ার হোসাইন এবং মাহমুদুল হক খান মামুন। সূত্রমতে আওয়ামী লীগ সরকারের গত মেয়াদে নৌকার টিকিটে বরিশাল উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান হন সুন্দরবন নেভিগেশন কোম্পানির মালিক সাইদুর রহমান রিন্টু। বিগত সময়ে দলে তার পদপদবি ছিল না। কিন্তু সাবেক সিটি মেয়র প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা শওকত হোসেন হিরন ভূমিকা রাখায় নৌকা প্রতীক পেতে তেমন একটা বেগ পেতে হয়নি। পরবর্তীতে তিনি বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি সহ-সভাপতির পদে আসীন হন। এখানে এবার প্রার্থী হতে জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোয়েজ্জেম হোসেন চুন্নুও তৎপরতা চালাচ্ছেন। তিনি বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতৃত্বের সারিতে ছিলেন।মনিরুল ইসলাম ছবি তিনিও নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে চাইছেন। বরিশাল সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তিনি। সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নে একাধারে বেশ কয়েকবার নির্বাচিত চেয়াম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।বরিশাল প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে আরও রয়েছেন ভিপি আনোয়ার হোসাইন। তিনি বরিশাল মহানগর আ’লীগের সদস্য। একই উপজেলায় চেয়ারম্যান হতে আলোচনায় রয়েছেন আরেক নেতা বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগ সদস্য মাহমুদুল হক খান মামুন। এই নেতা ২০১৩ সালে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। তখন শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল। সেই নির্বাচনে নৌকা প্রার্থী সাবেক সিটি মেয়র শওকত হোসেন পরাজিত করে জয় পেয়েছিলেন বিএনপি প্রার্থী আহসান হাবিব কামাল। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে খান মামুন পেয়েছিলেন মাত্র ১ হাজার ৮০৭ ভোট।আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় একটি সূত্র জানিয়েছে- এই ৫ নেতা ইতিমধ্যে প্রার্থী হতে কেন্দ্রে আবেদন জমা দিয়েছেন। তাদের কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে আগামী ২ ফেব্রুয়ারির পরে কেন্দ্র মনোনয়ন চুড়ান্ত করবে।

ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ আ.লীগ নেতা
বরিশার সদর থেকে ভাইস চেয়ারম্যান পদেও প্রার্থিতায় দৌড়-ঝাপ শুরু করেছে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিশেষ করে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে হাইকমান্ডে লবিং তদ্বিরও শুরু করে দিয়েছে। এই তালিকায় বরিশাল আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত অন্তত ৬ নেতা রয়েছেন। যারা ইতিমধ্যে প্রার্থিতা করার বিষয়টি কেন্দ্র বা আওয়মী লীগের নীতি-নির্ধারনী ফোরামকে অবহিত করেছেন। তবে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আওয়মী লীগ নেতা শাহ নেওয়াজ শাহীন এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। এমনকি কেন্দ্রে আবেদনও করেননি তিনি। ফলে এই পদটিতে যারা অংশ নিতে চাইছেন তারা সকলেই নতুন মুখ। তাদের মধ্যে রয়েছেন, অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মধু। তিনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে পুরোপুরি সক্রিয়। এই নেতা সা¤প্রতিকালে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল সদর আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) জাহিদ ফারুক শামিমের পক্ষে ব্যপক ভূমিকা রাখেন। সেই নির্বাচনে বিপুল ভোটে প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিতের পর কর্নেল জাহিদকে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। শোনা যাচ্ছে,প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে দিক নির্দেশনা নিয়েই মাহাবুবুর রহমান মধু প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে নামতে যাচ্ছেন। অবশ্য তিনি নৌকা প্রতিকের মনোনয়ন চেয়ে হাইকমান্ডে আবেদনও রেখেছেন। বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য মাহাবুবুর রহমান মধু এই অঞ্চলের রাজনৈতিক অভিভাবক আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপির আস্থাভাজনও বটে। বিগত সময়ে এমপির অনুসারী হিসেবে পাশাপাশি থেকে সক্রিয় ছিলেন রাজপথে। এমনকি কারাবরণও করেন তিনি। ২০০২ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য। একই সময়ে বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ ছাত্র সংসদের (বাকসু) সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদকও ছিলেন। সেই সময় তিনি রাজপখে জামায়াত বিএনিপ জোট বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন অগ্রভাগে। এছাড়া ১৯৯২ সালে মাহাবুবুর রহমান মধু বরগুনা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।ফলে উপজেলা নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে তাকে নিয়ে বরিশালে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কমতি নেই। একই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে চাইছেন বরিশাল সদর থানা যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক জহিরুল ইসলাম শাহীন, চরবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম ওরফে ইতালি শহিদ। এই দুই নেতা পদধারী হলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের আনাগোনা একেবারে নেই বললেই চলে। তাছাড়া বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা শওকত হোসেন হিরনের অনুসারি হওয়ায় তারা রজনীতিতে কোনঠাসাও।এছাড়াও আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে একই পদে প্রার্থিতা চাইছেন বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ইমরান শহিদ চপল, সায়েস্তাাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মামুন ও সাংবাদিক গাজী শাহ রিয়াজ। যদিও তাদের নিয়ে তেমন একটা আলোচনা নেই বরিশালে। অবশ্য কেন্দ্রেও একই অবস্থা বিরাজমান বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে হাইকমান্ড এখন পর্যন্ত বরিশালের বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত দেয়নি। ফলে নৌকা প্রতীক নিয়ে বরিশাল সদরে নৌকা প্রতীক নিয়ে ভাইস চেয়ারম্যান পদে কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সেই বিষয়টি দেখতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
রাকিব/৩০/০১/২০১৯

Comments are closed.