rockland bd

পাথরে ফুল ফুটাচ্ছেন কৃষক, লবণাক্ত ভূমিতে টমেটো চাষ

0

খুলনা, ইউএনবি-



যখন বাতাসেও লবণ, লবণের তাণ্ডবে এলাকার মাইলের পর মাইল সবুজ নিশ্চিহ্ন প্রায়; তখনও উদ্যম হারায়নি লোনাজলে হাবুডুবু খাওয়া কৃষক। তাদের বুকে জমে থাকা স্বপ্ন- কি করে লবণকে জয় করে সবুজে সবুজে ঢেকে দেবে মাঠ।
অবশেষে স্বপ্ন সফল হলো, লবণাক্ততাকে জয় করে ফলাচ্ছে ফসল। দাকোপ উপজেলার লবণাক্ত ভূমিতে অসময়ে টমেটো চাষ করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন সেখানকার অনেক কৃষক।

মওসুম ছাড়াও সারাবছরই পাওয়া যায় বিভিন্ন শাক-সবজি। বর্তমানে প্রযুক্তি আর উন্নত জাত ব্যবহারের মাধ্যমে বিপ্লব ঘটিয়ে যাচ্ছে চাষীরা। তার মধ্যে টমেটো অন্যতম।
এক সময় শীত ছাড়া টমেটো দেখা যেতো না এ এলাকার বাজারে। কিন্তু এখন দর দামের একটু তারতম্য থাকলেও বছরজুড়েই বাজারে মিলছে টমেটো। লবণাক্ত এ উপজেলায় গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষাবাদের মাধ্যমে চাষিদের নতুন দিনের যাত্রা শুরু হয়েছে। মওসুম ছাড়া এ টমেটোর বাজার দর যেমন ভালো তেমনি ক্রেতাদের কাছে চাহিদাও রয়েছে যথেষ্ট। আর তাই টমেটো চাষে অধিক আগ্রহী হচ্ছেন এ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা।
উপজেলার দাকোপ ব্লকের সাহেবের আবাদ গ্রামের প্রবীর মল্লিক। মাত্র ১০ কাঠা জমিতে গত শনিবার পর্যন্ত দেড় লক্ষাধিক টাকার টমেটো বিক্রি করেছেন তিনি। আরও হাজার পঞ্চাশেক টাকার টমেটো বিক্রির আশা করছেন এ চাষী।

তিনি জানান, আশা করিনি এমন ফলনের। ভেবেছিলাম কৃষি অফিসার আমাকে দিয়ে পরীক্ষা করছেন। কিন্তু আজ আমি পাথরে ফুল ফোটানোর মতো লবণ মাটিতে টমেটো চাষ করছি। তাও আবার অসময়ে।

স্থানীয় কৃষকরা জানায়, এ পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করতে প্রথমে জমি তৈরি করে মাটির সঙ্গে প্রয়োজন মতো জৈব সার মিশিয়ে বেড তৈরি করতে হয়। এক বেড থেকে আরেক বেডের দূরত্ব ৩০ সেন্টিমিটার। এরপর জমিতে তৈরি করা সবকটি বেড পলিথিনের চাল/ছাউনি করে ঢেকে দিতে হবে। পলিথিনের নিচে যাতে বৃষ্টির পানি প্রবেশ করতে না পারে। বেডে চারা রোপণের জন্য ১৮ ইঞ্চি দূরত্ব রাখতে হবে। জমির পাশ থেকে নেট/জাল দিয়ে বেড়া দিতে হয়। যা রোগ-জীবাণু থেকেও গাছকে রক্ষা করে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মোছাদ্দেক হোসেন জানান, লবণাক্ত এলাকায় এনএটিপি-২ প্রকল্পের মাধ্যমে উচ্চমূল্যের ফসল সামার টমেটো বীজ সরবরাহ করি। অসময়ের টমেটোর বীজ দিয়েছিলাম উপজেলার চারজন কৃষককে। অসাধারণ ফল পেয়েছে তারা। সকলেই প্রায় কাছাকাছি টাকার টমেটো বিক্রি করেছে। আশা করছি এটি আগামীতে আরও বৃদ্ধি পাবে। এটি দাকোপের কৃষিতে একটি নতুন সংযোজন।

খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুল লতিফ জানান, দাকোপ উপজেলায় লবণাক্ত এলাকায় বেশ ভাল ফলন হয়েছে। সেখানকার কৃষকরা এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে লাভবান হচ্ছে। কৃষকরাতো ভাবতে পারেনি লবণাক্ত জায়গায় এমন আয় হবে। এতে কৃষকদের শ্রম, সময় ও অর্থ কম লাগছে। কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। আগামীতেও জেলার কৃষকদেরকে কৃষি অফিস থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

বাংলাটুডে২৪/এবিএস

Comments are closed.