rockland bd

নতুন বছরে রাখাইনরা ফিরতে শুরু করবেন: মায়ানমার

0

বিদেশ, বাংলাটুডে টোয়েন্টিফোর ডটকম


বাংলাদেশে অবস্থানরত রাখাইন শরণার্থীরা ফিরে এসে যাতে আশ্রয় নিতে পারেন সে জন্য মায়ানমার সরকার রাখাইন রাজ্যে ১৫০০ আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ কাজ শুরু করেছে এবং ৫ শতাধিক আশ্রয় নির্মানের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। রাখাইন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উ নিয়ু ফিয়িউ এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান। খবর মায়ানমার টাইমসের।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই সব আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের কাজ মায়ানমার কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য ও আঞ্চলিক সরকার, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, বেসরকারি সংস্থা এবং ভারত সরকার যৌথভাবে করছে। মায়ানমারের একটি মানবাধিকার ও পুনর্বাসন সংস্থা ইউএইচআরডি জানায়, আরো প্রায় ৮ শতাধিক আশ্রয় তৈরির কাজ চলছে এবং ভারত সরকার ২৫০টির নির্মানব্যয় বহন করবে। এই ২৫০টি নির্মিত হবে মংডুতে বলে জানান সংস্থাটির কর্মকর্তা উ নিয়ি পু।

মায়নমারে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে যে, ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ রাখাইন রাজ্যে জনগণের সামর্থ্যন বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে সহায়তা করার জন্য ভারত রাখাইন রাজ্য সরকারের সাথে দুটি চুক্তি স্বাক্ষর করছে।

এদিকে ইউএইচআরডি সংস্থার উপদেষ্টা উ তোয়ে আং জানান যে, মায়ানমার সরকার আশা করছেন বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় খুব শীঘ্রই বাংলাদেশে থেকে রাখাইন উদ্বাস্তুরা ফিরতে শুরু করবেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটা শুরু হবে।’

রাখইন উদ্বাস্তদের ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে মায়ানমার ও বাংলাদেশ গত বছরের নভেম্বর মাসে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। মায়ানমার সমাজ কল্যাণ দফতরের মহাপরিচালক উ কো কো নাঈং জানান, চলতি মাসের শেষ দিকে মায়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত যৌথ ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে প্রত্যাবাসনের তারিখ ঠিক করা হবে। উ কো কো নাঈং এই যৌথ কমিটির একজন সদস্য। তিনি আশা করেন, আগামী বছরের শুরুতে এই প্রত্যাবাসন শুরু হবে বলে আমরা আশা করছি।

মায়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী এবং দেশটির নিরাপত্তা উপদেষ্টা উ থং তুন জানান যে, উদ্বাস্তু রাখাইন মুসলমানদের পক্ষ থেকে রাখাইনে ফেরার কোন অনুরোধ তারা এখনও পান নি। প্রথম দফায় ৮ হাজার রাখাইন ফিরতে পারেন বলে বিভিন্ন খবরে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্ট মাসে মায়ানমার সেনাবাহিনী দমন অভিযান শুরু করলে উত্তর রাখাইন থেকে ৭ লাখেরও বেশী মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।

আলী সরকার

Comments are closed.